জমকালো রঙে সেলফিতে ভালো অপ্পো এফ৯, নেই ফোরকে ভিডিও

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কন্টেন্ট কাউন্সিলর : সেলফি নির্ভর অপ্পোর এফ সিরিজের ফোনগুলোর লক্ষ্য মাঝারি বাজেটের ক্রেতা। সে ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এসেছে ‘অপ্পো এফ৯’। এটি শুধুই সেলফি ফোন, নাকি পারফরমেন্সেও বাড়তি কিছু আছে- চলুন দেখা যাক।

ডিভাইসটিকে অপ্পো এফ৭ ফোনের আপডেট সংস্করণও বলা যায়। সেলফির পাশাপাশি এতে পারফরমেন্সের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। যদিও কাছাকাছি দামে অন্য ব্র্যান্ডের বেশ কিছু মডেলে কয়েকটি ফিচার বাড়তি মিলবে, যা এ ফোনে নেই।

ফোনটিতে আর কী আছে, কী নেই- সেটির বিস্তারিত থাকছে এ রিভিউতে।

এক নজরে অপ্পো এফ ৯ 

  • ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি, এলটিপিএস আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি৬০ অক্টাকোর প্রসেসর
  • মালি জি৭২ এমপি৩ জিপিউ
  • ৪ ও ৬ গিগাবাইট র‌্যাম সংস্করণ
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সংস্করণ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • কালার ওএস ৫.২
  • ১৬ ও ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়েল ব্যাক ক্যামেরা
  • ২৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • এফএম রেডিও, ইউএসবি ওটিজি
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • ৩৫০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন

আপনি যদি জমকালো রঙ পছন্দ করেন, তাহলে অপ্পো এফ ৯ প্রথম দেখায় ভালো লাগবে। যদিও প্রথমে ডিভাইসটির পেছনের অংশ দেখলে মনে হবে গ্লাস প্যানেল দেয়া রয়েছে। হাতে নিলে অবশ্য এ ভুল ভাঙবে।

পেছনে রয়েছে পলি কার্বনেট প্লাস্টিক প্যানেল; কিন্তু সেটির ফিনিশিং পুরোই কাঁচের মতো। 

গ্র্যাডিয়েন্ট কালার কম্বিনেশন থাকায় ডিভাইসটি একটু অ্যাঙ্গেল করলেই ডায়মন্ড আকৃতির মনে হবে। দিনের আলোতে বেশ চকচক করে পেছনের অংশটি।

ছবি: জিএসএমএরিনা

ছোট নচ যুক্ত ডিসপ্লে ডিভাইসটির ডিজাইনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

ফোনটির ডানে রয়েছে পাওয়ার বাটন। বামে ভলিউম আপ ও ডাউন বাটন, সিম ও মেমোরি কার্ড স্লট। পিছনে ডুয়েল ক্যামেরা। ক্যামেরার নিচে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

নিচের অংশে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক ও স্পিকার।

ডিসপ্লে

বড় আকৃতির নচ অনেকেই পছন্দ করেন না। তাই ডিভাইসটিতে ছোট আকারের নচ ডিসপ্লে যুক্ত করা হয়েছে। অপ্পো এ নচের নাম দিয়েছে ‘ওয়াটারড্রপ’।

ডিসপ্লের নিচের বেজেলের পরিমাণ কম। এক কথায় ওয়াটারড্রপ ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের ভালো লাগবে। ডিসপ্লেটি অনেকটা বেজেলহীন ফোনের মতই মনে হবে।

ছবি: জিএসএমএরিনা

৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি, আইপিএস এলসিডি প্যানেল ডিসপ্লের কালার ও ব্রাইটনেস সন্তোষজনক। প্যানেলটির রেজুলেশন ১০৮০x২৩৪০ পিক্সেল এবং অনুপাত ১৯:৯।

কর্নিং গরিলা গ্লাস ৬ প্রযুক্তি যুক্ত ডিসপ্লেটির পিপিআই ৪০৯ পিক্সেল।

ডিসপ্লের কন্ট্রাস্ট ও কালার অ্যাকুরেসি সন্তোষজনক। বই পড়া, ইউটিউব ভিডিও বা মুভি দেখতে কোনো অসুবিধা হবে না ।

ভিডিও দেখার সময় পুরো ডিভাইসটিকেই ডিসপ্লে মনে হবে। দিনের আলোতে ডিসপ্লে ভিউ অ্যাঙ্গেল ভালো। তবে রোদের আলোতে ব্রাইটনেস কিছুটা বাড়িয়ে নিতে হবে।

পারফরমেন্স

অপ্পো এফ৭-এর মতই ডিভাইসটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও পি৬০ প্রসেসর। কর্টেক্স এ৭৩ ও এ৫৩- এ দুই প্রযুক্তির চারটি করে সর্বমোট আট কোর সমৃদ্ধ প্রসেসরটির গতি ২ গিগাহার্জ। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে মালি জি৭২ এমপি৩।

৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরির ডিভাইসটি ৪ ও ৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি সংস্করণে পাওয়া যাবে। চাইলে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমোরি বাড়ানো যাবে।

গিকবেঞ্চ অনুযায়ী, অপ্পো এফ৯ পেয়েছে সিঙ্গেল কোরে ১৪৩৮ পয়েন্ট এবং মাল্টিকোরে ৫২২৭ পয়েন্ট। আনটুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর ১৩০৯০০। অর্থ্যাৎ পারফরমেন্সের বিচারে মোটামুটি মানের।

গেইম খেলার সময় ল্যাগ পাওয়া যাবে না ঠিকই, তবে আল্ট্রা গ্রাফিক্স বা কিছু নতুন গেইমের ক্ষেত্রে- যেমন প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ডসের ক্ষেত্রে মিডিয়াম গ্রাফিক্সের ওপর যাওয়া উচিত হবে না।

পাবজি কিংবা অ্যাসফল্ট ৮-এর মতো উচ্চ গ্রাফিক্সের গেইমগুলো খেলতে তেমন অসুবিধা হয় না। অবশ্য কিছুক্ষণ গেইম খেলার পরে মাঝে মাঝে ল্যাগ পাওয়া গেছে ডিভাইসটিতে।

তাই প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ডস (পাবজি) খেলার সময় মিডিয়াম গ্রাফিক্সে গেইমটি খেলা উচিত। সাধারণ গ্রাফিক্সের গেইম খেলতে কোনো ল্যাগ পাওয়া যাবে না।  বেশ কিছুক্ষণ গেইম খেললে ডিভাইসটি গরম হয়।

এ ছাড়া একত্রে একাধিক অ‍্যাপ ব‍্যাকগ্রাউন্ডে ব‍্যবহার করেও ল্যাগ দেখা পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে মাঝারি বাজেটের ফোন হিসেবে পারফরমেন্স বেশ ভালো।

ফোনটিতে দেয়া হয়েছে কালার ওএস ৫.২, যা তৈরি করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ ওরিও কাস্টমাইজ করে।

ক্যামেরা

অপ্পোর ফোনগুলো সাধারণ সেলফিকেন্দ্রিক। এ মডেলও ব্যতিক্রম নয়। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে এফ/২.০ অ্যাপচারের ওয়াইড লেন্স ২৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

দিনে ও রাতের কম আলোতেও চমৎকার সেলফি তোলা যাবে। সেলফিতে ডিটেইলস ও উজ্বলতার ঘাটতি খুব বেশি চোখে পড়বে না।

ছবি: জিএসএমএরিনা

পেছনে রয়েছে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ। একটি এফ/১.৫ অ্যাপাচারের ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। অপরটি এফ/২.৪ অ্যাপাচারের ডেপথ সেন্সরযুক্ত ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডকে ব্লার করতে সহায়তা করবে।

এটি অপ্পোর এফ সিরিজের প্রথম ফোন সেখানে ডুয়েল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্যামেরায় রয়েছে পোর্ট্রেইট মোড, মোটামুটি ভালো মানের ছবি তোলা যাবে। ব্যাক ক্যামেরা ব্যবহার করে দিনের আলোতে ভালো ছবি তোলা গেলেও রাতের লো লাইটে তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

রাতে ছবিতে নয়েজ চোখে পড়ে। তবে বাজেট ডিভাইস অনুযায়ী যা খারাপ বলা যায় না।

ক্যামেরায় রয়েছে বিউটি মোড। অল্প বিস্তর ব্যবহার করে চেহারার খুঁতগুলো ঢেকে দেয়া যাবে। তবে তা দেখতে আর যাই হোক, বাস্তব মনে হবে না।

ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০৮০ পিক্সেল ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। ওআইএস থাকায় ভিডিওতে কম ঝাঁকুনি চোখে পড়বে। রাতের ভিডিও করার সময় কিছুটা নয়েজ চোখে পড়বে। বর্তমানে এ বাজেটের অনেক ফোনে ফোরকে ভিডিও সুবিধা রয়েছে। এতে ফোরকে না থাকার বিষয়টি হতাশ করেছে।

ছবি: জিএসএমএরিনা

ব্যাটারি লাইফ

বিশাল ডিসপ্লে থাকলেও ফোনটিতে দেয়া হয়েছে ৩৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা হেলিও পি৬০ প্রসেসরের গুণে সহজেই একদিন ব্যাকআপ দিতে পারবে। স্ক্রিন অন টাইম যদিও ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার বেশি আশা করা উচিত হবে না।

ডিভাইসটিতে রয়েছে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। অপ্পোর দাবি, পাঁচ মিনিট চার্জে দুই ঘণ্টা কথা বলা যাবে। ভিওওসি প্রযুক্তি থাকায় চার্জিং অবস্থায় হ্যান্ডসেট নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে। আর সম্পূর্ণ চার্জ হতে এক ঘন্টা ২০ মিনিটের মতো সময় লাগবে।

মূল্য  ও রঙ

অপ্পো এফ৯ সানরাইজ রেড, টোয়াইলাইট ব্লু ও স্টারি পার্পল রঙে পাওয়া যাবে।

র‍্যাম ভেদে দুটি সংস্করণ রয়েছে, যার মধ্যে ৪ গিগাবাইট র‌্যামের দাম হবে ২৮ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ৬ গিগাবাইটের দাম ৩১ হাজার ৯৯০ টাকা।

এক নজরে ভালো

  • ওয়াটার ড্রপ বা ছোট আকৃতির নচ ডিসপ্লে ও বেজেল কম
  • একত্রে দুটি সিম ও মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • ফাস্ট চার্জিং সুবিধা
  • ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক রয়েছে

এক নজরে খারাপ

  • টাইপ সি পোর্টের বদলে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট
  • ফোরকে ভিডিও করার সুবিধা নেই
  • গেইম খেলার সময় গরম হয় ও মাঝে মাঝে ল্যাগ করে

টিএ/আরআর/অক্টো১৫/২০১৮/

আরো পড়ুন:

*

*

আরও পড়ুন