শেষ ইচ্ছেই তার ভিডিও গেইম খেলা!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২১ বছর বয়েসী ক্রিস টেইলর জানেন বেশিদিন বাঁচবেন না তিনি। অনেকটা মৃত্যু সজ্জায় শুয়ে ক্রিস টুইট করেন নিজের বেঁচে থাকার সংশয় প্রকাশ করে।

সেই টুইটেই মনের মধ্যে উঁকি দেয়া সুপ্ত একটা ইচ্ছের কথা জানান শুয়ে শুয়েই। তার ইচ্ছে, অতিপ্রিয় একটি ভিডিও গেইম খেলা। কিন্তু সেই ইচ্ছে পূরণে অন্তরায়, গেইমটির রিলিজ  না হওয়া। রিলিজ হতে হতে অন্তত ডিসেম্বর মাস হবে। কিন্তু ততদিন কী বাঁচবেন ক্রিস?

ভিডিও গেইমটি ক্রিস খেলতে চান রিলিজের পরেই, কিন্তু শরীরে বাসা বাঁধা মরণঘাতী বোন ক্যান্সার তাকে অনেকটাই অসাড় করে ফেলেছে। ততদিন বাঁচবেন কিনা সেই দোলাচলে রিলিজের আগেই খেলার ইচ্ছের কথা জানান।

ইচ্ছে পূরণে এগিয়ে আসেন বন্ধু-স্বজনরা। সামাজিক মাধ্যমে তারা শুরু করেন ক্যাম্পেইন। শুরু হয় ক্রিস টেইলরের ইচ্ছে পূরণে টুইটারে, ফেইসবুকে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষের এগিয়ে আসা। তারাও চান, ক্রিসের ইচ্ছে পূরণ করতে হবে।

ক্রিসের ইচ্ছে পূরণের ক্যাম্পেইনে নজর আসে জাপানি গেইম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনটেন্ডোর। তাদের তৈরি করা ‘সামাস ব্রোজ’ গেইম খেলার স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেয় ক্রিসের। যদিও এটি কয়েক মাস পরে উন্মোচন হবে।

কানাডার অন্টারিও বাসিন্দা ক্রিস টেইলর বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যায়। নড়তে পারেন না কয়েক ফুটের বেশি। তারপরও নতুন গেইমটি পেয়ে যারপনাই খুশি ক্রিস। খেলেছেন শুয়ে শুয়েই।

ভিডিও গেইম খেলতে এমন কাণ্ড করা আসলেই শিশুসুলভ যেটা আমি করেছি। কিন্তু সত্যিই গেইমটি আমার কাছে অনেক কিছু। তারা আমার মন ভরিয়ে দিয়েছে, বলেন ক্রিস।

ক্রিসের ওই টুইটের কিছু সময়ের মধ্যে ৯ হাজার লাইক এবং তিন হাজার ৪০০ রিটুইট করেছেন ব্যবহারকারীরা। একই সঙ্গে ক্রিসকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার মানুষ তার দিকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

ক্রিস নিনটেন্ডোর তৈরি করা ‘সামাস ব্রোজ’ এবং ‘আলটিমেট’ গেইমটি খেলেন। পরে তিনি গেইম সম্পর্কে গেইমিং কমিউনিটিতে একটি পোস্ট দেন। ক্রিস লেখেন, আমি সত্যিই বলতে পারবো না কতোটা কৃতজ্ঞ তাদের কাছে। আসলেই এটি অসাধারণ গেইম।

আমি মনে প্রাণে চাইতাম গেইমটি খেলার জন্য। আপনারা সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। সত্যিই আমি আনন্দে কেঁদেছিও, ধন্যবাদ, ধন্যবাদ আমার ইচ্ছে পূরণ করার জন্য-বলেন ক্রিস।

ক্রিসের ভাই জ্যাক বলেন, আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা। আপনাদের সম্মিলিত চেষ্টা আমার ভাইয়ের ইচ্ছে পূরণ করেছে।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন