উদ্যোক্তাদের সিলিকন ভ্যালি এখন বাংলাদেশেই

Evaly in News page (Banner-2)

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসম্যাক, উবারের আতুরঘর রকেটস্পেস, উইওয়ার্কের চেয়ে আরও স্মার্ট স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর এখন বাংলাদেশে। যে অ্যাক্সিলারেটর নিয়ে টেকশহরডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন স্টার্টআপ বাংলাদেশের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ( আইসিটি ইনোভেশন), আইডিয়া প্রজেক্টের সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং নির্বাচক কমিটির সদস্য টিনা জাবীন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের সহায়তা করতে সরকার দেশে স্টার্টআপ বাংলাদেশ নামে কোম্পানি গঠন করেছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ নামে এই কোম্পানি ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সুপরিচিত।

চমক হলো সরকারের এই কোম্পানিটি সিলিকন ভ্যালির বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ উন্নয়ন প্লাটফর্মের মতো বাংলাদেশেও সর্বাধুনিক একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে ফেলেছে।

রাজধানীর আগারগাওয়ের আইসিটি টাওয়ারের ১৪ তলায় অবস্থিত এই প্লাটফর্মের নাম স্টার্টআপ বাংলাদেশ অ্যাক্সিলারেটর। যেখানে সরকারের আর্থিক অনুদান বা বিনিয়োগ পাওয়া উদ্যোগসহ যেকোনো উদ্যোগ বড় হওয়ার  স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিনামূল্যে বিশ্বমানের কর্মপরিবেশ পাবে।

সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে শুরু হতেই জড়িত টিনা জাবীন। যিনি শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবন—২৮ বছর সিলিকন ভ্যালিতেই কাটিছেন। ফেইসবুক কতটুকু বিনিয়োগ পাওয়ার যোগ্য তা মূল্যায়ন করেছিলেন তিনি। সেই সময় সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হর্সলি ব্রিজ পার্টনারর্সের তৎকালীন অর্থ পরিচালক ছিলেন টিনা। গুগল, টু্ইটার, উবার, লিফট, এয়ারবিএনবির মতো বিশ্বখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানে হর্সলি ব্রিজ পার্টনারসের বিনিয়োগের মূল্যায়নেও অংশ নিয়েছেন তিনি। এখন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মিলে দেশি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ উন্নয়নে কাজ করছেন। টেকশহরডটকমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে বাংলাদেশে এই অ্যাক্সিলারেটর তৈরির বিস্তারিত জানিয়েছেন টিনা।

টেকশহর : দেশের সব খাতের উদ্যোক্তারাই কি স্টার্টআপ বাংলাদেশ অ্যাক্সিলারেটরে সুবিধা পাবে?

টিনা জাবীন : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যেকোনো উদ্যোক্তাদের জন্য এই অ্যাক্সিলারেটর। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সংগঠনের স্টার্টআপ নিয়ে উদ্যোগ বা প্রতিযোগিতায় থাকা স্টার্টআপগুলো ও স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যাচের তালিকাভুক্তরা আগে বরাদ্দ পাবে।

টেকশহর : অ্যাক্সিলারেটেরর সুবিধা পেতে উদ্যোগগুলোর জন্য বয়স বা পর্যায়ের কোনো শর্ত আছে?

টিনা জাবীন :  সাধারণত সিড স্টেইজ হতে উদ্যোগগুলো জায়াগা পেতে পারে। অবশ্য কোনো উদ্যোগ গ্রোথ স্টেইজেও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে।

টেকশহর : অ্যাক্সিলারেটরে কী পাবে উদ্যোক্তারা?

 টিনা জাবীন :  কো-ওয়াকিং স্পেসে উদ্যোগগুলো জায়গা পাবে। একটি উদ্যোগ একটি ডেস্ক পেলেও বিশ্বের সর্বাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা অ্যাক্সিলারেটরের একটি ছাদের নীচে পাবে তারা।

টেকনিক্যাল সুযোগ-সুবিধাসহ যা প্রয়োজন সব আছে এখানে । দক্ষতা উন্নয়নে মেন্টরশিপসহ সব রকম সহায়তা রয়েছে। এখানে আমরা তাদের জন্য বাজার খুজবো, সিলিকন ভ্যালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দেবো।

উদ্যোক্তাদের সিলিকন ভ্যালির আবহ ও সুযোগটা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। যেমন—এয়ারবিএনবিকে যে মানের পরামর্শক দেখভাল করছেন, আমরা ওই মানের পরামর্শক দেশে আনছি।

অ্যাক্সিলারেটর চালুর আগেই আমরা সানফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহমুদ হুসাইনকে নিয়ে এসেছি। তিনি আমাদের উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আরও এসেছেন সিলিকন ভ্যালির সফল উদ্যোক্তা ইউসুফ হক। পরামর্শ দিয়ে সঙ্গে আছেন মাইক্রোসফট অ্যালামনাই আজহারও। এটা চলতেই থাকবে।

টেকশহর :  কতগুলো উদ্যোগ একবারে সুযোগ পাবে?

টিনা জাবীন : স্টান্ডার্ড  ২৫টি ডেস্ক রয়েছে এখানে। শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে ৬০ হতে ৭০টি উদ্যোগকে একসঙ্গে স্পেস সুবিধা নিতে পারবে। শুরুতে একটি উদ্যোগকে ছয় মাস এই সুযোগ পাবে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি এক বছরও হতে পারে।

টেকশহর : যারা জায়গা পেলো না তাদের জন্য কোনো সুবিধা আছে?

টিনা জাবীন :  কোনো উদ্যোগ ডেস্ক না পেলেও তারা কিন্তু অ্যাক্সিলারেটরের কনফারেন্স রুম, প্রেজেন্টেশন বা শোকেস রুম, মিটিং জোনের সুবিধা নিতে পারবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের বিশেষজ্ঞদের মেন্টরশিপও পেতে পারে।

টেকশহর : কীভাবে আবেদন করবে ?

টিনা জাবীন : আইসিটি টাওয়ারে আইডিয়া প্রকল্পের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। আবার স্টার্টআপ বাংলাদেশের ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যাবে।

টেকশহর : দেশের এই অ্যাক্সিলারেটর কতটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন?

টিনা জাবীন : সিলিকন ভ্যালির ইউএসম্যাক, রয়েছে রকেটস্পেস যেখানে উবার তৈরি হয়েছে, উইওয়ার্কের চেয়েও বাংলাদেশের মডেলটা আরও স্মার্ট।

টেকশহর : এই অ্যাক্সিলারেটরের ভিশন কি?

টিনা জাবীন : আমাদের উদ্যোগগুলো দেশেই সিলিকন ভ্যালির আবহেই বড় হবে, জন্মাবে। ভিশনটা এমনই।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় , ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এখানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ওনারা এটির উদ্বোধন করেছেন।

আমাদের যে ভিশন রয়েছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে ম্যাচিউরড একটা ফলাফল পাওয়ার আশা করছি।

২ টি মতামত

  1. Sohag said:

    ভালো আইডিয়া পেলে ভালো application তৈরি করে 3 বছরের মধ্যে billionaire হওয়া সম্ভব। Snapchat বা WeChat মত।😎😎😎😎

*

*

আরও পড়ুন