ই-কমার্সে বিদেশি বিনিয়োগ, শংকায় ভারত-বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

walmart-flipkart-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কন্টেন্ট কাউন্সিলর : ভারত-বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে বিদেশিদের বিনিয়োগের কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তারা টিকে থাকার পথ খুঁজছেন।

ভারতের ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে রীতিমত ব্যবসায়ীক বন্‌ধ ডেকে বসেছেন। যে দিন ই-কমার্সের ছোট ছোট উদ্যোক্তারা তাদের দোকানের ‘শাটার’ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নীতিমালার সংশোধন করে নিজেদের সুরক্ষার দাবি করছেন সরকারের কাছে।

ই-কমার্সে বিদেশিদের এমন বিনিয়োগে দেশিও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সময় বৈঠক, সভা করে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছেন। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে আসতে হলে দেশিও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কাজ করার দাবি করছেন উদ্যোক্তা। কিন্তু সেটি যখন কাজে আসেনি তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাইছে, বিদেশিরা যেন শর্তহীন শতভাগ বিনিয়োগে না আসতে পারে। এটা করলে অন্তত নিজেরা সুরক্ষা পাবে বলে সরকারের ও প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছে দাবি করেছেন খাতটির উদ্যোক্তারা।

সম্প্রতি ভারতীয় ই-কমার্স কোম্পানি ফ্লিপকার্টের ৭৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়ার পরই বিপদ বাড়তে থাকে ওয়ালমার্টের।

ওয়ালমার্টের ফ্লিপকার্ট অধিগ্রহণের বিরোধীতা করে সারা ভারতের প্রায় সাত কোটি ব্যবসায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীক বন্‌ধ বা হরতাল ডেকেছেন। বন্‌ধটি ডেকেছে দেশটির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স বা সিএআইটি।

সংগঠনটি জানিয়েছে, এই অধিগ্রহণের চুক্তি বাতিল করতে তারা ভারত সরকারের শরণাপন্ন হবে। কারণ এই চুক্তি ২০১৬ সালের প্রেস নোট ৩ এর লঙ্ঘন করেছে। এতে লেখা ছিলো, ই-কমার্স খাতে সরাসরি কোনো বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হবে না।

সিএআইটির সেক্রেটারি প্রবীন খন্ডেলওয়াল বলেছেন, প্রয়োজনে এই লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে। এই অধিগ্রহণের ফলে সমান শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সামর্থ্য থাকবে না বলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়াও, সারা বিশ্বে যেসব পণ্য বাতিল বলে গণ্য হবে সেগুলোই ভারতে পাঠাবে ওয়ালমার্ট।

অন্যদিকে ওয়ালমার্ট বলছে, ফ্লিপকার্ট অধিগ্রহণের ফলে আগামী ২০১৯ থেকে ২০২০ অর্থ বছরে তাদের মোট আয়ের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তাদের সুদের খরচও বেড়ে যাবে।

ওয়ালমার্ট প্রধান ডগলাস ম্যাকমিলানের মতে, ওয়ালমার্টের জন্য ভারতের বাজারে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই ফ্লিপকার্টের প্রতি আগ্রহী হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে শুধু ভারতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আরও অনেক দেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে গিলে খাচ্ছে ই-কমার্স জায়ান্টগুলো।

গত মে মাসেই বাংলাদেশসহ ৫ দেশে দারাজকে কিনে নেয় আলিবাবা। বাংলাদেশে শুধু দারাজ নয়, দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশেরও ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্টটি।

চলতি সপ্তাহেই জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরুতেই বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজন।

আলিবাবার মতো বাংলাদেশে কার্যক্রম থাকা কোন কোম্পানি কিনে বা কোনো অংশীদারিত্ব কিনে নয় বরং ‘অ্যামাজন বাংলাদেশ’ হিসেবেই কার্যক্রম শুরু করবে ই-কমার্স জায়ান্টটি।

দেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্তহীনভাবে শতভাগ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া যাবে না। শর্তহীনভাবে শতভাগ বিদেশি মালিকানার অনুমোদন দেয়া হলে স্থানীয়দের অস্তিত্ব বিপন্নের আশংকা রয়েছে। যেটি আশংকা করছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

দেশিয় কিছু ই-কমার্স দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলার পর একটা ভালো অবস্থানে আসতে পারছে। ঠিক এমন সময় যদি বিদেশি বড় জায়ান্টের হাতে ই-কমার্স খাত চলে যায় তবে সেটা তাদের জন্য একেবারেই নেতিবাচক হবে বলেও বলছেন এসব উদ্যাক্তারা।

আনিকা জীনাত

*

*

আরও পড়ুন