শাওমি আয়রন রিং প্রো ২ : ডিজাইনে পুরাতন, সাউন্ডে প্রিমিয়াম

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমির আয়রন রিংয়ের পরবর্তী সংস্করণ ‘আয়রন রিং প্রো ২’ সম্প্রতি বাজারে এসেছে। সিরিজটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

আগের সঙ্গে এবারের হেডফোনের পার্থক্য কোথায় বা বাজারে থাকা অন্যান্য হেডফোনের সঙ্গে এটি কী পেরে উঠবে? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে শাওমি আয়রন রিং প্রো ২

  • ২০-২০,০০০ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স
  • ৩২ ওম ইম্পিডেন্স
  • ৩.৫ মিলিমিটার জ্যাক
  • ব্রেইডেড ক্যাবল
  • ডাইনামিক ডুয়াল ড্রাইভার
  • সেন্সিটিভিটি ১০০ ডিবি
  • মাইক্রোফোন
  • তিনটি বাটন নিয়ন্ত্রণ
  • সাউন্ডের ধরন : আনুপাতিক, ব্যাস, মিড ও ট্রেবল সুষমভাবে দিতে সক্ষম

ডিজাইন

অ্যালুমিনিয়াম বডির হেডফোনটিতে এবার দেয়া হয়েছে কালো রঙ। সঙ্গে পেছনের অংশে আছে পলিশ। তাই দেখতে আগের চেয়ে হয়েছে আরও প্রিমিয়াম। বিশেষ করে যারা কালো রঙ পছন্দ করেন তাদের জন্য হেডফোনটি হয়েছে আরও আকর্ষণীয়।

হেডফোনের জ্যাকটি দেয়া হয়েছে এল-আকৃতির, ফলে তারে টান খাওয়া কমবে অনেকগুন। সে জন্য অবশ্য হেডফোন আরও টেকসই হবে কী না তা সময় বলে দেবে।

হেডফোনের হাউজিং করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের, সঙ্গে আছে তিনটি বাটন। যা দিয়ে ট্র্যাক বদলানোর পাশাপাশি ভলিউমও কম বেশি করা যাবে। হেডফোনের পর থেকে ইয়ারবাড পর্যন্ত তার রাবারের, ব্রেইডেড নয়।

সব মিলিয়ে ডিজাইনে হেডফোনটিতে নতুনত্বের পাশাপাশি পুরাতনের ছোঁয়া রয়ে গেছে।

সাউন্ড

বেজ-শাওমি এর আগের হেডফোনে ব্যাস কিছুটা কমিয়ে ফেলেছিল, এবারে তা শুধরে দেয়া হয়েছে। গভীর বেজ দিতে সক্ষম এই হেডফোন। তবে মাথা ধরিয়ে ফেলার মত নয়, যেমনটি সনি বা রকের হেডফোন দিয়ে থাকে। টানা গান শুনলেও বিরক্ত লাগবে না।

মিড-মিড বা ভোকালের জন্য হেডফোনটি খুবই ভালো। ডাইনামিক আর্মেচার থাকায় ব্যাসের সঙ্গে মিড মিলেমিশে একাকার হবে না। যারা ক্ল্যাসিকাল মিউজিক শোনেন বা হেডফোনে মুভি দেখেন তাদের জন্য হেডফোনটি কাজের।

ট্রেবল-সুন্দর ট্রেবল দিতে সক্ষম হেডফোনটি, তবে কানে লাগার মত নয়। মিডের সঙ্গে না মিশে সবগুলো বাদ্যযন্ত্র আলাদা আলাদা করে শোনা যাবে হেডফোনটিতে। ডাইনামিক ড্রাইভার থাকায় সুক্ষ্ম ট্রেবলও সুন্দরভাবে শোনা যাবে।

সাউন্ড স্টেজ

এই জায়গায় এরকম বন্ধ ইয়ারবাড সবসময়ই পিছিয়ে থাকে, এটিও ব্যতিক্রম নয়। হেডফোন কানে থাকা অবস্থায় মনে হবে না সাউন্ড দূর থেকে আসছে। স্টেরিও ওয়াইডেনিং কম, ক্রসটকও আছে। সারাউন্ড সাউন্ডের জন্য হেডফোনটি কাজের নয়।

নয়েজ ক্যান্সেলিং

পেছনে বন্ধ থাকায় আশপাসের সাউন্ড হেডফোন কানে থাকলে তেমন জ্বালাবে না। অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলিং এতে অবশ্য নেই, তাই শব্দ পুরোপুরি রোধ করতে পারবে না এটি। প্রায় ১৫ থেকে ২০ ডেসিবেল পর্যন্ত সাউন্ড দমাতে পারবে এটি।

পরিশেষ

ডিজাইনে তেমন নতুনত্ব দেয়নি শাওমি, ফলে আগের দুর্বলতাগুলো এবারও ফিরে আসতে পারে। ক্যাবল শুধুমাত্র জ্যাক থেকে মাইক্রোফোন পর্যন্ত ব্রেইডেড, বাকিটা রয়ে গেছে রাবারের। সেটি বছর খানেক পর খুলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এক নজরে ভালো

  • সাউন্ড
  • ডিজাইন
  • এল-জ্যাক

এক নজরে খারাপ

  • পুরোনো ডিজাইন
  • ক্যাবল পুরোটা ব্রেইডেড নয়

মূল্য

বাজারে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায় হেডফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।

এস এম তাহমিদ

*

*

আরও পড়ুন