Header Top

গেইমের ভার্চুয়াল জগতের শিকার হচ্ছে শিশুরা

gameboy-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিশুরা এখন অস্ত্রে গুলি ভরতে ওস্তাদ। সেই গুলি দিয়ে ব্যাপক গোলাগুলির পর শত্রুকে হারিয়ে জিতেও যাচ্ছে। একই সময়ে হয়ত সে গাড়ি ভাঙছে, চোর-পুলিশ খেলছে, ধ্বংসের খেলায় মেতে আনন্দে আত্মহারা হচ্ছে। এর পুরোটাই যদিও সে ভার্চুয়ালি করছে, তবুও তা মনে ছাপ ফেলে যাচ্ছে তার।

নাগরিক জীবনে শিশুরা এখন অনেক বেশি  ভিডিও গেইমের পোঁকা হয়ে উঠছে। স্কুল কিংবা পড়াশেনা বাইরে সে যেটুকু সময় পায় তার পুরোটাই কাটে গেইম খেলে। আর গেইমগুলোর মারামারি কাটাকাটি তাকে করে তুলছে মানসিকভাবে হিংস্র। অনেকে সমাজ বিরোধীও হয়ে উঠছে!

তার ছোট্ট জগতে জাগতিক ভালোমন্দ বিষয় কাজ করছে না! উন্মাদের মতো সে শুধু গেইমের এসব হাস্যকর সব বিষয়ের বলয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে! শিশুদের নিয়ে করা করা কিছু জরিপে এসব তথ্য বেশ গুরুত্ব সহকালে উঠে এসেছে।

sm113717

জনপ্রিয় স্পোর্টস গেইম নির্মাতা ও ইলেকট্রনিক আর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ট্রিপ হকিংস মনে করেন, অতি মাত্রায় ভিডিও গেইমস শিশুর আবেগকে বিতারিত করে মানসিকভাবে ভারসম্যহীন করে দেয়। তার আবেগীয় গুনাবলীকে হিংস্রতার দিকে ধাবিত করে।

বিখ্যাত এ গেইম নির্মাতা তার তৈরি মেডেন ফুটবল গেইম সম্পর্কে বলেন, সত্যি বলছি গেইমটি আপনার শিশুর পক্ষে ভাল নয়। এটা বেশি খেললে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ হবে না।

দীর্ঘ দিনের গবেষণার পর এটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত যে, শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবেশ প্রতিবেশের ভূমিকা অপরিসীম। চারপাশের পরিবেশ থেকে সে যা শেখে, তাই সে আত্মকরণ করে, অনুকরণ করে। তার ভবিষ্যতের ভিতও গড়ে ওঠে সেভাবে।

তাই কেমন হবে শিশুর বেড়ে উঠার পরিবেশ, তাকে কি করতে দেওয়া হবে, কি করতে দেওয়া হবে না- এসব নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। এসবরে সূত্র ধরে গবেষণাও হচ্ছে বিস্তর।

আর সাম্প্রতিক সময়ে নগর জীবনে শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশের অন্যতম অনুষজ্ঞ ভিডিও গেইম। গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত ভিডিও গেইমে আসক্ত শিশুরা স্বাভাবিক জীবন থেকে বিমুখ হয়ে যায়। তাদের আচরণেও এর নেতিবাচিক প্রভাব লক্ষনীয়।

What have I done!-techshohor

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচুর ভিডিও গেইমে অভ্যস্থ শিশুদের আইকিউ লেভেল কমে যায়। যা তার বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে। এমনকি তার মানসিক বুদ্ধিমতাকে নিচে নামিয়ে ফেলতে পারে। এর ফলে শিশু যে কোন সময় মানসিকভাবে ভারসম্যহীনও হয়ে পড়তে পারে।

গবেষকরা বলছেন, সামাজিক কর্মকান্ডেও তারা পিছিয়ে থাকে। বিশেষ করে তারা প্রচন্ড বদমেজাজী হয় এবং সবসময় ভয় পায়।

এ সব প্রবণতা সম্পর্কে কমনসেন্স মিডিয়ার শিক্ষণ বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার টেনার হাইজিন বলেন, গেইমে আসক্ত শিশুদের মধ্যে একাকিত্বে ভোগা, অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা, অপরাধ বোধে ভোগার প্রবণতা বেশি।

হাইজিন বলেন, গত কয়েক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে ভিডিও গেইম প্রকাশ্যে বা গোপনে যে ভাবেই হোক না কেন শিশুর সামাজিক এবং মানষিক দক্ষতার ওপর নানা রকম প্রভাব ফেলছে।

শিশুর বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের এসব অন্তরায়কে প্রশ্রয় দেবার জন্য বিশেষজ্ঞরা মা-বাবাকেই দায়ী করছেন বেশি।

ইন্সটিটিউট ফর সোসাল অ্যান্ড ইমোশনাল লারনিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জেনিক টবেন বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা-বাবাদের সুষ্ঠু দেখভালের অভাবে শিশুরা বিগড়ে যায়। বকাঝকার পরিবর্তে শিশুদের সুন্দর করে বুঝিয়ে ভিডিও গেইম থেকে ফেরানো উচিত।

তার পরামর্শ অভিভাবকদের শিশুদের ভিডিও গেইম থেকে দূরে রাখতে একটি গোলক তৈরি করে কাজটি করতে পারেন। তাদের ভাল আবদারগুলো মনযোগ দিয়ে শোনা, একা থাকতে না দেওয়া, কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা শিখিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উপকার মিলতে পারে।

– ইয়াহু টেক  অবলম্বনে

*

*

আরও পড়ুন