গ্যালাক্সি জে৬ : চার্জিংয়ে ধীরগতি ছাড়া পারফরমেন্স নজর কাড়বে

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাঝারি মূল্যের স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাং তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চেষ্টা করছে।

সেই ধারাবাহিকতায় নতুন মডেলের হ্যান্ডসেট এনেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি জে৬ নামের ফোনটির মূল্য ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা। এমন বাজেটে বাজারে ফোনের পরিমাণ অনেক। চলুন দেখা যাক স্যামসাং নিজেদেরকে তুলে ধরতে কী নতুনত্ব এনেছে।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জে৬ (২০১৮)

  • ডুয়াল সিম, ফোরজি
  • লম্বাটে ১৮.৫:৯ অনুপাতের সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে, রেজুলেশন ১৪৮০ x ৭১০ পিক্সেল, আকৃতি ৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি
  • স্যামসাং এক্সিনস ৭৮৭০ অক্টাকোর প্রসেসর, গতি ১.৬ গিগাহার্জ, প্রযুক্তি কর্টেক্স এ৫৩
  • মালি টি৮৩০ এমপি১ জিপিউ
  • ৩ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র‌্যাম
  • ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজ
  • মেমরি কার্ড ব্যবহারের জন্য আলাদা স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৮ ওরিও অপারেটিং সিস্টেম
  • স্যামসাং এক্সপেরিয়েন্স ৯ ইন্টারফেইস
  • ওয়াইফাই ৮০২.১১এন, ব্লুটুথ ৪.২, জিপিএস
  • এফএম রেডিও
  • মূল ক্যামেরা ১৩ মেগাপিক্সেল, এফ/১.৯ অ্যাপার্চার
  • সেলফি ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল, এফ/১.৯ অ্যাপার্চার
  • ১০৮০পিক্সেল ফুল এইচডি ভিডিও সমর্থন
  • মাইক্রোইউএসবি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক, ওটিজি সমর্থন
  • পেছনে অবস্থিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০০০ এমমএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন

ফোনটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়বে তার চিকন গড়নের মাধ্যমে। ডিসপ্লের ওপরে ও নীচে বেজেল আছে ঠিকই, কিন্তু হোম বাটন বাদ দেয়ায় তা বেশ সরু। ফোনের বডি তৈরি হয়েছে প্লাস্টিকের।  পেছনের প্যানেল অবশ্য খোলার উপায় নেই। ডান পাশে দেয়া হয়েছে পাওয়ার বাটন আর বাম পাশে ভলিউম বাটন, সিম ট্রে আর মেমরি কার্ড ট্রে রয়েছে। পেছনে মধ্যখানে আছে ক্যামেরা যার ঠিক নিচেই আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। সামনের ক্যামেরার পাশাপাশি ফ্ল্যাশও দেয়া হয়েছে।

ভলিউম বাটন দুটি আলাদা, অন্যান্য ফোনের মত একটি বড় বাটন নয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের অবস্থান যাদের হাত ছোট তাদের একটু সমস্যা মনে হবে। মজার বিষয় হচ্ছে, ফোনটির স্পিকার পেছনে বা নিচে নয়, বরং ডান পাশে। পাওয়ার বাটনের ঠিক ওপরে হওয়ায় হাতে চাপা পড়তে পারে।

পুরো ফোনের ডিজাইন ঠিক প্রিমিয়াম নয়। প্লাস্টিক হলেও তৈরির মান যথেষ্ট ভালো, পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

ডিসপ্লে

সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে গ্যালাক্সি জে৬ ফোনটিতে। তবে তার রেজুলেশন ১৪৮০x৭২০ পিক্সেল। লম্বাটে ডিসপ্লেটির অনুপাত ১৮.৫:৯। চমৎকার কনট্রাস্টের ডিসপ্লেটি অন্যান্য স্যামসাং ফোনের মত অতিরঞ্জিত রঙ দেখায় না।

ব্রাইটনেস একদম অন্ধকারে ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি কমিয়েও দেয়া যাবে, আবার রোদে ব্যবহারের জন্য আউটডোর মুডে বাড়ানোও যাবে। ডিসপ্লেটির আকৃতি ৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি, তবে লম্বাটে হওয়ায় চওড়ায় একটু কম।

ফোনটিতে নেই কোনও লাইট সেন্সর, তাই ডিসপ্লের ব্রাইটনেস নিজেরই ঠিক করে দিতে হবে। অন্ধকার থেকে হঠাৎ আলোতে যাওয়ার আগেই ব্রাইটনেস বাড়িয়ে নিতে হবে, তা না হলে ডিসপ্লে দেখাই যাবে না।

পারফরমেন্স

স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনস ৭৮৭০ অক্টাকোর প্রসেসর দেয়া হয়েছে এতে। যার গতি ১ দশমিক ৬ গিগাহার্জ। প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে কর্টেক্স এ৫৩। দৈনন্দিন কাজ দ্রুততার সঙ্গেই করতে দেখা গেছে, তবে ভারী অ্যাপ চালু, বন্ধ আর ইন্সটলের সময় অল্পবিস্তর পিছিয়ে পড়েছে এটি।

বেশ কিছু অ্যাপ চালু থাকলেও ল্যাগ নিয়ে সমস্যা দেখা যায়নি। র‌্যাম দেয়া হয়েছে ৩ গিগাবাইট। স্টোরেজ আছে ৩২ গিগাবাইট, চাইলে মাইক্রোএসডি কার্ড দিয়ে বাড়িয়ে নেয়া যাবে। গেইমিং পারফরমেন্স খারাপ নয়, তবে হাই ডেফিনিশন গেইম চালাতে গ্রাফিক্সের মান কমাতে হবে।

দুটি অ্যাপ এক সঙ্গে চালানো বা ভিডিও ফ্লোটিং রাখা বেশিরভাগ ফোনের জন্যই কষ্টকর হলেও মজার বিষয় হচ্ছে মাঝারি মানের হার্ডওয়্যার নিয়েও গ্যালাক্সি জে৬ অনায়েসে তা করতে সক্ষম।

গিকবেঞ্চ অনুযায়ী, এটির সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট, আর মাল্টিকোর পারফরমেন্স ২৪০০ থেকে ২৭০০ পয়েন্ট। আনটুটু বেঞ্চমার্ক দিয়েছে ৬৬ হাজার পয়েন্ট।

ক্যামেরা

মাঝারি মূল্যের স্যামসাং ডিভাইসগুলোর ক্যামেরা দিন দিনই উন্নত হচ্ছে। ডুয়াল ক্যামেরা অবশ্য এতে নেই, পেছনে আছে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর যার অ্যাপার্চার এফ/১.৯। ছবি তোলার গতি খুবই দ্রুত, চলন্ত জিনিসের ছবিও ঘোলা হবে না। স্বল্প আলোতেও পারফরমেন্স খারাপ নয়, বিশেষ করে নয়েজের পরিমাণ বেশ কম।

দিনের আলোয় ছবিতে ডিটেইল পাওয়া গেলেও, রঙের গভীরতা কম। যদি দৃশ্যে অন্ধকার বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল অংশ থাকে, তাহলে ছবিতে এক্সপোজার সমতা রাখতে ফোনটি হিমসিম খাবে। সামনে থাকা ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার অ্যাপার্চারও এফ/১.৯, সঙ্গে আছে পোর্ট্রেইট মোড। সেলফি ক্যামেরাতেও আলোছায়ার মধ্যে সমতা আনার ব্যাপারে দুর্বলতা দেখা গেছে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রে গ্যালাক্সি জে৬ এর  দুর্বলতা এই এক্সপোজারেই নয়, ডাইনামিক রেঞ্জেও আছে। ছবিতে, বিশেষ করে আকাশের ছবিতে রঙের ডিটেইল একেবারেই উড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে।

ভিডিওতে ভালো পারফরমেন্স আশা করা ভুল। ডিটেইল আছে, আছে দ্রুত ফোকাস। কিন্তু সমস্যা ডাইনামিক রেঞ্জ আর এক্সপোজারে, কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ স্ট্যাবলিজাইজেশনের অভাব। হাতের বদলে স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে ভিডিও করে তা ব্যবহারযোগ্য রাখা যাবে, নইলে নয়।

অন্যান্য ফিচারের মধ্যে আছে সরাসরি ক্যামেরা অ্যাপেই স্টিকার লাগানো, ফেইস ফিল্টার আর বিউটিফিকেশন।

সাউন্ড

ফোনটির সবচেয়ে অবাক করা ফিচার তার সাউন্ড। অত্যন্ত জোরালো, সুস্পষ্ট আর হাই ফিডেলিটি সাউন্ড এতে পাওয়া যাবে। হেডফোনে সাউন্ডের মান বাড়াতে আছে ডলবি সারাউন্ড, সরাসরি সিস্টেম থেকেই ইকুয়ালাইজার ঠিক করে দেয়ার সুবিধা, আর ব্যবহারকারীর কানের সঙ্গে সাউন্ড টিউন করে নেবার ফিচার। গান শোনার জন্য ফোনটি ভালো যন্ত্র।

ব্যাটারি

৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি অন্তত দুই দিন ব্যাকাপ দিতে পারবে। টানা ব্যবহারে ৮ ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় স্ক্রিন চালু থাকবে। ম্যাসেঞ্জার, ফেইসবুক, কয়েক ঘণ্টা গেইমিং করেই এ ব্যাকাপ পাওয়া গেছে। পাওয়ার সেভিং দুটি মোড দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী মোডে ৪ দিন পর্যন্ত ব্যাকাপ পাওয়া সম্ভব।

চার্জিং অবশ্য বড় সমস্যার কারণ। ফাস্ট চার্জ না থাকায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করতে হবে ফুরিয়ে যাওয়া ব্যাটারি পুরো চার্জ করতে।

পরিশেষ

ডিজাইন আর ব্যাটারি লাইফে এগিয়ে থাকলেও এ মূল্যের অন্যান্য ফোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে বেগ পেতে হবে গ্যালাক্সি জে৬ ফোনটিকে। ক্যামেরাতে স্ট্যাবিলাইজেশন না দেয়া, ডাইনামিক রেঞ্জের ঘাটতি, ফাস্ট চার্জিংয়ের অনুপস্থিতি ভাবাবে। ডিসপ্লের রেজুলেশনও চিন্তার করার মত।

তবে স্যামসাংয়ের ইন্টারফেইস খুবই উন্নত। সঙ্গে থাকা ডেটা বাঁচানোর অ্যাপ স্যামসাং ম্যাক্স, প্রচুর মাল্টিটাস্কিং সহজ করার শর্টকাট, আর প্রয়োজনীয় ব্যাটারিলাইফ সেটিংস ফোনটিকে দৈনন্দিন ব্যবহারে কাজের করে তুলবে।

এক নজরে ভালো

  • ডিজাইন
  • ব্যাটারি লাইফ
  • সেলফি ক্যামেরা
  • সাউন্ড

এক নজরে খারাপ

  • চার্জিং স্লো
  • মূল ক্যামেরার ডাইনামিক রেঞ্জ
  • ভিডিওতে কাঁপুনি
  • ডিসপ্লের রেজুলেশন

দাম

দেশের বাজারে ফোনটির মূল্য ২১ হাজার ৯০০ টাকা

এস এম তাহমিদ

*

*

আরও পড়ুন