মেগাপিক্সেল ছাড়াও ছবি ভাল হয় যেসব ফিচারে

camera-techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েই এখন ডিজিটাল ক্যামেরার কাজ চালানো সম্ভব। তাই অনেকেই স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরার মানের বিষয়টি মাথায় রাখেন।

কিন্তু ক্যামেরার মেগাপিক্সেল বাদে অন্যান্য স্পেসিফিকেশন নিয়ে তারা মাথা ঘামাতে চান না। মেগাপিক্সেল ছাড়াও ক্যামেরার অ্যাপারচার, ফ্ল্যাশ, আইএসও, ডেপথ অব ফিল্ড ইত্যাদি উন্নত মানের ছবি তুলতে ভূমিকা রাখে।

ক্যামেরা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে দেখে নিন অন্যান্য স্পেসিফিকেশনগুলোর ব্যবহার।

মেগাপিক্সেল

ক্যামেরায় যতো বেশি মেগাপিক্সেল থাকবে ততোই এর ইমেজ সেন্সরের পিক্সেল সংখ্যা বেশি হবে। ১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় সাধারণত ১০ লাখ পিক্সেল থাকে। বেশি মেগাপিক্সেল থাকলে ক্যামারার ছবি আকারে বড় হয়। মেগাপিক্সেলকে ছবির রেজুলেশনও বলা যায়। তবে বেশি রেজুলেশন হলেই যে ছবির মান ভালো হবে এমন কোনো কথা নেই। পিক্সেলের সংখ্যার চেয়ে পিক্সেলের মানের উপরেই নির্ভর করে ভালো ছবি।

অ্যাপারচার

মেগাপিক্সেরের পরই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় অ্যাপারচারের নাম। ক্যামেরায় থাকা ছিদ্রটি যতো খুলবে ততো বেশি আলো লেন্স ও ক্যামেরা সেন্সরের মধ্যে প্রবেশ করবে। সংখ্যায় একে প্রকাশ করা হয় এফ/১.৫ বা এফ/২.৫ হিসেবে।

অ্যাপারচার কম থাকলে ছিদ্রটি বেশি পরিমাণে খুলবে। অ্যাপারচারের ওপরেই ছবির শার্পনেস নির্ভর করে।

ডেপথ অব ফিল্ড

একটি ছবির কতদূর পর্যন্ত ফোকাস করা হবে তা ডেপথ অব ফিল্ডের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। পোর্ট্রেইট ছবি তোলার সময় শুধু ছবির সাবজেক্টের দিকেই ফোকাস করা হয়। কিন্তু খোলা মাঠের কিংবা পাহাড়ের সৌন্দর্য ধারণ করতে গেলে গভীর ডেপথ অব ফিল্ডের প্রয়োজন হয়। ছবির শুধু সামনের ফোরগ্রাউন্ড বা ব্যাকগ্রাউন্ড ফোকাস করতে গেলে ডেপথ অব ফিল্ড হবে অগভীর।

ছবিতে কতটুকু ডেপথ অব ফিল্ড থাকবে তা নির্ধারণ করা হয় অ্যাপারচারের মাধ্যমে। অ্যাপারচার যতো কম হবে ডেপথ অব ফিল্ডও ততো অস্পষ্ট হবে।

Apertures-techshohor

ওআইএস

অপটিক্যাল ইমেইজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) ছবিকে ঘোলা হতে দেয় না। এই প্রযুক্তি দুটি উপাদান ব্যবহার করে। একটি হলো লেন্স এলিমেন্ট অপরটি হলো জেরোস্কপ সেন্সর। ওআইএস ফিচারটি কম আলোতে ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময়ে বেশ কাজের। তবে ওআইএস ছবির ঘোলাটে ভাবটা শুধু কমিয়েই আনতে পারে, সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে না।

ফ্ল্যাশ

অধিকাংশ স্মার্টফোন ক্যামেরা দিয়েই কম আলোতে ভালো ছবি তোলা যায় না। ছবির অন্ধকারভাব কাটাতেই ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়। ফোনে সাধারণত দুই ধরণের ফ্ল্যাশ থাকে একটি হলো এলইডি ফ্ল্যাশ অন্যটি হলো ট্রু টোন এলইডি। সবচেয়ে কম দামি ও বহুল ব্যবহৃত ফ্ল্যাশ প্রযুক্তি হলো এলইডি। মিড রেঞ্জের ফোনগুলোতেই এটি বেশি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, ট্রু টোন ফ্ল্যাশ হলো সবচেয়ে ভালো মানের ফ্ল্যাশ প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক হাইএন্ডের ফোনগুলোতে ব্যবহার করা হয়। এটি ফোনের হোয়াইট ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

আইএসও

কম আলোতেই উজ্জ্বল ছবি তোলার কাজ করে আইএসও। ছবি তোলার সময় আলো যতো কম থাকবে আইএসও ততো বাড়িয়ে দিতে হবে।

আইএসও বাড়িয়ে দিলে ছবি উজ্জ্বল আসে ঠিকই কিন্তু একই সঙ্গে ছবিতে নয়েজের পরিমাণও বাড়ারও আশংকা থাকে। অপর দিকে, আইএসও কমিয়ে দিলে চলন্ত জিনিসও স্থিরভাবে ধারণ করা সম্ভব হয়।

গ্যাজেটস নাউ অবলম্বনে আনিকা জীনাত

*

*