দেশে হ্যান্ডসেট সংযোজনে শঙ্কা কাটছে, থাকছে না ভ্যাট

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভ্যাট আরোপের ফলে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজন কারখানার ভবিষ্যত নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাচ্ছে।

নতুন বাজেটে ভ্যাটের আওতায় পড়ে যাওয়া হ্যান্ডসেট সংযোজনকারীরাও ভ্যাট মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে এবং মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক ছাড়সহ যেসব সুবিধা ছিল তাই অব্যাহত রাখা হচ্ছে। মানে বিষয়টিকে আগের অবস্থায় রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কার্যালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এবং বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোর বাজেট সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তিগুলো নিয়ে বৈঠক করেন।

বৈঠকে এ সংক্রান্ত দাবি মেনে নেন অর্থমন্ত্রী।

হ্যান্ডসেট সংযোজনের খাত আগের মতো রাখা হবে। ফলে এবার ভ্যাটসহ উদ্ভুত বিভিন্ন জটিলতা আর থাকছে না।–এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি টেকশহরডটকমকে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা সৈয়দ আলমাস কবীর।

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়ে  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবগুলো সমস্যার সমাধান পেয়েছি। শুধু সমস্যার সমাধান নয় আরও নতুন ভাল কিছু খবরও পেতে পারি।

এরআগে মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসেসিয়েশন (বিএমপিআইএ) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে এবং মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক ছাড়ে সরকারের আহবানে কারখানা তারা করতে উদ্যোগী হয়েছেন। ইতোমধ্যে স্যামসাং, সিম্ফনি, আইটেল, ওয়ালটন ও উই সংযোজন কারখানা স্থাপন করে ফেলেছে। যেখানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এখন এক বছর ধরে বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপন শেষে যখন উৎপাদনে যাওয়ার সময় ঠিক তখনই এই ভ্যাটের খড়গ। নতুন বাজেট অনুযায়ী রেডিমেট বা তৈরি হ্যান্ডসেট আমদানিতে কর ৩১ দশমিক ১ শতাংশ আর দেশে সংযোজন করলে হবে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ।

তাই আরোপিত এই কর প্রত্যাহার না করলে স্থাপিত কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং এখানে কেউ আর কারখানা করবে না- এই সংবাদ সম্মেলন বলছিলেন বিএমপিআইএর সভাপতি এবং স্যামসাংয়ের কারখানা স্থাপনের দেশীয় অংশীদার ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব, টেকনো ও আইটেলের কারখানা স্থাপনকারী ট্র্যানশান বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক, এডিসন গ্রুপ চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদসহ এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের সকল মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোই একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোন তৈরির জন্য অনেকগুলো সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিয়ে তা সংযোজনের মাধ্যমেই নিজস্ব ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন করে থাকে। এরমধ্যে পিসিবিএ, ডিসপ্লে, আইডি হাউজিং, এসএমটি, চিপসেট, মেমোরি, ব্যাটারি, চার্জার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

‘যেখানে বিশ্বের কোনো কোম্পানিই এককভাবে সবগুলো যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করে না, সেখানে বাংলাদেশে তা কিভাবে সম্ভব?-বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা।

চলতি বাজেট প্রস্তাবে হ্যান্ডসেট উৎপাদনকে ভ্যাট ও সারচার্জমুক্ত রাখার কথা বলা হয়।

কিন্তু ভ্যাট এসআরওতে সংযোজনকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সেখানে উৎপাদক হিসবে শুধু ভ্যাট ছাড়ের সুবিধা দেয়ার কথা রয়েছে।

এসআরও নং-১৬৮ –এ উল্লেখ করা হয়, সংযোজনকারী ব্যতীত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট মওকুফ সুবিধা পাবে, সংযোজনকারী নয়। সংযোজনকারীদের যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল আমদানিতেও ভ্যাট দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রিন্টেট সার্কিট বোর্ড, চার্জার, হাউজিং এবং ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকতে হবে। কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে, জনবল হতে হবে কমপক্ষে ২৫০ জন।

এছাড়া পণ্য উৎপাদনে কারখানায় ১৮ রকমের মেশিনারিজ থাকতে হবে। আর শর্তে অন্যান্য দাপ্তরিক নিয়ম-কানুন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয় তো আছেই।

‘শর্ত অনুযায়ী যেসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে তা অবাস্তব। এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনও বাস্তব সম্মত নয়।‘-জানিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা।

আল-আমীন দেওয়ান

 

*

*

আরও পড়ুন