বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী ট্রনস্মার্ট এলিমেন্ট টি২

Robi Before feture image

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পাহাড়ে, সাগরের পাড়ে বা নদীতে নৌকায়–সব অবস্থার সঙ্গেই গান মানিয়ে যায়।

অনেকের আবার শখ গোসলের সময় গান শোনা। অথচ পানি নিরোধী স্পিকার বাজারে তেমন নেই, যা আছে তাও নাগালের বাইরে।

এমন চাহিদার বিবেচনায় জোরালো আওয়াজ, পানি নিরোধী ডিজাইন ও শক্তপোক্ত বডির স্পিকার এনেছে ট্রনস্মার্ট। মূল্যও নাগালের মধ্যেই।

এক নজরে ট্রনস্মার্ট এলিমেন্ট টি২

  • ১০ ওয়াট ডুয়াল স্পিকার
  • বেস রেডিয়েটর
  • শক্ত বডি
  • ব্লুটুথ ৪.২ প্রযুক্তি
  • ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ
  • অক্সিলারি পোর্ট, মাইক্রো এসডি কার্ড সমর্থন
  • প্রয়োজনে দুটি স্পিকার একত্রে ব্যবহারের সুবিধা
  • ১৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • মাইক্রো ইউএসবি চার্জিং

ডিজাইন

ওপরে বড়সড় বাটন, সামনে পেছনে শক্ত গ্রিল ও চারিদিকে রাবারের প্রলেপ দেয়া প্লাস্টিকে তৈরি স্পিকারটি আকৃতিতে খুব বড় নয়।

ওপরের অংশে আছে পাঁচটি বাটন, যার মধ্যে আছে প্লে, ভলিউম আপ ডাউন, পাওয়ার আর মোড পরিবর্তন বাটন। ডান কোনায় আছে স্ট্র্যাপ বা ক্লিপ ব্যবহার করার জন্য হাতল। বামে আছে চার্জিং পোর্ট, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট এবং তার ব্যবহার করে গান শোনার পোর্ট।

শক্তপোক্ত ডিজাইনের স্পিকারটি প্রায় যে কোনও ভাবে দাঁড় করানো যাবে, সহজে পড়বে না। ভালো বেইস পেতে হলে কাঠের টেবিলে শুইয়ে রাখা ভালো। হাত থেকে পড়ে বা বাড়ি লেগে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। রাবারের কোটিং থাকায় সহজে দাগও পড়বে না।

সাউন্ড

যতটা সম্ভব, ব্যালেন্স সাউন্ড দেওয়ার দিকে নজর দিয়েছে ট্রনস্মার্ট। বিশেষ করে গায়কের গলা যাতে চাপা পড়ে না যায় সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

বেইস

ড্রাম, তবলা বা ঢোলের মতো মিড বেইস সুন্দরভাবে পাওয়া যাবে। ভলিউম বাড়িয়ে দিলে স্পিকার বেইস থেকে লাফাতেও দেখা গেছে। তবে সাব বেইস, যেমনটা পাওয়া যায় ইলেক্ট্রনিক মিউজিক বা হিপহপ গানে, তা পেতে হলে শক্ত টেবিল জাতীয় কিছুর ওপর স্পিকারটি চিত করে শুইয়ে দিতে হবে।

পানি নিরোধীর করার জন্য স্পিকারটিতে বেইস পোর্ট দেয়া যায়নি, রেডিয়েটরও রাখা হয়েছে ছোট। তাই সাব বেইসের ঘাটতি এভাবেই পোষাতে হবে।

মিড

বলা যেতে পারে স্পিকারটি মিড কেন্দ্রিক। বিশেষ করে খালি গলার গান, মুভি বা আবৃতি শোনার জন্য খুবই কাজের। উচ্চারণের স্পষ্টতা সুন্দরভাবে শোনা যাবে। চিকন কন্ঠের গান যদিও একটু চাপা মনে হবে। এর কারণ গ্রিলের মধ্যে পানি নিরোধী পর্দার উপস্থিতি।

ট্রেবল

ট্রেবলের ঘাটতি না থাকলেও, সাউন্ডে তীক্ষ্ণতার উপস্থিতি খুবই কম। ফলে অনেকের কাছে সাউন্ড চাপা মনে হতে পারে। তার মানে এই নয়, সাউন্ড পুরোটই মিড কেন্দ্রিক।

ভলিউম কিছুটা বাড়ালে বা ইকুয়ালাইজার থেকে ট্রেবল বাড়িয়ে সহজেই সামলে নেয়া যাবে।

অন্যান্য

প্রয়োজনে দুটি স্পিকার একত্রে বাজিয়ে স্টেরিও সাউন্ড পাওয়া যাবে, যা খুবই কাজের। অক্সিলারি ইনপুট থাকায় সবসময়ই ব্লুটুথ দরকার হবে, তাও নয়।

বিশেষ করে পানি নিরোধী স্পিকারটিতে সরাসরি মাইক্রো এসডি কার্ডে গান লোড করে ব্যবহার করা যাবে আরেকটি ডিভাইস ছাড়াই।

ব্লুটুথের রেঞ্জ খুবই ভালো। বাসার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তেও ব্যবহার করা যাবে। ব্যাটারি লাইফও দীর্ঘ- টানা ১২ ঘন্টা ৮০ শতাংশ ভলিউমে ব্যবহার করা যাবে।

পানি নিরোধী

স্পিকারটি আইপিএক্স৫৬ পানি নিরোধী। প্রয়োজনে ঝুম বৃষ্টিতেও ভেজানো যাবে, ধুলাে ঝড়েও ক্ষতি হবে না। তবে স্পিকারটি নিয়ে ডুব সাঁতারের ইচ্ছে থাকলে তা পরিত্যাগ করাই ভাল।

মূল্য

দেশের বাজারে এটি ৩০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ব্যালেন্সড সাউন্ড
  • ব্লুটুথের রেঞ্জ
  • ব্যাটারি লাইফ
  • ডিজাইন

এক নজরে দুর্বল দিক

  • সাব বেইস কম
  • ট্রেবলের হালকা ঘাটতি

*

*

আরও পড়ুন