Header Top

উইন্ডোজের সেরা গেইম বানাতে আত্মবিশ্বাসী কারিগর

karigor_techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুরুটা হয়েছিল হঠাৎ করেই। মাইক্রোসফটের ইমাজিন কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রথম থেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন তারা। কেননা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল তখন। এরপরও সাহস করে নাম লেখালেন প্রতিযোগিতায়। তবে শেষ পর্যন্ত তারাই হয়ে গেলেন দেশ সেরা গেইম ডেভলপার।

শুরুতে অভিজ্ঞতা অর্জনই ছিল লক্ষ্য। তাই তিন সহপাঠীর দল ‘কারিগর’ প্রথম দিকে খুব একটা সিরিয়াস ছিলেন না। পরীক্ষার চাপে জয়ের নেশাও আড়ালে পড়েছিল। তবে প্রথম রাউন্ড শেষে পাল্টে গেল সবকিছু।

মাইক্রোসফটের ইমাজিন কাপের গেইম ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা আহসানউল্লাহ্ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল কারিগরের সদস্যরা বলছিলেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগের কথা।

karigor_techshohor

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোনেসুল হক,সৌরভ পাল ও ইউসুফ আজাদের সমন্বয়ে গঠিত দলটির তৈরি গেইম ‘প্রিন্স চার্র্মিং’ নজর কেড়েছে অনেকের। প্রথম রাউন্ডে গেইম বোদ্ধাদের প্রশংসায় অনুপ্রাণিত হয়ে চূড়ান্ত রাউন্ডে ছাড়িয়ে গেলেন অন্য সব প্রতিযোগীদের। হয়ে গেলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।

এখন তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনলাইন সেমিফাইনালে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াইয়ের। তাদের স্বপ্ন মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা।

বিচারকদের পর্যবেক্ষণে দেশে তৈরি আন্তর্জাতিক মানের গেইম এটি। তাইতো গেইমটি নিয়ে মাইক্রোসফটের বিশ্বব্যাপী এ আয়োজনে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হতে চায় কারিগর।

গেইমটির গল্প রূপকথার গল্পের মতো। একজন রাজকুমারী, রাজকুমার ও ড্রাগনের চরিত্রকে ঘিরে গেইমটির কাহিনী আবর্তিত হয়। মূল চরিত্রও এ তিনটি। তবে মজার বিষয় হল, এখানে প্রিন্স নয়- ড্রাগনই কাহিনীর নায়ক।

সবাই ড্রাগন হয়ে খেলবে এ গেইমে। রাজকুমারীর প্রেমে পড়া ড্রাগন অত্যাচারী রাজকুমারের হাত থেকে রক্ষা করবে রাজকুমারীকে। রাজকুমার জোর করে রাজকুমারীর রাজ্য দখল করতে চায় এবং রাজকুমারীকে বন্দী করতে চায়। নানা কাহিনী ও চমকপ্রদ ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে গেইমটির কাহিনী। যেখানে ড্রাগনরূপী নায়ক এগিয়ে আসবে রাজকুমারীকে রক্ষায়।

নিজেদের এ উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা, পরিকল্পনা, বিজয়ী হওয়ার অনুভুতি ও স্বপ্নের কথা টেকশহরডটকমকে শুনিয়েছেন করিগরের সদস্যরা।

আজাদ বলেন,মাইক্রোসফটের জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বখ্যাত কোম্পানিটির দেওয়া সব শর্তপূরণ করতে পেরেছে গেইমটি। এটি আপাতত তৈরি করা হয়েছে উইন্ডোজ ফোন ৮ এবং ৮.১ অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী করে।

তরুণ এ শিক্ষার্থী বলেন, গেইমটি আর্কেড এবং স্টোরি মোডে খেলা যায়। খুব সহজ কন্ট্রোল এটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সৌরভের মতে, গেইমটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ফার্স্ট পারসন ভিউ। সাধারণত ফার্স্ট পারসন শুটিং গেইমগুলো খেলতে অনেক ভালোমানের কম্পিউটার বা কনসোলের প্রয়োজন পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এসবের কন্ট্রোল অনেক কঠিন হয়। অন্যদিকে প্লাটফর্মভিত্তিক বা ফ্রি-রানিং গেইমগুলোর কন্ট্রোল অনেক সহজ হয়। তাই আমরা চেষ্টা করেছি নতুন কিছু করার।

karigor_team_techshohor

গেইমের দু’ধরনের ট্রেন্ড বা জেনারেশনকে একসঙ্গে মিলিয়ে দলটি একটি নতুন ধারার প্রচলন করতে চেয়েছে। এতে অনেকটাই সফল হয়েছে তারা বলে উল্লেখ করেন কারিগরের এ সদস্য। তার মতে, সহজ কন্ট্রোল ও ফার্স্ট পারসন ভিউ এ গেইমের মূল বিষয়।

মোনেসুল বলেন, আমরা ত্রিমাত্রিক গেইম নিয়ে কাজ করি। প্রতিযোগিতা শুরুর দিকে মাইক্রোসফটের ক্যাম্পে দ্বিমাত্রিক গেইম তৈরি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়। এরপর কোন প্লাটফর্মে গেইম বানাবো হবে তা নিয়ে বেশ কিছুটা সময় পার হয়। শেষ পর্যন্ত ত্রিমাত্রিম গেইম বানানোর সিদ্ধান্ত নেই সকলে মিলে।

আহসানউল্লাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী জানান, প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার মধ্যে। এরপরও গেইম ক্যটাগরিতে শীর্ষ তিনে জায়গা পাওয়াটা অনেক কঠিন হলেও আমাদের জন্য তা ছিল অনেক আনন্দের।

মোনেসুল জানান, পরীক্ষা শেষে ১৫ দিন এক সঙ্গে এক বাসায় রাতদিন কাজ করি। সেই পরিশ্রমের ফসল হিসাবে দেশ সেরা হওয়ায় তারা বেশ অনুপ্রাণিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাইক্রোসফটের এ প্রতিযোগিতা ছাড়াও তিন বন্ধু আরও এক সহপাঠীকে নিয়ে গত বছর জিপি আইটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোজেক্ট শোতে রোবোটিক্সে চ্যাম্পিয়ন হন।

ভবিষ্যত স্বপ্ন নিয়ে কারিগরের এ তিন স্বপ্নবান সদস্য বলেন, বাংলাদেশে গেম ডেভেলপারের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু প্রতিভা ও আইডিয়ার কোনো অভাব নেই। শুধু সুযোগের অভাবে থেমে আছে অনেক পরিকল্পনা।

দেশের গেম ডেভেলপমেন্টের কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কথা জানান তারা। তবে কাজের পথে অস্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে হতাশ দলটির সবাই। যা তাদের সময় ও কাজের গতি দুটোই নষ্ট করেছে।

*

*

আরও পড়ুন