এক বছরে রাজধানীতে ৪০ হাজার সাইবার অপরাধের অভিযোগ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার অপরাধের সংখ্যা দিনকে দিন যেন বেড়েই চলেছে। শুধু ২০১৭ সালে রাজধানীতে পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ এসেছে অন্তত ৪০ হাজার।

এই অভিযোগগুলোর মধ্যে পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসের মাধ্যমেই শুধু অভিযোগ এসেছে ৫ হাজার ৮৪২টি।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ফেইসবুক ভিত্তিক অপরাধের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট সূত্র।

কিন্তু একেকটি অভিযোগের সুরাহা করতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। আর সে কারণে অভিযোগ নিষ্পত্তি করার হারও খুব একটা বেশী নয় বলে জানেয়ছেন ডিএমিপির এক কর্মকর্তা।

সূত্র বলছে, প্রতিদিন রাজধানীর অর্ধশত থানায় গড়ে তিন চারটা অভিযোগ আসে। আবার থানার বাইরেও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হেল্প ডেস্কেও দেদার অভিযোগ জমা হচ্ছে।

ফলে এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগের সুরাহা কিভাবে হবে, এর কোনো নির্দেশনা নেই। পুলিশ নিজেদের মতো করে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলছিলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ ভাগ অভিযোগই আসে নারীদের থেকে।

সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে পুলিশের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে একটি সাইবার হেল্প ডেস্ক রয়েছে। এই ডেস্কে গত দুই বছরে ১৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে কাট আউট ছবি, অর্থাৎ একজনের নগ্ন ছবির ওপর আরেকজনের মুখ জুড়ে দেওয়া এবং পর্নোগ্রাফির অভিযোগই সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া ইউটিউব ও বিভিন্ন সাইটে এসব পর্নোগ্রাফি ও ছবি ‘আপলোড’ করার হারও অনেক বেশি।

এ সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের গ্রেফতারের হারও নেহাত কম নয়। ২০১৭ সালে এসব অভিযোগে ৭২ জনকে গ্রেফতার করে ডিএমপি। তাছাড়া চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আরো ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে তারা। সম্প্রতি জাতীয় সংসেদ এমন হিসেব তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে কিছু অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ফেইসবুককে জানালেও তার সবকটিতে আবার তারা সাড়া দেয়নি কর্তৃপক্ষ। গত বছর এমন ৪৪টি ই-মেইল করা হলেও ফেইসবুক সাড়া দিয়েছে ২৩টিতে।

পুলিশ বলছে, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করলে মূলত ভূয়া আইডির মাধ্যমে অপরাধ সংগঠনের বিষয়টিই বেশি চোখে পড়ে। আর এ কারণে অনেক সময় অপরাধীকে ধরাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

*

*

আরও পড়ুন