Techno Header Top and Before feature image

প্রতিবাদমুখর বেসিস সদস্যরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নির্বাচন বাতিলের খবর শুনে প্রতিবাদমুখর বেসিস সদস্যরা।

মঙ্গলবার বিকলে কাওরান বাজারস্থ বিডিবিএল ভবনে সংগঠনটির কার্যালয়ে সদস্যরা জড়ো হয়ে এই ঘটনার জবাব চাইছেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তুলছেন।

সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থীসহ শতাধিক সদস্য কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত মো. শফিউল আলম জানান, ঘোষিত তফসিল অনুয়ায়ী নির্বাচন চাই। উদ্ভুত পরিস্থিতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আইনগতভাবে সামাধান করবেন।

দিদারুল আলম সানি বলেন, ৩১ মার্চ তারিখেই নির্বাচন চাই। সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ে এমনটা হতে পারে না।

ফাহিম মাসরুর বলেন, বেসিস নির্বাচন নিয়ে অনেক আগে থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। যেকোনো ভাবে নির্বাচন হতে হবে।

দেলোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, বর্তমান তফসিলেই নির্বাচন চাই। কারও অবহেলার কারণে সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ে এই উদ্ভুত পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বাতিল করে নতুন পুন:তফশিল ঘোষণার নির্দেশ মঙ্গলবার বিকালে জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এবারের নির্বাচনে জনপ্রিয় ক্যাম্পেইন প্লাটফর্ম ‌ভোট ফর রাইট ক্যান্ডিডেটের ফেইসবুক গ্রুপ ও নিজেদের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করতে থাকেন অনেকে। সঙ্গে তারা আহবান জানাতে থাকেন বেসিসে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানানোর।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, বেসিস নির্বাচন নিয়ে ডিটিও থেকে পাওয়া চিঠি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত। বেসিস পরিবারের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই চিঠি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জরুরি বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে। আইনি পরামর্শের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবাদ জানাতে বেসিস অফিসে নিজে যাচ্ছেন জানিয়ে সদস্যদের আসতে আহবান করে সাবেক বেসিস সভাপতি শামীম আহসান লিখেছেন, সবাইকে একত্রিত হয়ে বেসিসকে এবার জঞ্জাল মুক্ত করতেই হবে।

আবুল কাশেম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এভাবে যে, বেসিসের সদস্যপদের দরকার নেই। দয়া করে তা বাতিল করে দিন। নিজেকে নোংরা লাগছে।

নিয়ামুল হাসান নামে আরেক সদস্য আহবান জানিয়েছেন, ‌প্রতিবাদ করুন, শুনতে বাধ্য হবে, না হলে মেরুদণ্ডহীন বেসিস আমরা চাই না, আমরা মেম্বাররা পদত্যাগ করতে চাই। কে কে আছেন আওয়াজ তোলেন।

বেসিস রক্ষায় সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মোস্তাফা ইসলাম ডিউক লিখেছেন, বাকরুদ্ধ ! বেসিস নির্বাচনে তিনটি প্যানেলই মুখর তখন কার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত। সদস্যরা জবাব চায়।

২০১৭ সালের শুরু হতেই নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নেতাদের মতদ্বৈততা, আপিল-অভিযোগ চলে।

এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখার শুনানি, প্রথম দফায় ৮ জুলাই নির্বাচন বাতিল শেষে একই ইস্যুতে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র পর্যন্ত সংশোধন করা হয়।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনও হয়নি।

শেষে চলতি বছরের ৩১ মার্চ তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার মাত্র তিন দিন আগে আটকে গেল নির্বাচন।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন