জাফর ইকবালের উপর হামলায় পোস্টে পোস্টে নিন্দা, ক্ষোভ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক, পদার্থ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে ওঠে জাফর ইকবালের উপর হামলার নিন্দা ও ক্ষোভে।

ফেইসবুকের টাইম লাইনের ৯০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন, আর হামলাকারীর বিচার চেয়েছেন। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরাও।

Techshohor Youtube

শনিবার সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানের সমাপণীতে পুরস্কার বিরতণীর সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি তার উপর হামলা চালায়। তার মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে অধ্যাপক জাফর ইকবাল সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হামলা খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে।

ফেইসবুকে গণিত বিষয়ক বইয়ের লেখক চমক হাসান লিখেছেন, স্যার সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। আরো বহু আগামী প্রজন্মকে রাঙিয়ে দিতে থাকুন গণিতের রঙে, বিজ্ঞানের কৌতূহলে। আরো বহু প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে থাকুন- দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য কাজ করার। অন্ধেরা কোনোদিন দেখবে না, কতখানি দিয়েছেন দেশটাকে, দিয়ে চলেছেন এখনও। যে কৈশরে আপনিই ভালোবাসতে শিখিয়েছেন দেশকে, ভালোবাসতে শিখিয়েছেন গণিতকে, বিজ্ঞানকে, সৃষ্টিশীলতাকে আর চিন্তার অপার আনন্দকে। ফিরে আসুন পূর্ণশক্তিতে, কিংবা তারও বেশি শক্তি নিয়ে।

আনিকা খান লিখেছেন, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আশঙ্কামুক্ত। ভিন্নমতকে ছুরিকাঘাত করে কতদিন রুখতে পারবে?

ভাষা রায়হান লিখেছেন, ড. জাফর ইকবাল স্যারের উপর সন্ত্রাসী হামলা…এরপর স্যারকে মুখ দেখাবো কিভাবে আমরা ?

শরিফুল হাসান লিখেছেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়েছে। সেই চাপাতি। সেই পেছন থেকে হামলা। পু‌লিশ, ছাত্রছাত্রী সবার সামনে এমন হামলা। মনটা বিষিয়ে আছে। আশার কথা, স্যার আশঙ্কামুক্ত। তবু্ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এই দোয়া করি স্যার। আর হামলার নেপ‌থ্যে কারা সেটা দ্রুত খুঁ‌জে বের করা হোক।

সাহিত্যিক ও শিক্ষক দেব দুলাল গুহ লিখেছেন, সিলেট মেডিকেল হাসপাতালের সামনে ছাত্রছাত্রীদের কান্না দেখুন উৎকণ্ঠা দেখুন, উদ্বেগ দেখুন, স্যারের প্রতি তাদের ভালোবাসাটা দেখুন। এরাই দেশের আগামী প্রজন্ম, এরাই সংখ্যায় বেশি। একজন জাফর ইকবাল এমন কোটি তারুণ্যের একটা প্রজন্ম উপহার দিয়ে গেছেন তার প্রিয় দেশকে। এরাই জঙ্গীবাদকে রুখে দেবে। এখনও সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যায়নি।

তানভীর খন্দকার লিখেছেন, আমিও রক্তাক্ত এবং লজ্জিত।

শুধু নিন্দা ক্ষোভ নয়, অনেকেই তাদের পোস্টে বলছেন, ধৃত হামলাকারীকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে এর পিছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে তা যেনো খুঁজে বের করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ লিখেছেন, ওটি’তে ঢোকার আগে জাফর স্যার নাকি বলেছেন তিনি ‘ওকে’ আছেন। বলেছেন ‘নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন’। তাই যেন হয়! কিন্তু আমরা ‘ওকে’ নাই। এই দেশ ওকে নাই। এই রাষ্ট্র ওকে নাই।

আমরা আর কোন সোশাল কন্ট্রাক্ট ধরে রাখতে পারতেছি না। সমাজের আত্মাও ক্রমশ আততায়ী হয়ে যাচ্ছে…

এই দেশে এই কালে চিন্তা মাত্রই হয় পেছনে আততায়ী নিয়ে ঘোরে, কিম্বা নিজেই আততায়ী হয়ে অন্য চিন্তার পিছু নেয়। হামলাকারীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক। তার পেছনের লোকদের খুঁজে বের করা হোক। তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক। ঘৃণা আর বিদ্বেষের বীজগুলো চিহ্নিত হোক, তাতে সার-পানি দেয়া লোকেরা চিহ্নিত হোক।সকল চিন্তা থেকে জিঘাংসা নিশ্চিহ্ন হোক।

তুসিন আহমেদ

*

*

আরও পড়ুন