Techno Header Top and Before feature image

ডব্লিউইএফে পলক, সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষজ্ঞ তৈরিতে পিপিপি মডেলের খোঁজ

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের উপায় খুঁজছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ  ‘সিকিউরিং আ কমন ফিউচার ইন সাইবার স্পেস’ শীর্ষক সেমিনারে সাইবার স্পেসে বাংলাদেশের আক্রান্ত হওয়া ও সাইবার নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন পলক।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী সেমিনারের প্যানেলিস্টদের কাছে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন রাখেন ।

বাংলাদেশের ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ইয়াং গ্লোবাল লিডার হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন,  ‘বিগত বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমরা ৮১ বিলিয়ন ডলার হ্যাকারদের কাছে খুইয়েছি, ফলে সাইবার নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়ার হুঁশিয়ারি বলা যায় পেয়েছি ।’

‘আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করতে যাচ্ছি, যার মাঝে থাকছে ডিজিটাল ফরেন্সিক ল্যাব, সাইবার হামলাকারীদের খুঁজে বের করাই হবে তার কাজ । পরবর্তী ধাপ হিসেবে অবশ্যই হামলাকারীদের ধরিয়ে জন্য অন্যান্য দেশের সাহায্য প্রয়োজন, তবে দেশীয় নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষমতা তৈরিও খুবই গুরত্বপূর্ণ। অতএব, প্রথম প্রয়োজন হামলাকারীদের শনাক্ত করা, দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তৃতীয় দক্ষ নিরাপত্তা গবেষক মানবসম্পদ তৈরি।’

‘আমি প্যানেলিস্টদের কাছে জানতে চাই, কিভাবে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবে এই নিরাপত্তা গবেষক তৈরি করতে পারবে?’

উত্তরে মাস্টারকার্ডের প্রধান ব্র্যান্ড নির্বাহী টিমেথি মার্ফি বলেন, বেসরকারি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম যারা চালান তাদের মূল চ্যালেঞ্জ চাহিদার তূলনায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ঘাটতি। বিশ্বে বেশিরভাগ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে থাকে। যেমন মাস্টারকার্ডের সেন্ট লুইসে একটি কার্যালয় রয়েছে যারা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে কাজ করে থাকে। আমি মনে করি, দিন শেষে খুবই জরুরি প্রয়োজনীয় শিক্ষা ক্ষেত্রগুলোতে পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ব‌ুদ্ধ করা। যার মাধ্যমে এ ঘাটতি সহজেই পুরণ করা সম্ভব।’

বেসরকারি ও সরকারি সেক্টরের মাঝে কোলাবরেশনেও সমস্যাও কাটিয়ে ওঠা জরুরি উল্লেখ করে টিমেথি মার্ফি বলেন, আমেরিকাতে শিক্ষার্থীদের বড় সমস্যা শিক্ষা ঋণের বোঝা আবার সরকারের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ একেবারেই নেই। দুটি সমস্যা একত্রে ঠিক করার জন্য আমরা চালু করেছি মাস্টারকার্ডের জন্য দু’বছর কাজ করে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত শিক্ষা লোন মওকুফ করে দেয়া হবে। এমন কিছু করে নতুন গ্রাজুয়েটদের সরকারি কাজ করার জন্য উদ্ব‌ুদ্ধ করা যেতে পারে।

এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কুদেলস্কি গ্র‌ুপের প্রধান নির্বাহী আন্দ্রেই কুদেলস্কিও পলকের প্রশ্নে আলোচনা রাখেন।

তিনি বলেন, ই-ইউনিভার্সিটি, হ্যাকারদের মত স্বেচ্ছায় শিক্ষা ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটি দেখতে হবে। যেখানে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে শিক্ষার্থীদের কোর্স তৈরি করে পড়াশোনার সিলেবাস নির্ধারণ করে দিতে হচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। হ্যাকারদের এসব কিছুই করতে হচ্ছে না। তাদের সবটুকুই শেখা অনলাইন ঘেঁটেই। তার অর্থ সবকিছু অনলাইনে এর মাঝেই রয়েছে, শুধু খুঁজে নেয়া বাকি। হ্যাকারদের নিজেকে প্রমাণ করার জন্য পরীক্ষা দেয়া বা মার্কস পাওয়ার দরকার নেই, শুধু হামলা করতে পারলেই হলো। হ্যাকারদের মত দ্রুতমুখী শিক্ষা চালু করা গেলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পেতেও দেরী হবে না।

এস এম তাহমিদ

*

*

আরও পড়ুন