হ্যাকড হওয়ার চিন্তা নাকি দুশ্চিন্তা!

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হ্যাকড হতে কে-ই বা চায়? হ্যাক হওয়া মানেই নিজের ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়া। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিপদও হতে পারে। তাই চারিদিকে কেবল হ্যাকিং থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। কিভাবে অনলাইনে নিজেকে আরও সুরক্ষিত করা যায়, নতুন নতুন পদ্ধতি জানাচ্ছে প্রযুক্তি ওয়েবসাইটগুলো।

তবে অনলাইনে নতুন অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে নিচের ধাপগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনতে পারেন। আপনার অ্যাকাউন্ট যদি কখনো হ্যাকড না হয়ে থাকে, তাহলে একটা সুযোগ দিয়েই দেখুন না হ্যাকারদের!

অন্যদিকে এ প্রতিবেদনকে উল্টোভাবেও বিবেচনা করতে পারেন। নিচের কাজগুলো থেকে বিরত থাকলে আপনার অনলাইন কার্যক্রম সব সময় নিরাপদ থাকবে।

hack_techshohor

সহজ পাসওয়ার্ড
যেদিন থেকে পাসওয়ার্ডের শুরু, সেদিন থেকে সবচেয়ে কমন পাসওয়ার্ড হলো ‘পাসওয়ার্ড’। অবশ্য সম্প্রতি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ডের তালিকার শীর্ষে এসেছে- ১২৩৪৫৬।

আপনার অ্যাকাউন্ট যদি হ্যাকারদের জন্য খুলে দিতে চান, তাহলে এ রকম অতি সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন! ইন্টারনেটে খুঁজলেই সবচেয়ে সহজ পাসওয়ার্ডগুলোর তালিকা পাবেন, সেখান থেকে একটা বসিয়ে দিন।

নিজের নাম, ফোন নম্বর, কিউডব্লিউইআরটিওয়াই, আইলাভইউ, এবিসি১২৩ ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন।

সবখানে একই পাসওয়ার্ড
অনলাইন জগতে বিচরণের শুরুতে সবাই এ কাজ করতেন। যাবতীয় সব অ্যাকাউন্টে একটা মাত্র পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেন। ফলে হ্যাকাররা যদি কোনোভাবে একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানতে পারে তাহলেই কেল্লা ফতে। আপনার সমস্ত অনলাইন অ্যাকাউন্ট তছনছ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

হ্যাকারদের সুবিধার জন্য এ পুরনো পদ্ধতিতে আবার ফিরে যেতে পারেন। ফেইসবুক, ই-মেইল, টুইটার সবখানে একই পাসওয়ার্ড দিতে পারেন।

Bitcoin hack-TechShohor

ফোন ভেরিফিকেশন নয়
ফেইসবুক, জিমেইল, ইয়াহুসহ বেশিরভাগ মেইল সার্ভিসে এখন ফোন ভেরিফিকেশন রয়েছে। এটি সার্বিক নিরাপত্তাকে অনেক সুরক্ষিত করে। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সরাসরি নতুন পাসওয়ার্ড দেওয়ার বদলে আগে ফোনে সিকিউরিটি কোড পাঠানো হয়।

ফোন ভেরিফিকেশন ব্যবহার না করলে আপনার অনলাইন নিরাপত্তা অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে। টু-ওয়ে ভেরিফিকেশন হবে না, সাইটগুলোকে কেবল আপনার ইমেইল আইডির উপর নির্ভর করতে হবে। হ্যাকাররাও তাই বাড়তি সুযোগ পেয়ে যাবে। এবং একবার হ্যাক হলে সেটা পুনরুদ্ধার করাও কষ্ট হবে!

স্প্যামে ক্লিক করুন
যেচে যদি কেউ ফাঁদে পা দিতে চান, তাদের জন্য স্প্যাম মেইলের চেয়ে ভালো কি হতে পারে! আপনার মেইলে প্রতিদিন জমা হওয়া স্প্যাম থেকে কিছু স্প্যাম মেইল ওপেন করুন।

সাধারণত এসবে একটি লগইন লিংক দেওয়া থাকে। চেহারা থাকে পেপল, আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের। লিংকে ক্লিক করলেই হ্যাকারের হাতে আপনার আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ!

টাকা দিয়ে সাহায্য নিন
ইয়াহু, গুগল, ফেইসবুক, টুইটারের মতো শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের কাছ টাকা নেয় না। বরং আপনি ফোন করার অনুরোধ করলে বিনামূল্যে আপনাকে ফোন করে সমস্যার সমাধানও করে দেবে।

অন্যদিকে এমন অনেক সাইট পাবেন, যারা ডলারের বদলে আকর্ষণীয় সেবা দেওয়ার অফার দেবে। ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টের যে কোনো সমস্যার সমাধান বা পরমার্শ দেওয়ার নাম করে এসব সাইট আসলে আপনার ইমেইল ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেবে। হ্যাকড হওয়ার ইচ্ছা তীব্র হলে এমন কোনো ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করুন!

Related posts

*

*

Top