রাউটার বিষয়ক জিজ্ঞাসা ও সমাধান

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। তারের ঝামেলায় এখন আর জড়াতে চান না ব্যবহারকারীরা। এ কারণে সর্ম্পূণ বাড়ি কিংবা অফিসকে ওয়াই-ফাই জোনে পরিণত করা হচ্ছে। তবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক সঙ্গে অনেক কম্পিউটার ব্যবহারে প্রয়োজন রাউটার ডিভাইস।

রাউটার ব্যবহারকারীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয় ওয়্যারলেস বা রাউটার ব্যবহার সর্ম্পকে সঠিক ধারণ না থাকার কারণে। রাউটারের নিরাপত্তা রক্ষায় কি করতে হবে সেটিও জানতে চান অনেকে। রাউটার কত ধরণের হয়ে থাকে- তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন করা হয়, তেমনি কি ধরনের রাউটার ব্যবহার করা উচিত সেটা জানতে চাওয়ার সংখ্যাও কম নয়।

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে টিউটোরিয়ালটিতে।

routerwifi_techshohor

রাউটার কি?
এক কথায় বলা যায় এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডেটা পাঠানোর পদ্ধতিকে বলা হয় রাউটিং। আর রাউটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস হলো রাউটার।
রাউটার প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

ওয়্যারলেস রাউটার
এটি এমন একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা একটি রাউটারের সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি ওয়্যারলেস এক্সেস পয়েন্ট হিসেবেও কাজ করতে পারে। এটি ব্যবহার করে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট এক্সেস দেওয়া হয় তারের সংযোগ ছাড়াই। এটি ওয়্যারড ল্যান, ওয়্যারলেস ল্যান অথবা সমন্বিত ওয়্যারড নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়।

ওয়্যারড রাউটার
ওয়্যারড রাউটার ইথারনেট ক্যাবল দিয়ে অন্যান্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসের সাথে যুক্ত করা হয়। এটি মানসম্মত এবং সহজে ১০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড ব্যান্ডউইডথ গতিতে ডেটা স্থানান্তর করতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী রাউটার নির্বাচন
কোন রাউটারটি আপনার জন্য উপযোগী তা বেছে নেওয়া কষ্টকর। কোনটি ভাল, কোন ধরণের রাউটার কেনা উচিত তা নিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয় অনেক ব্যবহারকারীরা কাছে। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রাউটার পাওয়া যাচ্ছে। তাই রাউটার কেনার আগে মনে রাখতে হবে এটির পারফরমেন্স যেন পর্যাপ্ত ওয়ারলেস কাভারেজ দেয় এবং আগামী কয়েক বছরে আপগ্রেড করতে না হয়।

বাসা-বাড়িতে সাধারণ ব্যবহারের জন্য কমদামের রাউটার হলেও চলে। সেক্ষে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাউটার পাওয়া যায়।

যদি সিকিউরিটি, প্যারেনটাল কণ্ট্রোল, ইউএসবি প্রিণ্টার, এক্সটার্নাল স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে বেশি দামের এবং ওয়ারলেস কাভারেজ বেশি এমন রাউটার কেনা উচিত।

হেভি ডিউটি গেমার, মাল্টিমিডিয়া আউট সোর্সার হলে সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে কিছু রাউটার পাওয়া যায় যেগুলো প্রতিনিয়ত হাই ডেফিনিশন ভিডিও স্ট্রিমিং বা বড় ফাইল শেয়ারে কাজ করে থাকে।

আগে বাজারে সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির রাউটার পাওয়া যেত। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে রাউটারের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ১৯০০ এমবিপিএস গতির রাউটারও পাওয়া যায়। রাউটার প্যাকেজিংয়ে তিনটি ডিজিটের মাধ্যমে গতি দেওয়া থাকে।

রাউটারের নিরাপত্তায় করনীয়
১. রাউটার কোম্পানিগুলো প্রস্তুতকারক ভেদে প্রাথমিকভাবে একই ধরনের ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে পণ্য বাজারজাত করে থাকে। এই ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ডগুলো বের করা খুব একটা কঠিন কিছু নয়। তাই, কেনার পর একটু সময় নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রি-ডিফাইন্ড ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত।

২. খুব বেশি দরকার না হলে রাউটারের রিমোট অ্যাকসেসের সুবিধাটি বন্ধ রাখা উচিত। ‘রিমোট এক্সেস’ সুবিধাটি হচ্ছে- এর মাধ্যমে রাউটারটি রিমোট এক্সেসড করে রাখা রাউটারটি দূরের কোনো কম্পিউটার থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই যদি অন্য কোনো ব্যবহারকারী আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকে পরে তবে খুব সহজেই সে ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে আপনার রাউটারটিতে এক্সেস করতে পারবে।

৩. ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড ভাঙ্গার জন্য বেশ কিছু শক্তিশারী প্রোগ্রাম রয়েছে। তাই সঠিকভাবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনি WPA2 সুবিধাটি ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে সর্বোচ্চ ৬৩টি অক্ষর বিশিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়।

৪. রাউটারের ফার্মওয়্যারের আপডেট খুব বেশি আসে না। কারণ রাউটারের ফার্মওয়্যার তৈরির সময় এটির প্রোগ্রামিং স্ট্রাকচার প্রথম থেকেই বেশ স্ট্যাবল করে তৈরি করা হয়। তবুও মাঝে মাঝে নানা ক্রুটি (বাগ) দূর করে রাউটারের ফার্মওয়্যারের আপডেট বাজারে আনা হয়। তাই চেক করে সবসময় আপডেট ফার্মওয়্যারটি ব্যবহার করা উচিত।

Related posts

*

*

Top