ভাইরাস বিষয়ক জ্ঞিজ্ঞাসা ও সমাধান

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে ভাইরাস একটি অতি পরিচিত শব্দ। অনেকের কাছে আতঙ্কও এটি। সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে তাই এ বিষয়ে অনেক জিজ্ঞাসা থাকে।

কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা কিভাবে বোঝা যায়? ভাইরাস থেকে কেমন করে মুক্তি থাকা যায়-ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
টিউটোরিয়ালভিত্তিক এ প্রতিবেদনে ভাইরাসবিষয়ক বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সমাধানগুলো তুলে ধরা হলো।

virous_techshohor

ভাইরাস কি?
ইংরেজি ভাইরাস শব্দটির অর্থ হলো ‘ভাইটাল ইনফরমেশান রিসার্স ভেনডার সাইজ’ অর্থাৎ, ‘গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে’। ভাইরাসের নামকরণ করেন গবেষক ফ্রেড কোহেন। কম্পিউটার ভাইরাস হল এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং যা কম্পিউটারের সংরক্ষিত ‘ফাইল ও ডিষ্ক’ এর অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিকে নষ্ট করে দেয়।

সহজ ভাষায় বলা যায়, যে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের ক্ষতি সাধন করে তাই কম্পিউটার ভাইরাস। যেমন ছোট্ট কয়েক লাইনের ব্যাচ কোড তেমন জটিল না- এ প্রোগ্রামে কমান্ড দেওয়া থাকবে যে এটি কম্পিউটারের প্রতিটি ড্রাইভে তার একটি প্রতিলিপি তৈরি করবে। এটিই হলো একটি ভাইরাস।

ভাইরাস আক্রমণ হলে কিভাবে বোঝা যাবে?
অনেক ব্যবহারকারী কাছে বিষয়টি পরিষ্কার নয়- কখন কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিংবা ভইরাস আক্রান্ত হলে কম্পিউটারে কি কি উপসর্গ দেখা দেয়। ভাইরাস আক্রান্ত হলে ডিভাইসের নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেবে-

প্রোগাম লোড হতে বেশি সমায় লাগে।

ডিস্ক থেকে যে কোনো ফাইল কপি করতে বেশি সময় লাগে।

সংরক্ষিত ফাইল অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে অজ্ঞাত কোনো ফাইল চলে আসতে পারে।

হঠাৎ অদ্ভুত সব নির্দেশ স্কিনে আসতে শুরু করে।

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ কম্পিউটার বুট করতে শুরু করে।

এক্সিকিউটেবল ফাইল এর পরিবর্তন ঘটে।

যে কোনো ফাইল ডিলেট হয়ে যেতে পারে।

কম্পিউটার ওপেন এবং বন্ধ করতে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু ভাইরাস হার্ড ডিস্কের বুট সেক্টরে আক্রমন করে। ফলে হার্ড ডিস্ক ফরমেট ছাড়া উপায় থাকে না।

ভাইরাস প্রতিকারে করনীয়
কম্পিউটারে নতুন সংস্করণের শক্তিশালী এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইন্সটল করে নিয়মিত ভাইরাস ডেফিনেশন ফাইল আপডেট রাখা এবং নিয়মিত কম্পিউটারের সব ড্রাইভগুলো স্ক্যান করা।

এন্টিভাইরাস হিসেবে মাইক্রোসফট  সিকিউরিটি  এ্যাসেনসিয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মাইক্রোসফটের তৈরি এন্টিভাইরাস। এটি খুব শক্তিশালী। বিনামূল্যে এটি এখানে থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

ই-মেইল ব্যবহার সর্তক হতে হবে। এটাচমেন্ট ফাইল জেনে শুনে খোলা উচিত। অপরিচিতজনদের ই-মেইল এটাচমেন্ট ফাইল ডাউনলোড না করাই ভালো। ই-মেইলে কোনো ফাইল ডাউনলোড করার আগে ভাল করে যাচাই করে নেওয়া উচিত। এখন অনেক ভাইরাস মেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে।

কম্পিউটারের ফাইল ব্যাকআপ রাখতে হবে। অন্য কোনো হার্ডডিস্ক সিডিতে রাইট করে কিংবা অনলাইনের ক্লাউড স্টোরেজে মিডিয়া ফায়ার/ড্রপবক্স প্রভৃতি সাইটে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যকআপ রাখা যেতে পারে। যাতে ভাইরাসের আক্রমণে কম্পিউটারের সকল ফাইল ডিলেট হলেও প্রয়োজনীয় ফাইনগুলো পরবর্তীতে পাওয়া যায়।

মাত্রাতিরিক্ত ভাইরাসের আক্রমণ ঘটলে অপারেটিং সিস্টেমটি নতুন করে সেটআপ করা উচিত। এরপর ভালো এন্টিভাইরাস দিযে প্রথমেই স্ক্যান করে নিতে হবে। তারপর অনান্য সফটওয়্যার সেটআপ করতে হবে।

যে কোনো প্রকারের হার্ডডিক্স, পেনড্রাইভ, সিডি/ডিভিডি ব্যবহারের পূর্বে এন্টিভাইরাস সফ্‌টওয়ার দিয়ে ভাইরাস চেক করে ব্যবহার করা উচিত।

কম্পিউটার ব্যবহারে সচেতন থাকলে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

Related posts

*

*

Top