কখন আপগ্রেড করবেন?

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তিপণ্যের স্বর্ণযুগ চলছে এখন। তবে এ যুগেও ঝুট ঝামেলার অন্ত নেই। কোনো গ্যাজেট কিনে স্বস্তি নেই। দু’দিন যেতে না যেতেই চলে আসে সদ্য কেনা ডিভাইসের আপগ্রেড কিংবা নতুন ফিচারের আনকোরা কোনো ডিভাইস। বর্তমান গ্যাজেটই কি আরও কিছুদিন ব্যবহার করবেন, নাকি আপগ্রেডের দিকে যাবেন- চিন্তা করে অনেকে হয়রান হন।

সহজ কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখলে এ রকম ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। এ টিউটোরিয়ালে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

Valuable Domain Name-TechShohor

হার্ডওয়্যারে সমস্যা
আপনার ডিভাইসটির হার্ডওয়্যার ঠিকঠাক আছে কিনা তা সহজে বোঝার অনেক উপায় আছে। নিজে নিজে রিস্টার্ট হওয়া, কাজের মাঝে আটকে যাওয়া, ঠিকভাবে চার্জ না হওয়া- ইত্যাদি সব ধরনের গ্যাজেটের জন্য প্রযোজ্য।

ফোনের স্ক্রিনের সমস্যা হলে স্ক্রিনের ওপর বিচ্ছিন্ন দাগ বা পিক্সেল দেখা যেতে পারে। ব্যাটারিতে সমস্যা হলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে কিংবা আদৌ চার্জই হবে না। ক্যামেরায় সমস্যা হলে অনেকসময় ছবি ওঠে না কিংবা স্ক্রিনের দাগ দেখা যায়।

বর্তমানে কম্পিউটারের জন্য অনেক সফটওয়্যার ও স্মার্ট ডিভাইসের জন্য অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো দিয়ে আপনার হার্ডওয়্যারগুলো পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ত্রুটি পেলে বুঝবেন, ডিভাইসটি পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।

নির্মাতাদের সাপোর্ট নেই
উইন্ডোজ এক্সপি বা পুরাতন মডেলের স্মার্টফোন যারা ব্যবহার করেন, তারা ভালোভাবেই সমস্যাটি বুঝবেন! এর সাথে ডিভাইসের কোনো সমস্যা নেই। ডিভাইস ঠিকঠাক চললেও সমস্যা হলো, এর নির্মাতারা এ মডেলের জন্য সবরকম গ্রাহক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

যেমন- আপনার কাছে যদি প্রথম প্রজন্মের আইফোন থাকে, তাহলে এর ব্যাপারে অ্যাপল কোনো রকম সাহায্য করবে না। সেই আইফোন এখনকার আইওএসের বেশিরভাগ জিনিসই সাপোর্ট করবে না, তাই আপনি আসলে সবদিক থেকেই পিছিয়ে থাকছেন।

এরকম ক্ষেত্রেও ডিভাইসটি বদলে নেওয়া জরুরি। নাহলে ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিৎ হবেন।

নতুন অ্যাপ্লিকেশন চালাতে ব্যর্থ
নতুন নতুন ডিভাইসগুলো ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকা অ্যাপ্লিকেশন বাজারের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। যে কারনে নতুন সব রকম অ্যাপ কিংবা সুবিধা এসব ডিভাইসের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারবেন। হাইএন্ড ডিভাইস হলে তো কথাই নেই; ষোল আনা আনন্দ পাবেন সবকিছু থেকে।

laptop_techshohor

কিন্তু আপনার কাছে যদি দুর্বল কনফিগারেশনের ডিভাইস থাকে, তাহলে হয়তো আপনি ৯০ ভাগ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না। যেমনও- অ্যান্ড্রয়েডের শুরুর দিকের গেইমগুলো ৫১২ মেগাবাইট র‍্যামে মসৃণভাবে চলতো। নতুন অনেক গেম ১ গিগাবাইট র‍্যামেও মসৃণভাবে চলে না। তাই আপনি যদি ৫১২ মেগাবাইট র‍্যামের ফোনের মালিক হন এবং নতুন সুবিধাগুলো উপভোগ করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপগ্রেড করে নিন।

যদি তাল মেলাতে চান
প্রযুক্তিবিশ্বের সাথে আপনি সমানভাবে তাল মেলাতে চান- এতটুকুই আপনার যে কোনো গ্যাজেট আপডেট করার জন্য যথেষ্ট। হতে পারে আপনার হাতের ফোনটি দিয়ে এ মুহূর্তে সব প্রয়োজনই মিটছে। এর চেয়ে বেশি আপনার আপাতত দরকার নেই। তারপরও কিন্তু অন্য নতুন প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। যেমন- আপনি খুব সাধারণ ব্যবহারকারী হলে সাধারণ একটি ফোন দিয়েই আপনার সব কাজ চলতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড আপনার দরকার নেই। তারপরও কিন্তু নিজের অজান্তে স্মার্টফোনের বিশাল ক্যানভাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে যে কোনো আপগ্রেড মানেই টাকা খরচ। নতুন পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি। তাই কেনার আগে ভেবে নিন আপনার চাহিদা কতটুকু। সে অনুযায়ী আপগ্রেড করুন। এটা মাথায় রাখবেন, আপনার আপগ্রেডটিও হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাকডেটেড হয়ে যাবে। আফসোস থেকে বাঁচার জন্য তাই ভেবেচিন্তে আপগ্রেড করুন।

আপগ্রেড সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে বা কিছু জানতে চাইলে টেক শহরের বিশেষজ্ঞরা আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। জিজ্ঞাসা বিভাগে প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন।

Related posts

*

*

Top