Maintance

ফোরজির সংশোধিত নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, জানুয়ারিতে লাইসেন্স

প্রকাশঃ ১:১৬ পূর্বাহ্ন, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:৫৭ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২৯, ২০১৭

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজির সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার দাপ্তরিক কিছু প্রক্রিয়া শেষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফোরজি নিলামের বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে দেয়া হবে।

আবেদন সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার জন্য অপারেটরগুলোকে ১০ দিনের মতো সময় দেওয়া হতে পারে। আর আবেদন জমা দেওয়ার পর ৪৫ দিন পর হবে স্পেকট্রামের নিলাম।

টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

4G-techshohor

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের আগেই  সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালায় স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা ফি নিয়ে অপারেটরগুলো কিছুটা অখুশি ছিল ।  তারা এই ফি প্রতি মেগাহার্জ ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিলেন। স্পেকট্রামের নিলামের দামেও ছাড় চেয়েছিলেন।

চূড়ান্ত হওয়ার আগে টেলিযোগাযোগ বিভাগের সঙ্গে এসব নিয়ে আলোচনায় ডাক পাওয়ার অপেক্ষা করেছিলেন তারা। কিন্তু এ নিয়ে তাদের আর ডাকা হয়নি। সরকার স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা ফি প্রতি মেগাহার্জে ৪০ লাখ ডলার রেখেছে।

মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে টেলিযোগাযোগ বিভাগ-বিটিআরসি পুরো বিষয়টি যেভাবে পজিটিভলি রিভিউ করেছেন তা বেশ প্রশংসিত। আমরা তাতে আশ্বস্ত।’

‘তবে সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালাটি চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় পাঠানোর আগে আমরা আরেকবার মতামতের সুযোগ চেয়েছিলাম। কারণ এটি একটি ইনভেস্টমেন্ট সিদ্ধান্ত, ইনভেস্টমেন্টের জন্য এ বিষয়গুলো খুব জরুরি।’-বলছিলেন নূরুল কবীর।

4g-techshohor

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার এ নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী । কিন্তু এটি হাতে পাওয়ার পর তখন অপারেটরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩টি আপত্তি দেয়। ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এসব আপত্তির অধিকাংশই সমাধান করে দেন।

এরপর বিটিআরসি অপারেটরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার মূল্য নির্ধারণ করে সংশোধিত নীতিমালাটি ৮ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয়বার এই ফোরজি নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেন।

এতে ফোরজির ন্যূনতম গতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ২০ এমবিপিএস, যেখানে মহাসড়কে চলাচলকালে ও ট্রেনে ভ্রমণের সময় শুধু ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন হতে পারবে।

এই নীতিমালা অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্জ, ১৮০০ মেগাহার্জ এবং ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে। যার মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্জের নিলামের ফ্লোর মূল্য হবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের নিলামের ভিত্তি মূল্য হবে তিন কোটি ডলার।

এছাড়া নীতিমালায় অপারেটগুলোর যেসব আপত্তি প্রধানমন্ত্রীর তথপ্রযুক্তি উপদেষ্টা যেভাবে সমাধান করে দিয়েছিলেন সেগুলো সেভাবেই রাখা হয়েছে।

অপারেটরগুলোর ওইসব আপত্তির মধ্যে অন্যতম ছিল গ্রাহক ডেটা ১২ বছর সংরক্ষণ করা, দেশী ব্যাংক হতে ঋণ নেয়া বা স্থানীয় বিনিয়োগের সুযোগ না রাখা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল খরচের ক্ষেত্রে বিটিআরসির অনুমতি নেয়া, সময় সময় সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগির অংশে পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখা, ফোরজি ডেটার গতি ও গ্রাহকের অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেয়া।

*

*

Related posts/