কাজ শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাইছে বিটিআরসি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাজস্ব ভাগাভাগির ৮৫০ কোটি টাকা বকেয়া ফেরত পেতে ১০ আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ঘটনা তিন মাস আগের। অথচ এখন সরকারের কাছে এ বিষয়ে অনুমোদন চাইছে কমিশন।

জানা গেছে, সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের কাছে এ বিষয়ে ভূতপূর্ব অনুমোদন চেয়েছে বিটিআরসি। এর মধ্যে চার কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

সব মিলে ১০ কোম্পানির কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়ার পরিমান সাড়ে আটশ কোটি টাকার বেশি। অর্থ আদায়ে এর আগে চিঠি দিয়ে উদ্যোগ নিলেও সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এসব প্রতিষ্ঠান কোনো গা করেনি।

IGW-image_techshohor

আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার তিন মাস পরে অনুমোদন চাওয়ার বিষয়টিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ভালোভাবে না নিলেও এখন তাদের কিছু করার নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কমিশন আইন বর্হিভূতভাবে অতিরিক্ত ক্ষমতা ভোগ করে সেটি ‘জায়েজ’ করতে পরে অনুমোদন চাইছে।

সরকারের বিপুল অর্থ সংশ্লিষ্টতা থাকায় এখন ভূতপূর্ভ অনুমোদন দেওয়া ছাড়া মন্ত্রণলায়ের ভিন্ন কোনো পথও নেই। আগেও এরকম ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও কমিশনের কর্মকর্তারা এতে গা করছে না।

বর্তমানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের কোম্পানি ভিশন টেলের কাছে ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানকের কোম্পানির কাছে ৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের কোম্পানি টেলিকমিউনিকেশন্সের কাছে সাড়ে ৯১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

এর বাইরে বেস্ট টেকের কাছে ১২৭ কোটি, টেলেক্সের কাছে সাড়ে ৯২ এবং অ্যাপল গ্লোবটেল লিমিটেডের কাছে ৫৮ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে বিটিআরসির।

গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এ কোম্পানিগুলোর কাছে এ টাকা বাকি পড়েছে। তারপর থেকে এগুলোর আর কোনো খোঁজ নেই।

এগুলোর মধ্যে ভিশনটেল, কে টেলিকম, বেস্ট টেক এবং টেলেক্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

আর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের মস ফাইভ লিমিটেড, এসএম কমিউনিকেশন্স, র্যা কংস টেল এবং সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সকে লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশর দেওয়া হয়েছে।

Related posts

*

*

Top