স্যাটেলাইটের স্লট কেনার অর্থ দিতে ব্যর্থ সরকার

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজস্ব উপগ্রহ উৎক্ষেপনে অরিবিটাল স্লট কিনতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি সরকার।

এতে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) উৎক্ষেপন প্রক্রিয়া আবারও পিছিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

তবে সরকার অর্থ পরিশোধে রাশিয়ার স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পুটনিকের কাছে কিছুটা সময় চাইবে। কিন্তু এতে সাড়া না মিললে থমকে যেতে যারে মহাশূন্যে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের কাজ বলে সংশ্লিষ্টদের আশংকা।

Bangabandhu-1 Satellite-TechShohor

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চের মধ্যে ১১৯ পূর্ব দ্রাঘিমার অরবিটাল স্লট কেনার জন্য স্পুটনিককে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমান ২১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি সরকার।

এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন নিয়ে এক রকম দোটানা তৈরি হয়েছে। গত সাত বছর ধরে কাজ করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যখন একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছে, তখন সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা এবং ব্যবসায়িক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা খরচের এ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বিটিআরসির বৈঠকে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অনেক কর্মকর্তা সরাসরি এর বিরোধতা করেন। তারা কমিশনের কর্মকর্তাদের নতুন করে ব্যয়ের হিসেবে করার কথা বলেছেন।

তবে বিটিআরসি বলছে, ব্যবসা কোনো সমস্যা নয়। মাত্র সাত বছরেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের খরচ ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার পুরোটাই উঠে আসবে বলে হিসেব করেছে তারা।

ওই বৈঠকে বিটিআরসি অরবিটাল স্লটের টাকা ছাড় করার জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু এ জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮ কোটি টাকা ছাড় করা হয়নি বলে স্পুটনিককে তা পরিশোধ করা যায়নি।

এর আগে ২০১২ সালে স্পুটনিকের সঙ্গে বিটিআরসির একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়। সেই অনুসারে ১১৯ পূর্ব দ্রাঘিমার স্লটটি বাংলাদেশকে দিতে রাজি হয় কোম্পানিটি।

প্রথমে এর মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল সাড়ে তিন কোটি ডলার। পরে ওই স্লটের ৩ হাজার ২০০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের অর্ধেকটা স্পুটনিককে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার শর্তে স্লটের মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখন সব কিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্পুটনিকের কাছ থেকে স্লট কেনার আগে স্যাটেলাইটের জন্য নিজেদের প্রথম অরবিটাল স্লট ১০২ ডিগ্রি পূর্বে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে অনেক আপত্তি পড়েছে। সেগুলো নিস্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। সে কারণে রাশিয়ান কোম্পানিটির কাছ থেকে ১১৯ ডিগ্রি পূর্বে ১৫ বছরের জন্য স্লট কেনার চুক্তি করে বিটিআরসি।

বাংলাদেশ আরও যে দুটি অরবিটাল স্লটের জন্য আবেদন করেছে সেগুলো ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৩৫ ডিগ্রি পূর্বে। প্রথমটি বাংলাদেশের জন্য অনেক কাজের হলেও দ্বিতীয়টি অনেক দূরে হয়ে যাবে। তারপরেও নিজেদের স্লট পাওয়ার চেষ্টা করছে বিটিআরসি।

এদিকে বিটিআরসির বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের পরামর্শক ছিল মার্কিন কোম্পানি এসপিআই। তাদের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তবে কোনো সম্মানি ছাড়াই কোম্পানিটি আরও ছয় মাস কাজ করতে রাজি হয়েছে। ২০১২ সালে এ কোম্পানির সঙ্গে ৮৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

স্যাটেলাইট থেকে আয়ের ক্ষেত্রে বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, এর ৭০ শতাংশ হবে বিদেশ থেকে। বাকি মাত্র ৩০ শতাংশ আয় আসবে স্থানীয় পর্যায় থেকে।

তবে এ হিসাবে সন্তুষ্ঠু হতে পারেননি অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা প্রশ্ন করেছেন, বিটিআরসির হিসাবে বিদেশি আয় হিসেবে প্রতিবেশি দেশগুলোর এ সংশ্লিষ্ট চাহিদার কথা বলা হলেও ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ আরও অনেকগুলো দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। সেক্ষেত্রে বলা সহজ হলেও বাজার ধরাটা সহজ হবে না বিটিআরসির জন্য।

এদিকে সব মিলে ৩ হাজার ২৪৩ টাকা ব্যয়ের সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

এর আগে ২০১১ সালে একনেক বৈঠকে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। তখন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল জুন ২০১৫। এখন এর মেয়ার ২০১৬ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

Related posts

*

*

Top