ব্ল্যাকবেরির জন্য কানাডার হাইকমিশনারের তদবির অব্যাহত

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্ল্যাকবেরির সেবা বাংলাদেশে টিকিয়ে রাখতে একের পর এক তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার হিথার ক্রাউডেন।

ব্ল্যাকবেরির ওপর নজরদারি সম্ভব না হওয়ায় সরকার তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে-এমন খবর প্রকাশের পর থেকে ছুটোছুটি শুরু করেছেন কানাডার এ কূটনৈতিক।

গত মঙ্গলবার ক্রাউডেন দেখা করেছেন টেলিযোগাযোগ সচিব মোঃ আবুবকর সিদ্দিকের সঙ্গে। এবারও তিনি দ্রুত এ সেবা বন্ধ না করতে আহবান জানিয়েছেন।

blackberry_techshohor

আগের সপ্তাহে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের সঙ্গে দেখা করে কানাডাভিত্তিক কোম্পানি ব্ল্যাকবেরির সেবা বন্ধের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতে অনুরোধ জানান হাইকমিশনার।

দেশে কেবল গ্রামীণফোন এবং এয়ারটেল ব্ল্যাকবেরির সেবা দেয়। সব মিলে গ্রাহকের সংখ্যা ৬ হাজার ১৬৪।

ব্ল্যাকবেরি হলো মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম নিরাপদ উপায়। যা কোনো অবস্থায় নজরদারির মধ্যে আনা যায় না।

এর আগে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় ব্ল্যাকবেরির সেবার ওপর গত কয়েক বছর ধরে নজরদারি আনার আলোচনা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার দেশে সার্ভার বসানোর প্রস্তাব করলেও ব্ল্যাকবেরি কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। ফলে সরকার সম্প্রতি এটি বন্ধ করে দিতে বলেছে।

কমিশনের যুক্তি, দেশের অন্য সব অপারেটরদের গ্রাহকদের বিষয়ে বিটিআরসি চাইলে সব জানতে পারে। কেবল ব্ল্যাকবেরির গ্রাহকরাই থেকে যাচ্ছেন এ নজরদারির বাইরে।

জানা গেছে, বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় ব্ল্যাকবেরি প্রযুক্তিতে। তাই গ্রাহকদের এসএমএস, এমএমএস বা কথোপকথনসহ সব ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে নির্দিষ্ট সার্ভারে, যা অন্য কারো পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এ সেবা চালুর শর্ত ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত সার্ভারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিকোডিং সার্ভার স্থাপন করার। কিন্তু তা করেনি অপারেটরগুলো। গ্রাহক কম হওয়ায় দেশে সার্ভার স্থাপনে আগ্রহ নেই তাদের।

২০০৮ সালে গ্রামীণফোন এবং ২০১১ সালে এয়ারটেল ব্ল্যাকবেরি সেবা চালু করে।

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এ সেবার গ্রাহক।

Related posts

*

*

Top