Maintance

ভাষাগত বিভ্রাটে বিভ্রান্ত ছিলেন আইএসপিএবি নেতারা, এখন দু:খ প্রকাশ

প্রকাশঃ ৬:৫০ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, অক্টোবর ২৮, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইনফো সরকার-৩ এর দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা আইএসপিএবি নেতারা দু:খ প্রকাশ করেছেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছানোর এই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত করেছিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনটি।

এরপর অনিয়মের প্রমাণ চেয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে এক বৈঠক করে আইএসপিএবি। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে এনটিটিএন ও আইএসপিদের কাজের আওতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদসহ সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আইএসপিএবির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কার্যনির্বাহী সদস্যগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আইএসপিএবি নেতারা জানান, ‘মূলত পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাষাগত বিভ্রাটের কারণে এই ভূল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। কার্যকর পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যত এমন অনাকাংখিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব বলে মত দেন তারা।’

সংগঠনটির নেতারা এখন বলছেন, ‘একটি মহল এ বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ওই কার্যক্রমে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য আইএসপিএবি দুঃখ প্রকাশ করছে ।’

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বৈঠকে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেই ইনফো সরকার প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কাজ বাস্তাবায়ন করা হবে। এনটিটিএনরা শুধুমাত্র তাদের লাইসেন্সের আওতাধীন কাজ বাস্তবায়ন করবে এবং একইভাবে আইএসপিরা তাদের লাইসেন্স অনুযায়ী নির্ধারিত কাজ করবে।

‘ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের কিছু বিষয়ে মতানৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান’ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছে আইএসপিএবি।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিমের নামে পাঠানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তি।

চলতি বছরের আগস্টে সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিএবি অভিযোগ করেছিল, ‘একনেকের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ৮টি পর্যায়ের দরপত্রকে দুটি ভাগে দিয়ে দিয়েছে বিসিসি। আর এই দুটি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দরপত্র হাতিয়ে নিয়েছে। এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার এখতিয়ার না থাকলেও এ দরপত্রের মাধ্যমে তারা বিধি বহির্ভূত এ সুযোগটি পেয়ে যাচ্ছে।’

এই বক্তব্যের বিপরীতে সরকারের বিসিসি বলেছিল, ‘ডিপিপি অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। ডিপিপির নির্দেশনা অনুসরণ করে এনটিটিএনদের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।’

বিসিসি জানায়, ‘এনটিটিএনদের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে কাজের সুবিধার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ৮টি প্যাকেজকে ২টি প্যাকেজে রূপান্তর করা হয়। এ রূপান্তরে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় করা হয়নি। পরবর্তীতে ডিপিপি সংশোধনকালে এটি সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

আইএসপিএবির অভিযোগ ছিল, ‘এনটিটিএন দুটি সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেয়। এক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিলো না, যা গণখাতে ক্রয় আইন ও ক্রয় বিধিমালার সাথে সাংঘর্ষিক।’

তখন বিসিস জানায়, ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট দরদাতাই দর নির্ধারণ করে থাকে। তাছাড়া দরপত্র আহবান ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় পিপিআর ২০০৮ এর বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।’

আইএসপিএবি বলেছে, ‘গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার দায়িত্ব কেবল এএনএস প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে এ কার্যাদেশের কারণে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে ২ লাখ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সার্ভিস দেয়ার যে পরিকল্পনা করেছে তাতেও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হয়।’

এর উত্তরে বিসিসি বলেছে, ‘দেশে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান আইএসপিদের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রয় করে এবং আইএসপি প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। ইনফো সরকার তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হবে। এতে বিভ্রান্ত হওয়োর কোনো সুযোগ নেই। এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে আর গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবে আইএসপিরা।’

আইএসপিরা অভিযোগে জানায়, ‘এনটিটিএন লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তাদের লাইসেন্সের মেয়াদের বাইরে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু ২০ বছরের মেয়াদ না থাকা সত্ত্বেও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটিকে এই সময়ের জন্য কাজ দেয়ার সুপারিশ করা প্রশ্নবিদ্ধ।’

আর এ অভিযোগ নিয়ে বিসিসি বলছে, ‘এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি ২০ বছর অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, আপগ্রেডেশনসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করার প্রস্তাব করেছে। পরবর্তীতে সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি আইএসপিদের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রয় করবে।’

দেশের এই অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে রাজস্ব ভাগাভাগিভিত্তিক চুক্তিতে দুই এনটিটিএন কোম্পানিকে কাজ দেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

১ হাজার ৩০৭টি ইউনিয়নে এই সেবা নেয়ার জন্য ফাইবার অ্যাট হোমকে সরকার দেবে ১৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আর সামিট কমিউনিকেশনস ১ হাজার ২৯৩টি ইউনিয়নের জন্য পাবে ১৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

নেটওয়ার্ক স্থাপনের পর ২০ বছর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও থাকবে দুই এনটিটিএন।

এ সময় রাজস্ব ভাগাভাগিতে প্রথম দুই বছর পর হতে পরবর্তী চার বছর পর্যন্ত মোট আয়ের পাঁচ শতাংশ পাবে সরকার। তারপরের চার বছর আবার এই রাজস্বের ভাগ হবে তিন শতাংশ করে।

শেষ দশ বছর সরকার পাবে দুই শতাংশ। আর নেটওয়ার্কের মালিক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলই থাকবে।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/