Maintance

রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি করলে অপারেটরদের শাস্তি

প্রকাশঃ ৩:০৬ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০৭ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মিয়ানমার থেকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে মোবাইল অপারেটররা সিম বিক্রি করতে পারবে না।

যদি রোহিঙ্গাদের কাছে কোনো অপারেটর তাদের সিম বিক্রি করে তবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের শাস্তির ব্যবস্থা রাখবে।

তবে রোহিঙ্গারা যাতে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারে এজন্য ক্যাম্পগুলোতে পিসিও বুথ করে দেবে রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক।

এর পাশাপাশি কোনো রোহিঙ্গা ব্যক্তি বাংলাদেশী সিম ব্যবহার করে কিনা তা মনিটর করতে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে একটি ভ্রাম্যমান আদালত ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করবে।

 শনিবার বিটিআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী সিম ব্যবহার নির্দেশনাসহ বেশকিছু বিষয়ে কথা বলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তারানা হালিম বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পে টেলিটকের একটি বুথ থাকবে। সেখানে এসে রোহিঙ্গারা যোগাযোগ করতে ফোন করতে পারবে। সেটার ন্যুনতম একটা ট্যারিফ বা কলরেট থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা টেলিটককে নির্দেশ দিয়েছি আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্যাম্পগুলো টুজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার। ইতোমধ্যে টেলিটকের একটি টিম সেখনে পাঠিয়ে দিয়েছি। তিন দিন পর টিমটি ভালোভাবে কাজ করছে কিনা দেখার জন্য আমি সরাসরি সেখানে উপস্থিত হবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পে যারা বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের ডাটা মিলিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে তাদের পরবর্তী সময়ে সিম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারানা হালিম বলেন, মানবতা ও নিরাপত্তা দুটি বিষয়ই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে আমরা তাদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।আমরা এই দুটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছি এবং সামনের দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।

কিছু গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে খবর এসেছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সিম ব্যবহার করছে এবং বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা সিম এ বিষয়ে বিটিআরসি কি ভূমিকা পালন করবে জানতে চাইলে তারানা হালিম বলেন, কোনো অপারেটর বা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা কোনো রিটেইলার যদি এই প্রক্রিয়ার ব্যতয় ঘটায় তাহলে আমরা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোন থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেবো।

ইতোমধ্যে বিষয়টি অপারেটরাদের বলা হয়েছে, তারা বিষয়টি যেনো খুবই গুরুত্ব দিয়ে মাথায় রাখে। একই সঙ্গে তারা যেনো বিষয়টি ক্যাম্পে ক্যাম্পে প্রচারণা করে, কারণ শরণার্থীরা যেহেতু আমাদের দেশের আইনকানুন সম্পর্কে অবগত নয় সেদিকে অপারেটররা যেনো নজর দেন। কারণ এমন বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির একজন পরিচালক জানান, ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৩০টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে এবং চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের ছয় মাসের করে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

ফেইসবুকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন বিভৎস কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে কিনা তা জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন কনটেন্টেনের বিষয়ে খুব সতর্ক রয়েছি। এজন্য আইআইজিগুলোকে বিভৎস কনটেন্ট ব্লক করতে বলা হয়েছে, তারা ব্লকও করছে। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু এখনো চলমান তাই সবসময় কাজ করে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে এমন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‍্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আর. এস হুসেইন

*

*

Related posts/