Maintance

অনিয়মের প্রমাণ চেয়ে আইএসপিএবিকে বিসিসির চ্যালেঞ্জ

প্রকাশঃ ৮:১২ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:৫৮ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৮, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইনফো সরকার প্রকল্প নিয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি না জেনে অনিয়মের অভিযোগ তুলছে বলে বলেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছানোর ওই প্রকল্পের তৃতীয় ফেইজে দরপত্র নিয়ে আইএসপিএবি যে সব অভিযোগ   করেছে তার জবাব দিতে রোববার আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিসিসি কর্তৃপক্ষ।

আইএসপিএবির অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক বলে তা চ্যালেঞ্জ করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিসিসির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘প্রকল্পে কোনো ধরণের কোনো অনিয়ম হলে শুধু কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয় তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করার আহবান রইল।’

বিসিসির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আইএসপিএবি তাদের অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি। তারা সংবাদ সম্মেলন করছে তাও জানায়নি। জানালে আমরাও অভিযোগের সরাসরি জবাব দিতে অংশগ্রহণ করতাম। আমাদের সৎ সাহস আছে। । অথচ আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে তাদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।’

‘উম্মুক্ত দরপত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কে বা কারা অংশ নেবে, কত মূল্যমানে অংশ নেবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে। সুতরাং দরপত্রে কতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলো সেটা বিবেচনা করার এখতিয়ার বিসিসির নেই। তাই গণখাতে ক্রয় আইন কোনোভাবেই এই প্রকল্পের ক্রয় কর্মকাণ্ডের সাথে সাংঘর্ষিক না। অথচ যোগসাজশের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে বিসিসির সুনাম নষ্ট করা হয়েছে।’

উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রণব কুমার সাহা বলেন, সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগের কারণে সারাদেশে এই প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা আসল বিষয় জানেনা।

তিনি বলেন, ‘কাউকে ডেকে নিয়ে আসা আমাদের কাজ না। উম্মুক্ত দরপত্র করা হয়েছে। তারপর এখানে এই দুই প্রতিষ্ঠান এসেছে। বিটিসিএল সরাসরি এই কাজ করতে চেয়েছিল। তারা ইনফো সরকারের দ্বিতীয় ফেইজে কাজ নিয়ে আবার দরপত্র ডেকে ভেন্ডর দিয়ে করিয়েছিল। তাই সরাসরি এবার তাদের কাজ দেয়া হয়নি। আর উম্মুক্ত পদ্ধতিতে বিটিসিএল অংশগ্রহণ করেনি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একনেক কখনই কতটি লটে দরপত্র হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করে না। একনেকে উপস্থাপিত ডিপিপিতে ৮টি লটে এই দরপত্র করার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকল্পের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা অনুসারে স্টিয়ারিং কমিটিই তা ঠিক করে।

‘দেশব্যাপী ২৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করার মত বিশেষায়িত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা বিবেচনা করেই প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি ৮টি লটের স্থলে ২টি লট অনুমোদন করে যা পরবর্তী ডিপিপি সংশোধনীতে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ফলে এক্ষেত্রে একনেকের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করার মত কোনো ধরণের অনিয়ম হয়নি এবং সরকারের কার্যপ্রণালি-বিধিমালারও কোনো ধরণের লঙ্ঘন হয়নি।’

বিসিসি কর্তৃপক্ষ জানান, দেশে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান আইএসপিদের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রয় করে এবং আইএসপি প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। ইনফো সরকার তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হবে। এতে বিভ্রান্ত হওয়োর কোনো সুযোগ নেই। এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে আর গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবে আইএসপিএবি। সংগঠনটি সম্পূর্ণরূপে দরপত্র ডকুমেন্ট না পড়েই অভিযোগ করেছে। ’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি ২০ বছর অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, আপগ্রেডেশনসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করার প্রস্তাব করেছে। পরবর্তীতে সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান দুটি আইএসপিদের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রয় করবে।’

‘গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা হবে আইএসপিগুলো’-বিসিসির এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, প্রকল্প প্রস্তাবনায় তাহলে এটি উল্লেখ হয়নি কেনো ?’

উত্তরে বিসিসি কর্তৃপক্ষ জানান, প্রকল্প প্রস্তাবনায় ইন্টারনেট সেবাদাতা হিসেবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে আইএসপিরা অন্তর্ভূক্ত। এখানে আইএসপিদের কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধি ও নিয়মে যার যা কাজ সে তাই করবে, কারও সুযোগ কোনোভাবে নষ্ট করা হয়নি। তবে যেহেতু এটি স্পষ্ট করতে আলোচনা আনা হয়েছে তাই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে।

এর আগে বুধবার রাজধানীর হোটেল লা ভিঞ্চিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি অভিযোগ করে, দেশের ২৬০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড পৌঁছানো কাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ন্যাশনওয়াইড নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার (এনটিটিএন) সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার অ্যাট হোমকে দেয়া হয়েছে।

দেশের এই অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে রাজস্ব ভাগাভাগিভিত্তিক চুক্তিতে দুই এনটিটিএন কোম্পানিকে কাজ দেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

১ হাজার ৩০৭টি ইউনিয়নে এই সেবা নেয়ার জন্য ফাইবার অ্যাট হোমকে সরকার দেবে ১৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আর সামিট কমিউনিকেশনস ১ হাজার ২৯৩টি ইউনিয়নের জন্য পাবে ১৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

নেটওয়ার্ক স্থাপনের পর ২০ বছর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও থাকবে দুই এনটিটিএন।

এ সময় রাজস্ব ভাগাভাগিতে প্রথম দুই বছর পর হতে পরবর্তী চার বছর পর্যন্ত মোট আয়ের পাঁচ শতাংশ পাবে সরকার। তারপরের চার বছর আবার এই রাজস্বের ভাগ হবে তিন শতাংশ করে।

শেষ দশ বছর সরকার পাবে দুই শতাংশ। আর নেটওয়ার্কের মালিক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলই থাকবে।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/