Maintance

একীভূতকরণ : রবিকে বিলম্ব ফি দিতে হবে ৩ কোটি টাকা

প্রকাশঃ ৫:১০ অপরাহ্ন, আগস্ট ১৮, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:১৭ অপরাহ্ন, আগস্ট ১৯, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণে সরকারের পাওনা সময়মতো পরিশোধ না করায় রবির ওপর বিলম্ব ফি ধার্য করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

সম্প্রতি এক কমিশন বৈঠকে এই বিলম্ব ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়।

সংস্থাটির নির্ধারিত বিলম্ব ফি ১৫ শতাংশ হিসাবে রবিকে এই ফি দিতে হবে ৩ কোটি টাকা । অর্থ পরিশোধ করতে কয়েকদিনের মধ্যেই বিটিআরসি অপারেটরটিকে চিঠি দিয়ে ১৫ দিন সময় দেবে বলে জানা গেছে।

নানা টানাপোড়েনের পর চলতি বছরের জুলাইয়ে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় রবি। বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ পায় তারা। টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আনুষ্ঠানিকভাবে এটি তুলে দেন রবি কাছে।

একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রায় নয় মাস কাটলেও আর্থিক দেনা পাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি ওই সময়ে এ লাইসেন্স দেয়নি।

Robi-Airtel-Robi-Techshohor

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি-এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। শর্তে রবিকে ১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি আর ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ওই বছরের ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি রবি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও প্রায় ৬ মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এই দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি-শোকজ দেয় বিটিআরসি।

সর্বশেষ ১৫ মার্চ দেয়া শোকজে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেশন অ্যাক্ট-২০০১ এর অধীনে বেশ কড়া ভাষাতেই নির্দেশনা না মানার কারণে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা ব্যাখ্যা করতে ৩০ দিনের সময় দেয়া হয়েছছিল অপারেটরটিকে। অথবা পাওনা অবশিষ্ট অর্থ জমা দিতে বলা হয় ওই নোটিশে।

শোকজে ররি-এয়ারটেল একীভূতকরণ সম্পর্কিত বিটিআরসি-রবির পাঁচটি চিঠির রেফারেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে একীভূতকরণ অনুমোদনের চিঠির কথাও ছিল।

ওই শোকজ নোটিশে এই ‘অনুমোদনের চিঠি’ কেন বাতিল করা হবে না তাও জানাতে বলা হয়। যার অর্থ দাঁড়ায় একীভূতকরণ কেন বাতিল করা হবে না তা জানাও।

এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে একীভূকরণের শর্ত শিথিল করা হয়। এতে এয়ারটেলের ৯০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ থেকে ১.৬ মেগাহার্জ তরঙ্গ পায় রবি। আগের শর্ত অনুযায়ী (১৫ নম্বর শর্ত) এয়ারটেলের ৫ মেগাহার্জ তরঙ্গ সমর্পন করতে বলা হয়েছিল। শিথিলের পর সমর্পন করতে হয় ৩.৪ মেগাহার্জ।

ফলে সব মিলে রবির তরঙ্গ দাঁড়ায় ৩৬.১ মেগাহার্জ।

সেখানে বকেয়া ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় মূসক হিসাব ধরে ঠিক হওয়া নতুন অংকের সঙ্গে ১.৬ মেগাহার্জ তরঙ্গের দাম যোগ করে রবিকে পরিশোধ করতে হয় ১০৯ কোটি টাকা।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/