ছাঁটাই প্রতিবাদের পুরষ্কার পাচ্ছে জিপি ইউনিয়ন

অনন্য ইসলাম, টেক শহর প্রতিবেদক : দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন গত বছর মে মাসে অন্তত ২৫০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সে সময় জন্ম হয় গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়ন বা জিপিইইউ। মাত্র দেড় বছরের মাথায় সেই ঘটনার জন্য বাংলাদেশের কোনো সংগঠন হিসেবে ‘ফ্রিডম ফর ফিয়ার’ পুরষ্কার-২০১৩ পাচ্ছে জিপিইইউ।

বিশ্বের বিভিন্ন সেবা খাতের দুই কোটি কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত ইউনি গ্লোবাল নামের ইউরোপভিত্তিক সংগঠনটি জিপিইইউকে এ পুরষ্কার দিচ্ছে। আগামী ১২-১৩ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইউনির নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে এ পুরষ্কার দেওয়া হবে। ইউনির সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ জে জেনিন্স ১৮ অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে পুরষ্কারের বিষয়টি জিপিইইউকে জানিয়েছেন।

আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের জন্য নবগঠিত এ সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পুরষ্কার পেতে চললেও এখন পর্যন্ত গ্রামীণফোনের স্বীকৃতি পায় নি। উল্টো জিপিইইউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল (জিপিপিসি) নামে অপর একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছে অপারেটরটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষক প্যানেলের সকলেই জিপিপিসির নির্বাচনে হেরে বসে। বরং জিপিইইউর নেতারাই পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ায় নতুন সংগঠনেরও দখল পেয়ে যায়। অথচ গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের বিরোধীতার কারণে জিপিইইউ এখনও সরকারের নিবন্ধন পায়নি।

জিপিইইউর শীর্ষস্থানীয় নেতা মনিরুল কাদির জানিয়েছেন বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের এ ধরনের পুরষ্কার পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। তিনি বলেন, এটি তাদের জন্য সম্মানের। সংগঠন গড়ে তোলার মাত্র দেড় বছরের মাথায় এমন স্বীকৃতি তাদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেন তিনি। জিপিইইউকে এগিয়ে নিতে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন তারা।

Grameenphone employee union, techshohor

ইউনির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর আড়াইশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তার কারণেই সেরাদের সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার দাবি আদায়ের বিষয়টিও জিপিইইউয়ের সাংগঠনিক কার্যত্রক্রমকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।

সরকার ২০১০ সালে মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধনের সময় এটি আইনের অর্ন্তভূক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠন করার বিষয়টি আইনে সংরক্ষিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই সংগঠন গঠন করতে পারছেন না কর্মীরা।

-টেক শহর

Related posts

*

*

Top