পুন:নিয়োগ পেতে টেলিটক এমডির মুনাফা চমক

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত ছয় বছর কয়েক দফা চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আছেন মোঃ মুজিবুর রহমান। আবারও নিয়োগে পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এ জন্য দেখাচ্ছেন নানা চমক।

হাজার কোটি টাকা বাকি রেখেও মুনাফার ঘোষণা এসব চমকের অন্যতম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে টেলিটকের কর্মীদের সমর্থন পেতে দিয়েছেন মহার্ঘভাতাও। সেটিও আবার নয় মাসের বকেয়াসহ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন করে আরও একবার নিয়োগ পেতে মরিয়া মুজিবুর মন্ত্রনালয়েও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। নানাভাবে মন্ত্রী ও সচিবের সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন।

Mujibur-Rahman-Teletalk MD-TechShohor

টেলিটক দাবি করেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৪৬ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। তবে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি এ তথ্য মানছে না।

কমিশনের মতে, ওই অর্থবছরের তথ্য চাওয়া হলেও টেলিটক তা দেয়নি। অথচ এখন এতদিন বাদে লাভের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাস্তব সম্মত নয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এতে কাজও হয়েছে কিছুটা। মুজিবুর যাতে আবারও নিয়োগ পান- সেজন্য জন্য বাছাই কমিটিও করা হয়েছে তেমনভাবে।

এক মাস আগে মন্ত্রনালয় ছেড়ে চলে যাওয়া অতিরিক্ত সচিব মোঃ রফিকুল ইসলামকে করা হয়েছে বাছাই কমিটির প্রধান। অভিযোগ আছে গত সরকারের সময়ের পুরোটা সময় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা রফিকুলকেও টেলিটক এমডি নানান সুবিধা দিয়েছেন।

রফিকুলের আত্মীয় স্বজনকে চাকরি-ব্যবসা দেওয়া থেকে শুরু করে আরও কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে টেলিটক ও মন্ত্রণালয়ে আলোচনা রয়েছে।

টেলিটকের মুনাফা করার বিষয়ে অপারেটরটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসির কাছে দুই হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে। এর বাইরে চীনা দুটি কোম্পানি পাবে আরও দুই হাজার কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থ দেনা রেখে লাভের ঘোষণা দেওয়া অযৌক্তিক। এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির বেতনের সঙ্গে টেলিটকের কর্মীদেরকে নয় মাসের এরিয়ারসহ মহার্ঘভাতা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে টেলিটক একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে এসব বিষয়ে টেলিটক এমডি বলেন, পুরনো অনেক বেকেয়া আছে যেগুলো পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। লাভ লোকসানের মধ্যে এগুলো না আনাই ভালো।

মুজিবর বলেন, সরকারের মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। তাই আমাদের কর্মীদের প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। এতে করে কর্মীরা কাজে আরও বেশি মনোযোগী হবে।

এমডি বলেন, বোর্ডের বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

Related posts

*

*

Top