Maintance

ফোরজি গ্রাহকের ব্রাউজিং তথ্য রাখতে হবে এক যুগ

প্রকাশঃ ২:২৭ অপরাহ্ন, আগস্ট ১৪, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১১ অপরাহ্ন, আগস্ট ১৫, ২০১৭

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সেবা যারা গ্রহণ করবেন তাদের ব্রাউজিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন তথ্য এক যুগ সংরক্ষণ রাখতে হবে।

সম্প্রতি ফোরজি নীতিমালায় এই নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। ফোরজি সেবাদাতা অপারেটরগুলোকে এই তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।  মূলত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও এ খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বিষয়টি ঠিক করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া টেলিকম বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, সামনের দিনে তথ্যপ্রযুক্তিখাতে নিরাপত্তা বিষয়ক যে সব ঝুঁকি আসবে সেটিকে মাথায় রেখেই ১২ বছর তথ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

ওই বৈঠকে অবশ্য ফোরজির লাইসেন্স ফিসহ আরও কয়েকটি খাতে ফি ও চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

ফোরজি নীতিমালা এখন টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকম বিভাগেরও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ফোরজির যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে সেখানে ফোরজিতে টেলিকম সেবার গতি এক জিবিপিএস নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের ফোরজি নীতিমালার খসড়ায় একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গতি ১০০ এমবিপিএস করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে মহাসড়কে চলার সময় এবং ট্রেনে ভ্রমনের সময় ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি হতে পারে। তবে সেখানে ফোরজির এই গতি ১০০ এমবিপিএসের নীচে নামতে পারবে না।

তবে গতি নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। তারা বলছে, ৫ এমবিপিএসের ওপরের গতির মোবাইল ইন্টারনেটকেই ফোরজি বা এলটিই হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বড় অপারেটরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শুধু নূন্যতম গতির বিষয়টি নয়। নীতিমালার আরও অনেক জায়গাতেই হাস্যকর অনেক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ একটি কম খরচের টেলিকম সেবা খাতের বাজার। সেখানে গুণগত সেবা নিশ্চিত করার নামে বহুগুণ খরচের প্রযুক্তি বাধ্যতামূলকভাবে জুড়ে দেওয়ার যে চেষ্টা সেটি খাতটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফেলবে।’- এমন মন্তব্য করেছেন ওই কর্মকর্তা।

লাইসেন্সের খসড়ায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স নেয়ার প্রথম নয় মাসের মধ্যে সকল বড় শহরে ফোরজির সেবাটি নিয়ে যেতে হবে। আর ১৮ মাসের মধ্যে সেটি নিয়ে যেতে হবে জেলা শহরগুলোতেও।

লাইসেন্সের পাঁচ বছরের মধ্যে সকল উপজেলা, মহাসড়ক এবং রেললাইনসহ লোকজনের যাতায়াতের স্থানে ফোরজির সেবা থাকতে হবে। যেসব এলাকায় অপারেটরগুলো সেবা চালু করবে সেখানে কোনো অবস্থায় বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া সেবা বন্ধ করতে পারবে না তারা।

*

*

Related posts/