Maintance

পাওনা আদায়ে সিটিসেল কর্মীদের ৫ মামলা

প্রকাশঃ ২:৩১ অপরাহ্ন, আগস্ট ৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, আগস্ট ৮, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ে সিটিসেল চেয়ারম্যান  ও পরিচালকসহ ৮ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করেছেন কর্মীরা।

সোমবার ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান তাবাসসুম ইসলামের আদালতে পৃথক পৃথক এই মামলাগুলো করেন সিটিসেল কর্মকর্তা টিপু সুলতান, কাজী রুহুল কুদ্দুস, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক মিলন ও এ কে এম এহসানউল আজাদ।

বিবাদীরা হলেন সিটিসেল চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর মোর্শেদ খান, ডিরেক্টর নাসরিন খান, আসগর করিম, সিইও মেহবুব চৌধুরী, সিএফও তারিকুল হাসান, সিটিও মাহফুজুর রহমান, প্রফিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য নিশাত আলী খান ও এ.বি সরকার।

আদালত বিবাদীদেরকে আগামী ৪ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিতে আদেশ দিয়েছেন।

মামলাকারীদের পক্ষে টিপু সুলতান টেকশহরডটকমকে জানান, অপারেটরটির কাছে ৫ জনের প্রায় দেড় কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। আইনি নোটিশের পর প্রফিডেন্ট ফান্ডের সামান্য একটি অংশ পরিশোধ করে অার কোনো পাওনা দেয়া হয়নি। এরপর বারবার অনুরোধে কোনো ফল না পেয়ে শেষে এই মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ মে এই ৮ জনের বিরুদ্ধে  ১৩ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিল অপারেটরটির কর্মীরা।

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুর হতে এক স্কাইপে কলে কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্যাসেফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন সিটিসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল মোর্শেদ।

ওই আলোচনায় ফয়সাল মোর্শেদ কর্মীদের ২০১৬ সালের নভেম্বরের পরে কোনো দায়-দায়িত্ব না নেয়ার কথা জানিয়ে দেন। আর এরপরই ডিসেম্বরের শুরু হতে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের ব্যবধানে অপারেটরটির স্থায়ী অস্থায়ী মিলে ৩ শতাধিক কর্মী চাকরি ছেড়ে যান। পরবর্তীতে অধিকাংশ কর্মীই চাকরি ছেড়ে দেন।

ওই বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রথম দফায় বকেয়া ২ মাসের বেতন পান সিটিসেলের অনেক স্থায়ী কর্মী। আর ডিসেম্বরের ২২ তারিখ সময়ে অনেকে পান বাকী ৩ মাসের বকেয়া বেতন, দুই ঈদের বোনাস, রিক্রিয়েশন লিভের ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনা।

সেই সময় অপারেটরটির পিয়ন, ড্রাইভার, অফিসার, সিনিয়র অফিসার, এক্সিটিউভ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এবং ডেপুটি ম্যানেজার পদের কর্মী মিলে প্রায় ২০০ জন আলোচনা অনুযায়ী বকেয়া পেয়েছেন। যদিও দুই বছরের (২০১৫-১৬) প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কাউকেই দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে ডেপুটি ম্যানেজার পদের কয়েকজনসহ ম্যানেজার, ডিজিএম, জিএম হতে উর্ধ্বতন পদগুলোর কর্মকর্তাদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। এই সংখ্যা ৬০ জনের বেশি। এদের মধ্যে এখনও ৪০ জন কর্মী চাকরিতে রয়েছেন।

এছাড়া অস্থায়ী আউটসোর্স করা কর্মীদের মধ্যে ই-জোনের ৭০ জন পাওনা পরিশোধের শর্তে চাকরি ছেড়েছিলেন। তখন সিটিসেলের সঙ্গে ই-জোনের চুক্তির মেয়ার শেষ হবার এক মাস আগেই এসব কর্মীদের বিদায় দেয়া হয়।

এই কর্মীদের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ২টি স্যালারি এবং ২৯ জানুয়ারিতে ৩ মাসের স্যালারিসহ রিক্রিয়েশন লিভ ও একটি ঈদ বোনাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তারা তা পাননি।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/