Maintance

জমির টেলিকমের ৩২৯ কোটি টাকা ৫ বছরেও পায়নি বিটিসিএল

প্রকাশঃ ৬:০২ অপরাহ্ন, মার্চ ১৯, ২০১৪ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:০২ অপরাহ্ন, মার্চ ১৯, ২০১৪

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিনের পারিবারিক কোম্পানি জমির টেলিকমের কাছে রাষ্ট্রয়াত্ত্ব টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি বিটিসিএলের সব মিলে ৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার বাকি পড়েছে। টাকার অংকে যা ৩২৮ কোটি ৯০ লাখের বেশি। তবে গত পাঁচ বছরে নানা চেষ্টা করেও বকেয়া আদায় হয়নি।

জমির টেলিকমের মালিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিনের ছেলে নওফেল জমির। ইংল্যান্ডে অবস্থিত কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি।

মূলত চার দলীয় জোট সরকারের সময় থেকে বিটিসিএলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল আদান-প্রদানের ব্যবসা শুরু করে জমির টেলিকম।

zamir telecom-btcl_techshohor

বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গত মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ঠাক চলেছে। কিন্তু ২০০৯ সালে এসে কোনো রকম নোটিশ না দিয়ে জমির টেলিকমের সবগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিটিসিএল।

তারপর থেকেই চলছে নানা টানাপোড়েন। সর্বশেষ সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মামলা মোকদ্দমাও হয়েছে।

এরপরও জমির টেলিকমের কাছে আটকে থাকা বিপুল এ অর্থ উদ্ধার করতে পারেনি বিটিসিএল।

বিটিসিএলের একটি সূত্র জানিয়েছে, কল রেট এবং ট্রাফিকের পরিমাণ নিয়ে বিটিসিএলের সঙ্গে জমির টেলিকমের কতোগুলো দাবি অনিস্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট কমর্কর্তারা বলছেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি নয়, সার্বিকভাবে তারা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর কাছে বকেয়া পড়া ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর কাছ থেকে বিটিসিএল যে পরিমাণ জামানত নিয়েছে, বাকি পড়েছে এর ছয়গুনেরও বেশি টাকা।

সব মিলে তিন ক্যাটগরিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর কাছে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওনা ১ হাজার ৭২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর বিরপীতে ব্যাংক গ্যারান্টি আছে মাত্র ১৮৫ কোটি টাকার।

এর মধ্যে আবার বেশ কিছু প্রি-পেইড ক্যারিয়ার আছে যেগুলোর ব্যালান্স টপকে বাকির পরিমান বেড়ে নয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ খাতেও বাকি পড়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি। অথচ ব্যালান্সের লিমিট দেওয়া ছিল ১৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ৫৪টি পোস্ট পেইড ক্যারিয়ারের কাছে বিটিসিএলের পাওনা ৯৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা। যদিও এর বিপরীতে হাতে ব্যাংক গ্যারান্টি আছে মাত্র ১৭১ কোটি টাকার।

এর বাইরে আরো কিছু স্থানীয় ক্যারিয়ার আছে, যেগুলোর কাছ থেকে বিটিসিএলের কোনো গ্যারান্টি নেওয়া নেই। এগুলোর কাছে বাকি পড়েছে আরও ৯৬ কোটি টাকা।

বিটিসিএলের এ টাকা কিভাবে আদায় হবে সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদির শাহ কোরেশী বলেন, টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে যতোটা ব্যাংক গ্যারান্টি আছে তা ভাঙিয়ে হলেও বকেয়া কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তারা।

তা ছাড়া কিছু বকেয়ার বিষয়ে মামলার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন এ খাতে বকেয়া ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা হলেও গত বছর মার্চ মাসের শেষে তা ছিল ১ হাজার ১৭১ কোটি টাকা।

তবে এর আগে ২০১২ সালের মার্চের শেষে এই অংক ৬৫১ কোটি এবং একই বছর জুনে তা ৭৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছায়। মাঝখানের এক বছরেরও কম সময়ে এ খাতের বকেয়া হাজার কোটি টাকা পেরিয়ে যায়। সে কারণে এখন বাকির পরিমান খুব একটা কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

*

*

Related posts/