Maintance

স্পেকট্রাম ফিরে পেয়েছে সিটিসেল

প্রকাশঃ ৩:২৩ অপরাহ্ন, জুলাই ২৬, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৪ অপরাহ্ন, জুলাই ২৬, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্পেকট্রাম ফিরে পেয়েছে সিটিসেল। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত প্যাসিফিক টেলিকম লিমিটেডকে স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফেরত দিতে বিটিআরসিকে এ আদেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতেই সিটিসেলকে স্পেকট্রাম ফেরত সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল সুফি মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিটি সিটিসেলের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে সিটিসেলের স্পেকট্রাম এবং তাদের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি লাইসেন্স ব্যবহারে পুনঃঅনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার সিটিসেলের লাইসেন্সন বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়ে বিটিআরসি।

জুনের প্রথম দিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে।

অনেক দিন হতে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ আনে।

তবে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করার আগে কেনো লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠায় বিটিআরসি। কিন্তু নোটিশের জবাবে উল্টো তারা বিটিআরসিকে জানায় যে, সরকার নয় বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো টাকা দেবে না।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। তখন অবশ্য সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনো গ্রাহক নেই।

ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসির। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটি দায় মুক্ত হবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে একটি পাওনা পরিশোধের কথা ছিল সিটিসেলের। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পেয়ে সিটিসেল ১৯৯৩ সাল থেকে সেবা দিতে শুরু করে। তখন এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর।

অপারেটরটির ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল-এর হাতে।

আর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক মোটর্সের রয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের হাতে। সেটিও আসলে মোর্শেদ খানেরই আরেকটি কোম্পানি।

*

*

Related posts/