Maintance

বিদায় সিটিসেল

প্রকাশঃ ৭:৫৯ অপরাহ্ন, জুলাই ২৪, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৭ অপরাহ্ন, জুলাই ২৪, ২০১৭

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। বেশ কিছু দিন থেকে কাগজে কলমে টিকে থাকা অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে তা শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার টেলিকম ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল।

সোমবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর আগে গত সপ্তাহে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলে  প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সংক্রান্ত ফাইল বিটিআরসিতে এসে পৌঁছে।

চলতি সপ্তাহেই একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর মাধ্যমে দেশে সিটিসেল অধ্যায়ের শেষ হবে।

ফলে দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের সংখ্যা আরও একটি কমলো। আগেই রবি-এয়ারটেল একীভূত হয়ে একটি অপারেটর কমে যাওয়ায় তা ছিল ৫টি। এখন তা হলো ৪টি। তবে ফোরজি নীতিমালায় সরকার নতুন একটি অপারেটর আসার সুযোগ রাখছে।

citycell-btrc-techshohor

জুনের প্রথম দিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে।

অনেক দিন হতে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ আনে।

তবে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করার আগে কেনো লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠায় বিটিআরসি। কিন্তু নোটিশের জবাবে উল্টো তারা বিটিআরসিকে জানায় যে, সরকার নয় বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো টাকা দেবে না।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। তখন অবশ্য সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনো গ্রাহক নেই।

ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসির। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটি দায় মুক্ত হবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে একটি পাওনা পরিশোধের কথা ছিল সিটিসেলের। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পেয়ে সিটিসেল ১৯৯৩ সাল থেকে সেবা দিতে শুরু করে। তখন এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর।

অপারেটরটির ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল-এর হাতে।

আর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক মোটর্সের রয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের হাতে। সেটিও আসলে মোর্শেদ খানেরই আরেকটি কোম্পানি।

*

*

Related posts/