Maintance

সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

প্রকাশঃ ৯:৫৩ অপরাহ্ন, জুলাই ২২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১২ অপরাহ্ন, জুলাই ২৪, ২০১৭

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত সপ্তাহে বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সংক্রান্ত ফাইল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসিতে এসে পৌঁছেছে। এখন কমিশন একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

আর এতে দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের সংখ্যা আরও একটি কমছে। আগেই রবি-এয়ারটেল একীভূত হয়ে একটি অপারেটর কমে যাওয়ায় তা ছিল ৫টি। এখন তা হবে ৪টি। তবে ফোরজি নীতিমালায় সরকার নতুন একটি অপারেটর আসার সুযোগ রাখছে।

জুনের প্রথম দিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে।

প্রধানমন্ত্রী ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগেরও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করায় লাইসেন্স বাতিল বা নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার মতো বিষয়গুলোতে তাঁর অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অনেক দিন হতে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ আনে।

তবে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করার আগে কেনো লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠায় বিটিআরসি। কিন্তু নোটিশের জবাবে উল্টো তারা বিটিআরসিকে জানায় যে, সরকার নয় বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো টাকা দেবে না।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। তখন অবশ্য সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনো গ্রাহক নেই।

ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসির। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটি দায় মুক্ত হবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে একটি পাওনা পরিশোধের কথা ছিল সিটিসেলের। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

সম্প্রতি সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক হতে নেয়া সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ঋণে অনিয়ম-আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

রাজধানীর বনানী থানায় করা ওই মামলায় সিটিসেলের চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, তার স্ত্রী নাসরিন খান, সিটিসেলের এমডি, সিইও এবং এবি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান এমডিসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

এতে গ্রেপ্তার হন সিটিসেল সিইও মেহবুব চৌধুরী এবং পরে তিনি  জামিন পান।

এছাড়া ৪৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে  সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় নিলামে তুলতে চেয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। রাজধানীর মহাখালিতে অবস্থিত ভবনটির ৬ষ্ঠ হতে ১৩ তলা পর্যন্ত নিলামে তোলার জন্য ব্যাংকটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দরপত্রও অাহবান করে। কিন্তু পরে বিষয়টি আর এগুতে দেখা যায়নি।

এর মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ে সিটিসেলকে ১৩ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে এর কর্মীরা। সিটিসেল ডিরেক্টর মোর্শেদ খান, নাসরিন খান, আসগর করিম, সিইও মেহবুব চৌধুরী, সিএফও তারিকুল হাসান, সিটিও মাহফুজুর রহমান, প্রফিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য নিশাত আলী খান, এ.বি সরকার বরাবরে এসব লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

*

*

Related posts/