Maintance

আয় বাড়াতে ‘বিশেষ’ প্যাকেজও বাতিল করল বাংলালিংক

প্রকাশঃ ৪:২৬ অপরাহ্ন, জুলাই ৯, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:১৫ অপরাহ্ন, জুলাই ১০, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিভিন্ন সময় নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের বাড়তি সুবিধাসম্বলিত যেসব প্যাকেজ দিয়েছিল তার সব বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলালিংক।

ইতোমধ্যে সব গ্রাহককে ফোন করে করে জানানো হচ্ছে তাদের ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে এই সুবিধা বাতিল করার পরে যেন তারা বাংলালিংক ছেড়ে চলে না যান।

অপারেটরটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলালিংকের আয় কমতে শুরু করেছে। আয় বাড়ানোর উপায় হিসেবে তারা ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিলের ঝুঁকি নিয়েছে।

এ বিষয়ে ফোনে ও ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলে কিছু জানাতে পারেনি বাংলালিংকের কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিভাগ।

banglalink-office-TechShohor

এক সময় দ্বিতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর হলেও রবি এবং এয়ারটেল একীভূত হওয়ায় এখন বাংলালিংকের অবস্থান তিন নম্বরে।

২০০৫ বাংলাদেশে যাত্রার পর থেকে চমক দেখানোর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে তারা নানা শ্রেণী-পেশার মানুষরকে নানা ধরনের সুবিধাসম্বলিত প্যাকেজ দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে কোনোটায় শুধু ভয়েস ফ্রি, সেক্ষেত্রে তার ডেটা বা এসএমএস এবং ভ্যাসসহ অন্যান্য সেবার জন্য খরচ করতে হতো।

কারো বা মাসে পাঁচশ বা এক হাজার টাকার সেবা ফ্রি ছিল। এর ওপরে খরচ করলেই তার জন্য বিল দিতে হতো। আবার কেউ বা সব সেবাই পেতেন বিনামূল্যে।

এসব ‘বিশেষ সুবিধা’  পাওয়াদের মধ্যে সরকারের সচিব-মন্ত্রীরাও ছিলেন। সব মিলে সংখ্যা বেশ কয়েক হাজার ছিল।

আর এ খাতে অপারেটরটির মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যান্ত গচ্ছা যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে অপারেটরের একটি সূত্র। আয় কমে যাওয়া ঠেকাতেই এবং এই আয়কে নিজেদের অ্যাকাউন্টে যুক্ত করতেই ‘বিশেষ সুবিধা’র এসব প্যাকেজ ফ্ল্যাট রেটে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলালিংকের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

এর আগে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আয়ের ক্ষেত্রে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে অপারেটরটি। গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে তাদের মোট আয় এক শতাংশের কিছুটা বেশি পড়ে গেছে।

সম্প্রতি বাংলালিংকের মূল কোম্পানি তাদের যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে বলা হচ্ছে প্রাথম প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে এক হাজার দুইশ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর ২০১৬ সালের একই সময়ে সেটি ছিল এক হাজার ২১৫ কোটি নয় লাখ টাকা।

আর আয় কমে যাওয়াতেই ধাক্কা লেগেছে অপারেটরটির নানা জায়গায়। আর ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল করাও এরই অংশ।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/