টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনে স্বউদ্যোগী বিটিআরসি

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ আইনের কারণে সেবা প্রদানে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বিবেচনায় তা সংশোধনের সুপারিশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সম্প্রতি এক কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিটিআরসির কমিশনার (লিগাল) মোঃ আবদুস সামাদকে আহবায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

তবে সরকারের কোনো নির্দেশনার পর বিটিআরসি আইন পর্যালোচনা শুরু করেছে কি না সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন কমিশনার সামাদ।

btrc, techshohor

‘তেমন কিছু হয়ে থাকলে তা চেয়ারম্যান (সুনীল কান্তি বোস) সাহেব জানেন। আমাদেরকে একটি কাজ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেটা করছি। কোথায়, কার নির্দেশে হচ্ছে সেটি দেখছি না- মন্তব্য করেন ওই কমিশনার।

এর  আগে বিটিআরসির বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস টেলিযোযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব থাকাকালে ২০১০ সালে প্রথমবার টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন হয়। ওই সংশোধনের মাধ্যমে বিটিআরসির অনেক ক্ষমতা মন্ত্রনালয়ে চলে যায়।

সে কারণে প্রতিকূলতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ঘটনা চক্রে সুনীল কান্তি এখন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন।

আগের বার আইন সংশোধনে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগী হয়েছিল। আর এবার স্বউদোগী হয়ে সংশোধনের সুপারিশ তৈরির কাজে হাত দিয়েছে কমিশন।

বর্তমান আইন অনুসারে সব লাইসেন্স, পারমিট, আর্থিক অনুমোদনের (সামান্য এক পয়সার প্যাকেজও) সব ক্ষমতা মন্ত্রনালয়ের। বিটিআরসি সুপারিশ করার পর শুধু পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে কমিশন বৈঠকে কমিশনার যে কার্যপত্র উপস্থাপন করেন তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বর্তমান আইনের আওতায় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিকূলতার সৃস্টি হচ্ছে, যা প্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে এ আইনের কতিপয় ধারার পরিবর্তন আনা অবশ্যক।”

এতে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন করা হলেও টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে এ খাতকে আরও সহজলভ্য ও যুগোপযোগী করতে টেলিযোগাযোগ আইনের কিছু কিছু ধারা সংশোধন ও সংযোজন সময়ের দাবি বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন ওই বৈঠকে কমিটিকে আইনটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরি করতে এক মাস সময় বেধে দেয়।

তবে বিটিআরসি সুপারিশ করলেই যে আইন সংশোধন করা হবে এমন নয়। কেননা আইনটি সংশোধন পাস করতে হবে সংসদে। এর আগে সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। পরে সেটি মন্ত্রীসভায় অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই বাছাই শেষে যাবে সংসদে। তাই এ কাজটি অনেক সময় সাপেক্ষ বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Related posts

*

*

Top