নামমাত্র বকেয়া পরিশোধ করে পার পাচ্ছে সিটিসেল

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোট বকেয়ার মাত্র এক দশমাংশ টাকা পরিশোধ করে আরও সময় পাচ্ছে দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বরে প্রথম দফায় অপারেটরটিকে ২৫৫ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে ১৫ দিন সময় দিয়ে নোটিশ দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরপর আরও এক মাস সময় বাড়ানো হয়।

নির্ধারিত সে সময়ও পেরিয়ে গেলও সিটিসেলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। বরং অপারেটরটির মাত্র সাড়ে ২৬ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব মেনে নিয়ে  বাকি ২২৯ কোটি টাকা পরিশোধে আরও ছয় মাস সময় দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

Citycell-btrc-TechShohor

সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেবুব চৌধুরী এ খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বকেয়া রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম চার্জ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু টুজি লাইসেন্স নবায়ন বিষয়ে কিছু জটিলতা থাকায় ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি।’

সিইও বলেন, ‘বিটিআরসি পরবর্তী কমিশন বৈঠকে এ জন্য আমাদেরকে সময় দেবে।’

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে বিভিন্ন খাতে ২৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা আদায়ে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিশ দেয় বিটিআরসি। ওই সময়ে টাকা দেওয়া না হলে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

পরে ওই অংকের সঙ্গে লেট ফি যুক্ত হয়ে পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫৫ কোটি ৩০ লাখ।

বিটিআরসির চিঠি পাওয়ার পর সিটিসেল এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়ে ফিরতি চিঠি দেয়। কিন্তু সিটিসেলের এ অনুরোধ বিটিআরসি গ্রহণ না করলেও প্রত্যাখ্যানও করেনি।

এদিকে বিটিআরসি কঠোর অবস্থানে গেলে সিটিসেল কি করবে তা জানতে কমিশনের কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ে ধর্ণা দেন। আইনগতভাবে লাইসেন্স বাতিলের একমাত্র এখতিয়ার সরকারের। এক্ষেত্রে বিটিআরসি কেবল সুপারিশ করতে পারে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

সিটিসেল ছাড়াও গত জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অপারেটরের কাছে বিটিআরসির ২ হাজার ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে এ বকেয়ার পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে অপারেটরটি গত টানা ১৮ মাস ধরে গ্রাহক হারাচ্ছে বলে দেখা গেছে। বছরের শুরুতে ১৮ লাখ গ্রাহক থাকলেও ডিসেম্বরের শেষে সিটিসেলের গ্রাহক সাড়ে ১৩ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহক সংখ্যায় এখন তারা দেশের সবচেয়ে ছোট অপারেটর।

Related posts

*

*

Top