স্পেকট্রাম ফির পুরোটা মওকুফ চায় টেলিটক

অনন্য ইসলাম, টেক শহর প্রতিবেদক: এক বছর আগে থেকে নামে পরীাক্ষামূলক হলেও আসলে থ্রি জির বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাচ্ছে টেলিটক। সরকারি কোম্পানি হওয়ার পুরো সুযোগ নিয়ে অন্য মোবাইল অপারেটরদের চেয়ে সবার আগে নতুন এ প্রযুক্তি চালু করেছে তারা। অন্যরা যখন সবেমাত্র স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে থ্রি জি চালু করতে শুরু করেছে, তখন টেলিটক ১৮ জেলায় নেটওয়ার্কের কাজ শেষ করেছে। গ্রাহক সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ৫ লাখ।

টেলিটকের গ্রাহক বাড়লেও এ সময়ে আর্থিকভাবে খুব বেশি সফলতা আসেনি। মূলত অর্থ সংকটের কারণে ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার স্পেকট্রাম ফি পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। সরকারের কাছে এ অর্থ মওকুফের আবেদন করেছে তারা। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির সুবিধা চাওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে চিঠি দিয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্ররনালয়কে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছে টেলিটক। একই সঙ্গে চিঠির অনুলিপি দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসিকে।

থ্রি জির নীতিমালা অনুসারে অপারেটরটিকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ সাড়ে ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি এবং ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মহৃল্য হিসেবে আরও ১ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা।

Teletalk_3G_Techshohor

গত ৮ সেপ্টেম্বর নিলামে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মহৃল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ কোটি ডলার। ওই দিন প্রতি ডলারের বিনিময় মহৃল্য ৭৭ দশমিক ৭৫ টাকা ধরে এ হিসাব নির্ধারিত হয়। ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ স্পেকট্রাম মহৃল্যের ৬০ শতাংশ দেওয়ার কথা নিলাম হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে। সেেেত্র ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা স্পেকট্রাম ফি এবং সাড়ে ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি পরিশোধ করার কথা।

এ বিষয়ে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, এ সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ফির অর্থ জমা দেওয়া হবে। তবে বাকি অর্থের বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। টেলিটকের একার পক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
বেসরকারি অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা এমন সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এমনিতেই আগে থেকে থ্রি জি চালুর কারণে বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে টেলিটক। আবার এখন স্পেকট্রামের মূল্য পরিশোধে ছাড় দেওয়া হলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে নারাজ।

সংশিম্লষ্টরা জানান, অর্থ সংকটের কারণে দেনার পরিমান কমাতে ১০ মেগাহার্ডজের পরিবর্তে টেলিটক ৫ মেগাহাডর্জ স্পেকট্রাম নেবে কি না তা নিয়ে মাঝে কিছু দিন আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে মুজিবুর রহমান এই আশংকা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, স্পেকট্রাম কমিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

গত মাসে অনুষ্ঠিত নিলামে গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিলেও বাকি তিন অপারেটর রবি, এয়ারটেল এবং বাংলালিংক নিয়েছে ৫ মেগাহাডর্জ করে।

গত বছর ১৪ অক্টোবর থেকে থ্রি জির ‘পরীক্ষামূলক’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে টেলিটক। এরপর থেকে সব মিলে ১৮ জেলায় সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। এ সময়ে গ্রাহক পেয়েছে সাড়ে ৫ লাখ। অথচ আর্থিকভাবে খুব বেশি সফলতা পায়নি। লাইসেন্স এবং স্পেকট্রাম ফি সংক্রান্ত জটিলতা দূর হলে ‘পরীক্ষামূলক’ শব্দটি দূর করতে পারবে টেলিটক।

২০১২-১৩ অর্থ বছরের শেষে টেলিটকের রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে এর মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ২০১১-১২ সালে অপারেটরটির রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৩৬৭ কোটি। ওই বছর পরিচালন মুনাফা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে অপারেটরটির রাজস্ব আয় এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা করছেন মুজিবুর রহমান।

Related posts

*

*

Top