আইন ভেঙ্গে স্পেকট্রাম এক করার সুযোগ পাচ্ছে ওলো

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিদ্যমান আইনকে পাশ কাটিয়ে দুটি ভিন্ন আইএসপির স্পেকট্রাম একত্রিত করার সুযোগ পাচ্ছে ওয়াইম্যাক্স ব্র্যান্ড ওলো।

টেলিযোগাযোগ আইনে একাধিক কোম্পানির একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে অন্য সব অবকাঠামো বা ব্যবসা একত্রিত হলেও স্পেকট্রাম এক করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি রাশিয়ান কোম্পানি ওলোর পক্ষে মতামত দিয়ে সরকারের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও টেলিযোগাযোগ আইনের ৫৫ ধারার ৪ উপ-ধারায় দুটি কোম্পানির স্পেকট্রাম একত্রিত করা যাবে না বলে বাধ্যবাধকতা দেওয়া আছে।

ollo_techshohor

সম্প্রতি একই ব্র্যান্ড ও মালিকানার আওতাধীন দুটি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন দুই স্পেকট্রাম একত্রিত করতে বিটিআরসির অনুমোদন চেয়েছে ওলো।

ওলো ব্র্যান্ডের স্বস্তাধিকারী রাশিয়ান কোম্পানিটির আওতাধীন দুটি আইএসপির কাছে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যান্ডে ৫৪ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম রয়েছে। বাংলাদেশে এক সঙ্গে এতো স্পেকট্রাম কোনো অপারেটরতো দূরের কথা, সরকারের কোনো বাহিনীর কাছেও নেই। স্পেকট্রাম একত্রিত করার অনুমোদন চূড়ান্ত করা হলে তারা দেশে স্পেকট্রাম মোগল হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত বছর দুটি রাশিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (বিআইইএল) এবং নিজ জেনারেশন গ্রাফিক্স লিমিটেড (এনজিজিএল) নামের স্থানীয় দুটি আইএসপিকে কিনে যৌথভাবে ওলো ব্র্যান্ড নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। পরে বিআইইএল ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স পায়। একই সঙ্গে নামমাত্র মূল্যে ২০ মেগাহার্ডজ মোবাইল স্পেকট্রাম বরাদ্দ পায়।

অন্যদিকে এনজিজিএল সরকারের কাছ থেকে বিনা পয়সায় পায় আটশ ব্যান্ডের মূল্যবান স্পেকট্রাম। আর এ দুটি দুটি আইএসপির হাতে আগে থেকেই ছিল সাত মেগাহার্ডজ করে স্পেকট্রাম।

বিআইইএল এবং এনজিজিএল সম্প্রতি একত্রিত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে।

ওলোর স্পেকট্রাম একত্রিত করার প্রস্তাবে বিটিআরসির সম্মতিকে আইন বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।

বিটিআরসির সাবেক আইন পরামর্শক ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, নিয়ম ভেঙ্গে জনগণের মহামূল্যবান সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করা উচিত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিটিআরসির নিজেই আইন ভাঙ্গা উচিত নয়। আদালতে এর ফয়সালা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিআইইএল এবং এনজিজিএলের কাছ থেকে যৌথ আবেদন পায় বিটিআরসি। তবে এক্ষেত্রে কোম্পানির নতুন নাম কি হবে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

বিটিআরসি এ বিষয়ে একটি কমিশন বৈঠকে আলোচনাও করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিটিআরসির বর্তমান আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লেক্স কাউন্সিলের কাছে মতামতের জন্য পাঠায়।

লেক্স কাউন্সিল নানা ঘুরিয়ে পেচিয়ে ‘জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে’ স্পেকট্রাম একত্রিত করা যেতে পারে বলে মত দেয়। আর সেই অনুসারেই বিটিআরসি তাদের সুপারিশ তৈরি করে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসি এখন আইন সিদ্ধ নয় এমন কিছু করতে চাইলেই লেক্স কাউন্সিলের কাছে মতামত চায় এবং আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে তারা একটা পথও বাতলে দেয়। আর সেটির ভিত্তিতে আইন বিরুদ্ধ কাজের পথ তৈরি হয়।

ওলোর ক্ষেত্রেও তেমন হচ্ছে বলে মনে করেন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা।

এর আগে ডিসেম্বরে বিটিআরসির সুপারিশে সরকার বিআইএলকে ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার স্পেকট্রাম নামমাত্র মূল্য ২৪৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার বিনিময়ে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স দিয়েছে।

অথচ এর মাত্র কয়েক দিন আগে মোবাইল ফোন অপারেটররা এ স্পেকট্রাম প্রতি মেগাহার্ডজ ১৫৫ কোটি টাকায় কিনেছে।

একইভাবে এনজিজিএলকে ২০১১ সালে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে ২০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম। অথচ ওই বছর সরকার চারটি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়নের সময় প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম ১৫০ কোটি টাকা করে বিক্রি করেছে।

Related posts

*

*

Top