বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের খরচ উঠে আসবে ৭ বছরে

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাত্র সাত বছরেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের খরচ ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার পুরোটাই উঠে আসবে বলে হিসেব করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বাংলাদেশের স্বপ্নের এ প্রকল্পের ব্যবসায়িক দিক রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অবহিত করেছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস। এ সময় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, স্যাটেলাইট থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ আসবে বিদেশ থেকে। বাকি মাত্র ৩০ শতাংশ আয় আসবে স্থানীয় পর্যায় থেকে।

Bangabandhu-1 Satellite-TechShohor

তবে এ পরিকল্পনায় সন্তুষ্ঠু হতে পারেননি অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন, বিটিআরসি বিদেশি আয় হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর চাহিদার কথা বললেও ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ আরও অনেক দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। সেক্ষেত্রে এসব দেশের বাজারে প্রবেশ বিটিআরসির জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন তারা।

একইভাবে স্থানীয় আয়ের মধ্যে ২৪টি স্যাটেলাইট টিভি থেকে বছরে আসবে অন্তত দেড় কোটি ডলার। এ পরিমান অর্থ প্রতি বছর হংকং ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। নিজেদের স্যাটেলাইট চালু হলে এসব চ্যানেলের তখন বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে হবে না। ফলে আয় উঠে আসতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করে বিটিআরসি।

তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থ মন্ত্রনালয় বলছে, বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে কি নিজেদের স্যাটেলাইট থেকে সংযোগ নিতে বাধ্য করা যাবে? বিটিআরসি বলছে, দুই বছরের মধ্যে সকল টেলিভিশন এখানে চলে আসবে। তাহলে টাকা তুলতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।

এ দিকে সব মিলে ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়েরে সংশোধিত ডিপিপি তৈরি করে বিটিআরসি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা নিজেদের তহবিল থেকে এবং বাকি ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নেওয়া হবে।

এ দিকে প্রকল্পের অর্থ যোগাতে আগ্রহ দেখিয়েছে ছয়টি বিদেশি ব্যাংক এবং অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান। সবার আগে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক। গত বছরের শুরুতে তারা এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায়।

এ ছাড়া এইচএসবিসি ফ্রান্স, জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল, সিডব্লিউজি গালফ ইন্টারন্যাশনাল অব ইউকে এবং চায়ন গ্রেটওয়াল ইন্ড্রাস্ট্রি করপোরেশন এ প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবুবকর সিদ্দিক বলেন, এসব প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। এখন তারা প্রস্তাবগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে ২০১১ সালে একনেক বৈঠকে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। তখন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল জুন ২০১৫। কিন্তু সংশোধিত ডিপিপিতে এ মেয়াদ জুন ২০১৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এর মধ্যে রাশিয়ার স্পুটনিকের সঙ্গে অরবিটাল স্লটের জন্যে চুক্তি করেছে বিটিআরসি। নন বাইন্ডিং অ্যাগ্রিমেন্টের এ চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে খরচ হয়েছে দুই মিলিয়ন ডলার। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ২৮ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের প্রথম অরবিটাল স্লট ১০২ ডিগ্রি পূর্বের ওপর যেহেতু অন্তত ২০টি আপত্তি পড়েছে, সে কারণে স্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯ ডিগ্রি পূর্ব ১৫ বছরের জন্য কিনে নিচ্ছে বিটিআরসি। প্রয়োজনে পরে আরও ১৫ বছরের জন্যে কেনার সুযোগও রাখা হচ্ছে চুক্তিতে।

বাংলাদেশ অপর দুটি অরবিটাল স্লটের জন্যে আবেদন করেছে। সে দুটি হলো ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৩৫ ডিগ্রি পূর্ব। প্রথমটি বাংলাদেশের জন্যে অনেক কাজের হলেও দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে হয়ে যাবে। তারপরও চেষ্টা করছে বিটিআরসি। এর মধ্যে এ দুটি অরবিটাল স্লটের বিষয়েও বেশ কিছু আপত্তি পড়েছে।

Related posts

*

*

Top