দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আরেক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। এ জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তিও করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সঙ্গে যুক্ত হতে সি-মি-ইউ-৫ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এক্ সময়ে আরও ১৪টি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বিএসসিসিএল।

Fibre-Optic-Cable_Tech Shohor

বিএসিসিএলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক।

চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। সাবমেরিন ক্যাবলের নতুন এ কনসোর্টিয়ামকে বিশ্বের বৃহৎ এবং সর্বাধুনিক বলে দাবি করে তারা বলেছেন, এতে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপিত হবে।

এর আগে সরকার ২০০০ সালে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০০৬ সালের মে মাসে সি-মি-ইউ-৪ এর সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে নব্বই দশকের শুরুর দিকে একবার সি-মি-ইউ-৩ নিখরচায় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিলেও তখনকার সরকার তাতে রাজি হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির পরপর এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে এবং ২০১৬ সালের মধ্যে বিএসসিসিএল সিম-উই-৫-এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার আগে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, এর আগে ২০১১ সালের তারা প্রাথমিক চুক্তি করেছেন। এখন পরবর্তী কাজ শুরুর আগে চূড়ান্ত চুক্তি করা হচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এ সংযোগ পেতে সব মিলে খরচ করতে হবে ৭ কোটি ডলার বা ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাবে ৪ কোটি ডলার। বাকি টাকা কোম্পানির তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিএসসিসিএলের হাতে ১৩০ কোটি টাকা রয়েছে। এ জন্য আরও প্রায় একশ কোটি টাকা জোগার করতে হবে। ব্যন্ডইউথ রপ্তানি থেকেও একটি বড় অংশের আয় আসতে পারে।

সম্প্রতি নিজেদের ব্যবহারের বাইরে থাকা ব্যান্ডউইথের অর্ধেকটা রপ্তানির বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের পূর্বদিকের সাতটি রাজ্যসহ আরও তিনটি দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির আলোচনা চলছে। আর এর মাধ্যমে বছরে অন্তত ৬০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, ভারতের পাশাপাশি বর্তমানে মালয়েশিয়া, ইতালি এবং সিঙ্গাপুর ব্যান্ডউইথ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অল্পদিনের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রফতানি শুরু হলে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের খরচের অনেকটাই যোগান দেওয়া সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন মনোয়ার হোসেন।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের হাতে ২০০ গিগাবাইট ক্ষমতার ব্যন্ডইউথ রয়েছে। আর এর মধ্যে ৩২ গিগাবাইট ব্যান্ডইউথ ব্যবহৃত হচ্ছে। যা মোট ক্ষমতার মাত্র ১৬ শতাংশ। বাকি ৮৪ শতাংশ এখনও অব্যবহৃত। তবে ২০১৬ সালের মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হলে তখন এ ক্ষমতা অনেক বাড়বে।

সরকারের হিসাবে ২০২১ সাল নাগাদ ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২২০ জিবিপিএস। তখন ৫০ গিগাবাইটের মতো ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

Related posts

*

*

Top