ভারতের কাছে মার খাচ্ছে দেশি ব্যান্ডউইথ

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ছয়টি টেরিস্টোরিয়াল লিংকের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। মূলত প্রতিবেশি দেশটি থেকে সস্তায় ব্যান্ডউইথ আমদানির কারণেই বিএসসিসিএলের ব্যন্ডউইথের চাহিদা কমছে বলে জানা গেছে।

মাত্র চার মাস আগেও বিএসসিসিএলের ৪২ গিগাবাইটের বেশি ব্যন্ডউইথ ব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারির শেষে তা ৩০ গিগাবাইটে নেমে এসেছে। সব মিলে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে স্থানীয় ব্যন্ডইউথের চাহিদা ২৬ শতাংশ কমে গেছে।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের প্রতি মেগাবাইট ব্যন্ডউইথ ব্যবহারের জন্য ৪ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হয়। আর ভারতীয় ব্যান্ডউইথ সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুই হাজার টাকায়।

Fibre-Optic-Cable_Tech Shohor

সরকারি এ ব্যন্ডউইথ কোম্পানি ছাড়া ছয়টি আন্তর্জাতিক টেরিস্টোরিয়াল কেবললিংক (আইটিসি) কোম্পানি আছে যারা মূলত ভারতের কয়েকটি কোম্পানি থেকে ব্যন্ডউইথ আনে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৩০ গিগাবাইট ব্যন্ডউইথ আসে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, আইটিসিগুলো ব্যন্ডউইথের বাজার নষ্ট করে ফেলছে।

তবে ফাইবার অ্যাট হোট হোমের চিফ স্ট্যাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, আইটিসিগুলো আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করলেও গুনগতমান বজায় রেখে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।

এর আগে গত বছর জুনে দেশীয় ব্যন্ডউইথের ব্যবহার হয়েছিল ৩৮ দশমিক ২৯ গিগাবাইট। আর ২০১২ সালের জুন মাসে ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩৫ গিগাবাইট।

২০১২ সালের ডিসেম্বররে ব্যন্ডউইথ ব্যবহার হয়েছিল ২৩ দশমিক ২৫ গিগাবাইট। আর এর আগের বছরের ডিসেম্বরে ব্যবহার হয়েছিল ১৫ দশমিক ৩৫ গিগাবাইট।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের হাতে ২০০ গিগাবাইট ক্ষমতার ব্যন্ডইউথ রয়েছে। আর এর মধ্যে ৩২ গিগাবাইট ব্যান্ডইউথ ব্যবহৃত হচ্ছে। যা মোট ক্ষমতার মাত্র ১৬ শতাংশ। বাকি ৮৪ শতাংশ এখনও অব্যবহৃত।

২০১৬ সালের মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হলে তখন এই ক্ষমতা অনেক বাড়বে।

সরকার আশা করছে ২০২১ সাল নাগাদ ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২২০ জিবিপিএস। তাই ৫০ গিগাবাইটের মত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

Related posts

*

*

Top