অবশেষে আইন মানতে শুরু করেছে বিটিআরসি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আর্থিক বিষয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এতদিন তা মানেনি বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনটি অপারেটরদের জন্য নীতি নির্ধারণ করলেও নিজেরাই আইনকে পাশ কাটিয়ে চলছিল। মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে না জানিয়ে অপারেটরদের সব ফাইল নিজেরাই অনুমোদন দিয়েছে।

তবে দেরিতে হলেও টনক নড়েছে কমিশনের। বিটিআরসি আইন মানছে না, গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সম্প্রতি আইন মানতে শুরু করেছে কমিশন।

তবে এতে কাজের ক্ষেত্রে খানিকটা ধীর গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন বিটিআরসির নীতি নির্ধারক পর্যায়েরর কর্মকর্তারা।

btrc, techshohor

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অপারেটরদের সব প্যাকেজ অনুমোদনের ক্ষমতা ছিল বিটিআরসির হাতে। কিন্তু ২০১০ সালে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনের সময় মন্ত্রনালয় এ ক্ষমতা নিয়ে নেয়। তখন মন্ত্রনালয়ের সচিব ছিলেন বিটিআরসির বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।

সে সময় গণমাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হলেও সুনীল কান্তি সব সময় সরকারের হাতে এ ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছিলন। তার মতে, ‘সরকার মানে মন্ত্রনালয়। সরকার মানে বিটিআরসি নয়।’

কিন্তু ঘটনাক্রমে ২০১২ সালে বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান সুনীল কান্তি। তবে দায়িত্ব নিয়ে সচিব হিসাবে নেওয়া সিদ্ধান্তকে ভাঙ্গতে শুরু করেন। সরকারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই সকল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। পরে মন্ত্রণালয়ের ভূতপূর্ব অনুমোদন নেওয়া হয়।

এমনকি থ্রিজি প্যাকেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বর্তমান চেয়ারম্যান মন্ত্রনালয়ে না পাঠিয়ে নিজেই অনুমোদন দিয়ে দেন।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সম্প্রতি সকল ফাইল মন্ত্রনালয়ে পাঠাতে শুরু করেছেন তিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে চারটি বেসরকারি অপারেটর থ্রিজি সেবা দিতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপারেটরের প্যাকেজ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেনি।

ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অপারেটর টেলিটক ছাড়া কারও প্যাকেজ সরকারি অনুমোদন পায়নি।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে কমিশনেও আলোচনা হয়। পরে সেটি ভূতপূর্ব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে।

Related posts

*

*

Top