Maintance

‘ইচ্ছা করলেই জিপির কর্মী ছাঁটাই মানা হবে না’

প্রকাশঃ ৯:১০ পূর্বাহ্ন, মার্চ ১১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১৪ পূর্বাহ্ন, মার্চ ১২, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইচ্ছা করলেই গ্রামীণফোন কর্মী ছাঁটাই করবে এটা মেনে নেয়া যায় না বলে বলেছেন সাংসদ ইসরাফিল আলম।

গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন বা জিপিইইউ (প্রস্তাবিত)-এর সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে কর্মী ছাঁটায়ের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতীতের চেনা পথের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এই সাংসদ।

শুক্রবার দিনব্যাপী রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশের পর অনেক চড়াই-উতড়াই পেরিয়ে সংগঠনটির প্রথম সম্মেলন এটি।

কর্মীদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতে সম্মেলনস্থল ছিল পরিপূর্ণ। সারাদেশ হতেই ইউনিয়ন কর্মীরা এ সম্মেলনে যোগ দেন। ইউনিয়নটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮০০। টেলিকম খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় শ্রমিক অধিকার সংগঠনও এটি।

gpeu4

অপারেটরটির অতীতের কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ইসরাফিল আলম বলেন, ‘চাকরিচ্যূতের বিষয়ে বলা হয় দক্ষতা নেই। কিন্তু আমি বলেছিলাম ওরা যখন চাকরিতে যোগ দেয় তখন তো যোগ্য ছিল, অবিডেন্ট ছিল। এখন যদি অযোগ্য হয়ে থাকে- এটা তোমাদের সমস্যা। তোমারা যোগ্য কর্মীকে অযোগ্য করছো। তখন তারা ভুল বুঝেছে। এখন যদি আবার তারা ওমন করে আপনাদের তো পথ চেনাই আছে।’

‘জীবনের সোনালী সময়গুলোতে দিয়েছেন কোম্পানির উন্নয়নের জন্য, তাদের বৃদ্ধির জন্য। যে কারণে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলো লাভ করে, প্রফিট করে।’

টেলিটক লস করে কিন্তু তাদের চাকরির সমস্যা হয় না, সুযোগ-সুবিধা কাটা হয় না উল্লেখ করে এই সাংসদ বলেন, ‘টেলিটক কিন্তু সে অবস্থাতে যেতে পারেনি তার কারণ আপনারা যেভাবে পরিশ্রম করে, শ্রম দেন, অন্তর দিয়ে, মন দিয়ে কাজ করেন ওই জায়গায় সেটা হয়নি। তারপর সেটা লস প্রজেক্ট। তাহলে তাদের যদি চাকরির সমস্যা না হয়, সুযোগ-সুবিধা যদি না কাটা হয় তাহলে আপনাদের কোম্পানি তো লাভ করে। তাই ইচ্ছা করলেও কোম্পানি আপনাদের বের করে দেবে এটা মেনে নেয়া যাবে না। গ্রামীণফোন ইউরোপীয়ান কান্ট্রির দ্বারা পরিচালিত হয়, তাই আপনারা নিজেদের কখনও দূর্বল মনে করবেন না।’

gpeu3

ইউনিয়ন কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংসদ বলেন, ‘প্রটেকশন আমাদের লেবার ল’তে খুব সুন্দরভাবে দেয়া আছে। এই যে আপনাদের বলা হয়েছে নেটওয়ার্ক এবং টেকনোলজি সেক্টরটাকে আলাদা করে কোম্পানি করা হবে। তারপর সার্ভিস সেক্টরকে আলাদা করে কোম্পানি করা হবে। কোম্পানি আইন অনুয়ায়ী যদি এভাবে সেক্টর আলাদা করা হয় তাহলে কোম্পানির এমডিও চেইঞ্জ হয়ে যাবে, সিইও চেইঞ্জ হয়ে যাবে, আলাদা পরিচয় হবে। সেখানে আপনাদের অধিকার ঠিক থাকলেও গ্রামীণফোন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাদের কর্তৃত্ব, প্রশাসন এসব নিয়ে মারাত্বক বিভ্রান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি হবে।’

‘আপনাদের ইউনিয়ন যেটা আছে সেটা হবেই, পেন্ডিং আছে, সেটা হবে। আপনারা যেহেতু আবেদন করেছেন এবং বিষয়গুলো বিচারাধীন আছে। অতএব বিবেচনা করতে হবে যে, আপনারা ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত। ট্রেড ইউনিউয়নের অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইউনিয়নের মর্যাদা পাবে এবং কমিটির কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। আপনারা ইউনিয়নের নামের পাশে বিচারাধীন লিখে পরিপূর্ণ কার্যক্রম চালাতে পারেন, আপনাদের কোনো বাধা নেই।’

gpeu5

ইসরাফিল আলম জানান, ‘গ্রামীণফোন এবারেও লাভ করেছে। গ্রামীণফোন লভ্যাংশের টাকা দিত না। আমি কিন্তু নোটিশ করেছিলাম। ডিভিডেন্ট দিয়েছে এত টাকা। আমার একটু অসন্তুষ্টি ছিল আপনাদের বিষয় নিয়ে, চাকরিচ্যুত করা শুরু করেছে। তখন হতে আমি গ্রামীণফোনকে ডিসলাইক করি।’

সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, জিপিইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ, সুব্রত দাস খোকনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, আউটসোর্সিংয়ের কারণে দেশের মানুষ কর্মস্থানের সুযোগ হারাচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিংয়ের কাজ অন্য বহুজাতিক কোম্পানিকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশের অর্থ বাইরে পাচার হচ্ছে।

তারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেশের কর্মী-জনবল দিয়ে করানোর কথা বলেন।

সম্মেলনে অনেকের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মো. ওমর ফারুক। সম্মেলন পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন আতিকুজ্জামান মির্জা ও মাজহারুল ইসলাম ।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*