Maintance

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ৯:১৬ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৬ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এগারো বছরের অপেক্ষায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হল বাংলাদেশ। যদিও এখনও পুরোপুরি যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়নি। কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত এসেছে সংযোগ। এই ক্যাবল দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ আসতে সময় লাগবে আরও কয়েক সপ্তাহ।

মার্চের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিকভাবে উদ্বোধন হতে পারে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল-জানিয়েছেন ক্যাবলটির প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হবে এটি। এর জন্য সময়ও চাওয়া হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে সিম-মি-উই-৫ ক্যাবলটির ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয় বলে জানান পারভেজ মনন।

বাংলাদেশ প্রথম ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে।

SC-2

ভারতের সাবমেরিন ক্যাবলের সংখ্যা ১৯টি। পাকিস্তানে তা আটটি। আর শ্রীলংকাও আছে সাতটি ক্যাবলের সংযোগে। সেখানে দ্বিতীয় ক্যাবলের সংযোগ পেল বাংলাদেশ। তাও আংশিক।

শুরুতে বলা হচ্ছিল এ ক্যাবল থেকে দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, প্রথমে পাওয়া যাবে ২০০ জিবিপিএস। পরে তা আস্তে আস্তে বেড়ে দেড় হাজার জিবিপিএস হবে।

এদিকে কুয়াকাটার সঙ্গে ঢাকার লিংক তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। কুয়াকাটা-ঢাকা লিংক তৈরি হওয়ার পর এ ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরু করতে পারবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

এক বছর আগে দরপত্র আহবান করে একটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। পরে অন্য আরেকটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ায় অনেক জটিলতা হয়েছে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে লিংক তৈরিতে আরও কিছু দিন লাগবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ।

২০১৪ সালের মার্চে বিএসসিসিএল সিম-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তি করে। এ ক্যাবলের সঙ্গে বিএসসিসিএল ছাড়াও আরও ১৭টি সহযোগী কোম্পানি সংশ্লিষ্ট রয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর সিম-মি-উই-৫ কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষের ঘোষণা দেয়। এ সময়ে বাংলাদেশ কুয়াকাটা অংশে ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করে।

SCable-2

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজার। এদিকে সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে চালু সিম-মি-উই-৪ ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ২০০ জিবিপিএস।

আর মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে ১৭৬ জিবিপিএস। এর মধ্যে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি ও নতুন ব্রান্ডউইথ যুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল। ভারত থেকে বাংলাদেশ এখন যে পরিমান ব্যান্ডউইথ আমদানি করে তার অনেকটাই তখন আর আমদানি হবে না।

দেশে এখন মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএস। যার মধ্যে ২৮০ জিবিপিএস-ই আসে ভারতের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল থেকে।
দেশের ভেতরেও ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি ।

কর্মকর্তারা জানান, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুণগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিএসসিসিএল সূত্র।

জামান আশরাফ

*

*

Related posts/