রবির লাভ বেড়েছে চারগুণ

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও গত বছর লাভের পরিমাণ অন্তত চারগুণ বাড়াতে পেরেছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি।

২০১৩ সালে সব মিলে ৩৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে অপারেটরটি। তবে বছরের শেষ ভাগে রাজস্ব কম হয়েছে। ২০১২ সালে নিট মুনাফা হয়েছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে  এক সংবাদ সম্মেলনে রবির আয় ও মুনাফার চিত্র তুলে ধরেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।

robi_techshohor

কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহক মার্কেট শেয়ার এবং নতুন গ্রাহক যোগের ক্ষেত্রে বছর জুড়েই ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে অপারেটরটির।

কর্মকর্তারা বলেছেন, গত বছর যথেষ্ট ভালো করেছে অপারেটরটি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ না হলে আয়ের চিত্র আরও ভালো হতো।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মুনাফার দিক দিয়ে রবি চমক দিযেছে। এমনকি দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনকেও ছাড়িয়ে যেছে রবি।

শীর্ষ ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের মুনাফা গত বছর কমে গিয়েছিল। আগের বছরের চেয়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছিল ৩২০ কোটি টাকা।  গত সপ্তাহে মুনাফা কমার কারণ হিসাবে সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৩ সালে তাদের মুনাফা আগের বছরের ১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৪৭০ কোটিতে নেমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বছর শেষে রবির হিসাবে জমা হয়েছে ৪ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। আয়ের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ।

তবে গত বছর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেখানে ঠিক আগের প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বেশি।

কর্মকর্তারা বলেন, শেষ হওয়া বছরটিতে ভয়েস এবং ডেটা উভয় খাতেই আগের চেয়ে বেশি আয় হয়েছে।

বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর শেষে রবির গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ। তবে অপারেটরটির সার্বিক আয় বৃদ্ধি পেলেও গ্রাহক প্রতি আয় মাসে ১৬৯ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৬১ টাকায়। আর গ্রাহকরা ২০১২ সালে প্রতিটি সংযোগের বিপরীতে মাসে যেখানে ১৬৩ মিনিট কথা বলতেন সেখানে এটি নেমে এসেছে ১৫৫ মিনিটে।

সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুন:বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় ২০০৬ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দেওয়া যায়নি। গত বছর অপারেটরটি ১ হাজার ১১ কোটি টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা সুপুন বীরাসিংহে বলেন, ‘রবি গত দুই বছরে দারুন উন্নতি করেছে। উচ্চ হারে কর দিতে না হলে এ টাকা পুনরায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রয়াসকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারতাম।’

Related posts

*

*

Top