লাভের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে গ্রামীণফোন

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন বছর শেষে মুনাফার চেয়েও অনেক বেশি নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে।

মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত একমাত্র কোম্পানি গ্রামীণফোন ২০১৩ সালেও লভ্যাংশ প্রদানে এ প্রবণতা বজায় রেখেছে।

grameenphone_techshohor

গত বছর কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। অথচ ওই বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ মোট ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

২০১৩ সালে গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি আয় যেখানে ১০ টাকা ৮৯ পয়সা, সেখানে ১৩৫ কোটি ৩ লাখ শেয়ারের বিপরীতে ১৪ টাকা করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতো বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনী বাঁধা নেই। কিন্তু খুব বেশি দিন হয়তো একটি কোম্পানির পক্ষে এটি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

প্রতিবছর এভাবে লাভের চেয়েও বেশি টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির পুরনো কিছু পুঞ্জিভূত টাকা থেকে খরচ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাইনুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব একটি নীতিমালা আছে, সে অনুসারেই তারা লভ্যাংশ দিচ্ছেন।

এখানে নিয়মের কোনো ব্যতয় হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

গ্রামীণফোনের ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে পুঁজিবাজারে। ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ আছে মূল কোম্পানি টেলিনরের হাতে। আর ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ গ্রামীণ টেলিকমের হাতে।

শেয়ার সংখ্যার হিসাবে ২০১৩ সালের মুনাফা থেকে অন্তত ৮২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা নগদ নিয়ে যেতে পারছে টেলিনর। আর এই টাকার পুরোটাই লভ্যাংশ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় দেশে নিয়ে যেতে কোনো বাঁধা নেই।

এর আগের বছরগুলোতেও তারা একইভাবে লাভের চেয়ে অনেক বেশি ডিভিডেন্ট দিয়েছে। ২০১২ সালে মোট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সেবারও লভ্যাংশ দিয়েছিল ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।

২০১১ সালে গ্রামীণফোন লাভ করে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। অথচ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০৫ শতাংশ হারে। তাতে অপারেটরটিকে শেয়ারধারীদের নগদ দিতে হয় ২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। সেবার টেলিনর পায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এর আগের বছরও তারা লাভ করে ১ হাজার ৭১ কোটি টাকা। কিন্তু ১২০ শতাংশ হারে মোট ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করে।

Related posts

*

*

Top