৩ বছরের টেলিকম রোডম্যাপ : তৈরির আগেই ১ বছর পার

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেলিযোগাযোগ খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে তিন বছর মেয়াদী রোডম্যাপ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিলেও কাজ শুরু করতে এক বছর পার করে ফেলেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

গত বছরের ১৯ মার্চ ২০১৩-১৫ মেয়াদে একটি টেলিযোগাযোগ রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। কমিশন এ বিষয়ে গঠিত কমিটিকে ছয় সপ্তাহ সময় বেধে দেয়।

ওই কমিটি দেড় মাসের বদলে ইতিমধ্যে এগারো মাস পার করেছে। এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি।

3G btrc_techshohor

অবশেষে সম্প্রতি কমিটি এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল বিভাগের কাছ থেকে রোডম্যাপে অর্ন্তভূক্তির জন্য কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে।

গত শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস অবশ্য বলেছেন, রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যাবে।

তবে সংশ্লিষ্ট খাত থেকে দশ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ করার দাবি জানানো হলেও বিটিআরসি তা বিবেচনা করেনি। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য রোডম্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিলেও তা এক বছর ধরে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

রোডম্যাপ তৈরির জন্য গঠিত ওই কমিটির প্রধান বিটিআরসির স্পেকট্রাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কমিশনার এ টি এম মনিরুল আলম অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোডম্যাপে লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা থাকবে। এতে টেলিকম খাতের অস্থিরতা অনেকাংশে কমবে।

নতুনটি প্রণয়ন করা হলে এটি হবে বিটিআরসির দ্বিতীয় রোডম্যাপ। এর আগে ২০০৮ সালে এক বছর মেয়াদী রোডম্যাপ করা হয়েছিল। সেটিতে ২০টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা ছিল। তার অনেকগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

কমিশনের অনেকের মতে, আগের রোডম্যাপটি তৈরি হয়েছিল মেজর জেনারেল (অব.) মঞ্জুরুল আলম চেয়ারম্যান থাকার সময়। এ কারণে কয়েকবার আলোচনা হলেও পরের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেননি।

রোডম্যাপ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে বর্তমান কমিশন। তাই একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। আর স্পেকট্রাম এবং নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা আরও জরুরি।

তার বিবেচনায় এ রোডম্যাপ টেলিকম খাতকে আরও বিকশিত করতে সাহায্য করবে।

নুতন রোডমাপের বিষয়ে মোবাইল অপারেটররাও বেশ উচ্ছ্বসিত। এ বিষয়ে অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, দশ বছরের একটি রোডম্যাপ পাওয়া গেলে বোঝা যেত খাতটিকে সরকার কোন দিকে নিয়ে যেতে চায়। আর সেভাবেই আমাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা যেত।

গত বছর মনিরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত রোডম্যাপ কমিটির অনেক সদস্য ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন অথবা বদলি হয়েছেন। আরও এক থেকে দু’জন বদলির অপেক্ষায় আছেন।

সূত্র জানিয়েছে, এ কারণে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি ল্যান্ডফোন কোম্পানি বিটিসিএলের প্রতিনিধিদেরকেও কমিটিতে নেওয়া হতে পারে।

Related posts

*

*

Top