মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিটিআরসির নতুন নীতিমালার উদ্যোগ

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার জন্য স্বতন্ত্র একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইতোমধ্যে তারা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। তবে ব্যাকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক সে সময় আপত্তি জানায়।

ব্যাংকির নীতিমালা গ্রহণের একক ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের হলেও তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সে সময় এমন নির্দেশনা জারি করায় বিটিআরসিকে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়েছিল।

mobile banking_techshohor

গণমাধ্যমে সমালোচনার এক দিন পরে সেখান থেকে সরেও আসে বিটিআরসি। আর এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনারভিত্তিতে যৌথভাবে নতুন করে নীতিমালা করতে চাইছে টেলিযোগাযোগ খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটিআরসি বলছে, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক এবং সিম ব্যবহার করা হয়। তাই এ বিষয়ে তাদের মতামত থাকতে হবে।

তা ছাড়া সম্প্রতি একটি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিটিআরসি বিষয়টিতে আরও মনোযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল অপারেটর এবং ব্যাংকগুলোকে সব কিছুর আগে গ্রাহক সেবার দিকে নজর দিতে হবে। গ্রাহকের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

এ বিষয়টিকে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানয়েছেন বিটিআরসির সিস্টেম সার্ভিস বিভাগের এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি বৈঠকও করেছে বিটিআরসি।

সূত্র জানয়, নির্দেশনায় কমিশনের হার এবং এ সংক্রান্ত নানা শর্ত উল্লেখ থাকবে। তবে কমিশনের অংশ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে বাতিল হওয়ায় নির্দেশনায় বিটিআরসি সর্বোচ্চ দুই শতাংশ কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। তবে বাজারে বর্তমানে ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমিশনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা আছে, এক দিনে একজন ২৫ হাজার টাকার বেশি মোবাইল ফোনে লেনদেন করতে পারবেন না। কিন্তু বিটিআরসির বাতিল হওয়া নির্দেশনায় লাখ টাকার ওপরেও লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

mobile_banking_techshohor

ওই র্নিদেশনায় বলা ছিল, মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ আউট, ব্যক্তি টু ব্যক্তি (পি২পি) লেনদন এবং যে কোনো ধরণের বিল প্রদান হলে কেবল চার্জ আরোপ করা যাবে।

বিটিআরসি বলছে, মোবাইল ফোন অপারেটররা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন রকম চার্জ আরোপ করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জও নেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চান তারা।

ডিসেম্বরের শেষে দেশে ১ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ খাতে এক বছরে প্রবৃদ্ধি ২৬২ শতাংশ। আর লেনদেন বৃদ্ধির প্রবৃদ্ধি ১৮১ শতাংশ।

এক বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাত্র সাড়ে ৫৯ হাজার এজেন্ট থাকলেও ২০১৩ সালের শেষে তা এক লাখ ৮৮ হাজারে পৌঁছেছে।

Related posts

*

*

Top